
প্রতিবেদক, চরচা

ত বৃহস্পতিবার রাতে ইসি সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে জানায়, আগে ঘোষিত হিসাবের তুলনায় মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি। কমেছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—দুই পক্ষের ভোটসংখ্যাও; বেড়েছে বাতিল ভোট।

সরেজমিনে দেখা যায়, মূলত মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতাদের রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করতে গিয়ে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের। সমঝোতা নয়; বরং টাকা না পেলে রাস্তায় ঘুরবেনা গাড়ির চাকা–এমন অঘোষিত নিয়মের জালেই বন্দী থাকে পরিবহন খাত।

নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ হলেও পরবর্তী সময়ে সহিংসতা বেড়েছে। প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ছিল, তবে সহিংসতা উদ্বেগজনক—যদিও অতীতের তুলনায় কম। তারা সার্বিকভাবে একে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে (২৯৯ আসনে) মোট ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৫২২ জন ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে ছয় কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ৭৭ জন পুরুষ, ৬ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার ২৩২ জন নারী এবং এক হাজার ২১৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ৩০০ আসনে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯।

শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি। একই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও। প্রশ্ন উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্

ঢাকা মহানগরের থানাভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, ঢাকার ৫৩টি থানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়েছে মিরপুর থানায়-এক হাজার ৬২৭ জন। ডেমরা থানায় এক হাজার ৪৪৪, পল্লবীতে এক হাজার ২৩৫ এবং কেরানীগঞ্জ থানায় এক হাজার ২০৭ জন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।

অনিয়ম ও কারচুপি-চেষ্টার ঘটনায় বিএনপি ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হচ্ছে বলে দাবি দলটির। আর জামায়াত বলেছে, প্রবাসী জামায়াত নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

ছয়টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উঠেছিল। ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও দাখিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী ২৪ জনই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

যে পোস্টাল ব্যালট ভোটরে জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি প্রথম থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ায় নানা আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

নাগরিক ঐক্যের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পক্ষে থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ঢাকার যে কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। মান্না বগুড়া থেকেই ভোট করার ইচ্ছা জানান।

লাঙ্গলের প্রতিনিধিদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ উচ্চ আদালতের একটি রুল। জুলাই অভ্যুত্থানে পতনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার আয়োজিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার খেসারত হিসেবে এখন জাপার পদে পদে বিপত্তি।

প্রার্থীর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি হওয়া নিয়ে অনেক সময়ই প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্নটির উত্তরও হয়তো সহজ। স্ত্রীর সম্পদ বেশি দেখিয়ে আদতে প্রার্থী নিজের সম্পদের পরিমাণ গোপন করতে চান। সম্পদ গোপনের মধ্য দিয়ে হয়তো প্রার্থী নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতাগুলো এড়িয়ে যেতে চান। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিষয়টি কতটুকু নৈতিক

ইসলামী আন্দোলনকে যেসব আসনে ছাড় দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে জামায়াতের প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ ঘটনার পর ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম প্রকাশ্যে ও সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সমঝোতা ভেঙে যায়নি বলে বার্তা দেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৮টি বিভাগের জন্য আঞ্চলিক ভাষায় মিউজিক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। হাটে মাঠে ঘাটে তা প্রচার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চমৎকার অডিও-ভিজ্যুয়াল।

কাউকে হতাশ করতে চায় না জানিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, জয়ের বিষয় মাথায় রেখেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, “৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করবে।”

গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ক্রমশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এ অবস্থায় খোদ নির্বাচন নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আশা করছেন, ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা কেটে যাবে।

কোনটি তথ্য, কোনটি অপতথ্য, তার কোনো বাছবিচার কেউ করছে না। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ঠিক এ উৎকণ্ঠাই প্রকাশ করা হয়েছিল প্রশাসন থেকে। নির্বাচনের সময়ে এ অপতথ্যের বাড়বাড়ন্ত ঠেকানোর কী প্রস্তুতি নির্বাচনের কমিশনের আছে–সে প্রশ্ন এরই মধ্যে উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়নে গণভোট একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। দুই ভোট আয়োজনে ঘোষিত তফসিলে ভোটে দেশবাসীকে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে বার বার সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ছেলে তারেকের ফেরার প্রসঙ্গ ফের আলোচনায় ওঠে। ফেসবুকে তারেক রহমান বলেন, তার দেশে ফেরার বিষয়টি “একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।”

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), রাষ্ট্র সংষ্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশের উদ্যোগে আগামীকাল বিকেল নাগাদ জোটটি আত্মপ্রকাশ করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গড়ে ওঠা ও এর পরবর্তী পর্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিভিন্ন এজেন্ডায় এ দলগুলোর মধ্যে নৈকট্য ছিল ও আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে সংবিধান সংশোধনে গণভোট আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন আয়োজনের কর্মপরিকল্পনার বেশির ভাগই সম্পন্ন, অপেক্ষা তফসিল ঘোষণার। গণভোট আয়োজনে একটি আইন প্রণয়নের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি।

প্রায় তিন দশক ধরেই ভোটের মাঠে সুবিধা করতে পারছে না বামপন্থী দলগুলো। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাম দলগুলো পৃথক ভাবে অংশ নিলেও কেউ ১ শতাংশ ভোট নিজেদের বাক্সে তুলতে পারেনি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫০ লাখ ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ইসি। এ পদ্ধতির চ্যালেঞ্জ নিয়েও ভাবনা রয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটির।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার চরচাকে বলেন, “পোস্টার ব্যানার এগুলো যেগুলো আছে এগুলো আচরণ পরিপন্থি। দলগুলোকে আহ্বান জানাব দয়া করে এগুলো তফসিল ঘোষণার আগে আপনারা নিজ দায়িত্বে সরায়ে নিবেন। তফসিল ঘোষণার পর এগুলো থাকলে আচরণ বিধি ভঙ্গের কারণে যে সাজা-শাস্তি তাই প্রয়োগ হবে।”

একই ব্যক্তি একাধিক জায়গায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হলে আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের একাধিক শীর্ষ নেতা চরচাকে জানান, গণতন্ত্র মঞ্চ এবং সিপিপির সঙ্গ তাদের আসন সমঝোতা চলছে। বিশেষত গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আসনের তালিকাও চেয়েছে বিএনপি।

ইসি বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করায় সশস্ত্র বাহিনীকে আর আলাদাভাবে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অতীতের মতো এবারও নির্বাচনে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা হবে।

কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে যেসব বিষয় সাংবিধানিক নয়, সেগুলো অধ্যাদেশ বা অফিস আদেশের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাই সরকার যেন এই বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে, সে অনুরোধ করা হয়েছে।

ভোটের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ না পেলে নিবন্ধন এবং আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনসিপি। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন ও কয়েকটি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে রাজপথে নামার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।

এনসিপির অবস্থান স্পষ্ট যে তারা ‘শাপলা’কে দলীয় প্রতীক হিসেবেই দেখতে চায়। প্রতীক ইস্যুতে এনসিপির অবস্থান নিয়ে দলটির নেতারা বলছেন, তারা আন্দোলনের পথেই হাঁটবেন।