Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ঐকমত্য কমিশনের বিতর্ক সংসদ হয়ে রাজপথে, সমাধান আছে?

তাসীন মল্লিক

তাসীন মল্লিক

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ২৭
ঐকমত্য কমিশনের বিতর্ক সংসদ হয়ে রাজপথে, সমাধান আছে?

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন জাতীয় সংসদে এক জটিল ও বহুস্তরীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। ঠিক ছয় মাস আগে সনদটি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও ছিল একই চিত্র। সনদের আইনি বৈধতা এবং বাস্তবায়নের পথ নিয়ে মতপার্থক্য নানা পথ ঘুরে শেষমেশ যেন আবার একই বিন্দুতে এসে পৌঁছেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট সমাধানের পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একদিকে সরকার সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা গণভোট ও পূর্বনির্ধারিত কাঠামোর বাস্তবায়ন চাইছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় না হলে সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঐকমত্য কমিশনের ধারণা মূলত সমন্বয়ের জন্যই সামনে এসেছিল। কিন্তু এখন সেটিই বিতর্কের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে–এই ঐকমত্য আদৌ বাস্তবায়নের পথে ফিরে আসবে, নাকি রাজনৈতিক ও আইনি দ্বন্দ্বের ভেতরেই আটকে থাকবে?

জুলাই সনদের যেভাবে বাস্তবায়ন চায় ঐকমত্য কমিশনconsensus com

সনদ বাস্তবায়ন বিতর্ক: এদিন এবং সেদিন

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নকে ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজন নতুন নয়। বরং ‘সেদিন’; অর্থাৎ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া মতভিন্নতা ‘এদিন’ সংসদের আলোচনায় এসে আরো স্পষ্ট রূপ নিয়েছে।

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় বসা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়। গঠন করা হয় বিভিন্ন কমিশন। এসব কমিশনের সুপারিশ দেওয়ার পর সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে এক জায়গায় আনতে গঠন করা জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা স্বাক্ষর হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের উপায় ঠিক করে দিয়ে গত ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনই হয় গণভোট।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতোই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।

নির্বাচনে জয়ীরা একই দিনে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সে প্রস্তুতি রেখেছিল সংসদ সচিবালয়।

জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নেন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত ৩০ দিন সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

সংসদে বসার শুরু থেকেই বিরোধী জোট বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার। ঐকমত্য কমিশনে যে বিতর্ক ছিল, সেটিই ‘এদিন’; অর্থাৎ, গত ৩১ মার্চ সংসদে বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি দল বিএনপি তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে সনদে সই হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে সংসদের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করা হবে।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিয়ে সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে ‘কালারেবল লেজিসলেশন’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমেই পরিবর্তনের কথা বলেন।

বিপরীতে বিরোধী দলগুলো–বিশেষত জামায়াত ও এনসিপি সংবিধানের কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে অনড় থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় তুলে ধরে। তাদের যুক্তি, বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে সীমিত সংশোধন ফ্যাসিবাদী পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে যথেষ্ট নয়।

এভাবে দেখা যায়, ‘সেদিন’ যেখানে প্রক্রিয়া নির্ধারণের বিতর্ক ছিল, ‘এদিন’ তা রূপ নিয়েছে বৈধতা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মতভিন্নতা সংসদে এসে আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, কিন্তু সমাধান এখনো অধরা। ফলে জুলাই সনদ একটি ঐকমত্যের দলিল হয়েও বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিভক্তির প্রতীক হয়ে রয়েছে।

দফায় দফায় সংশোধন: গণভোটের ফলাফলে আসলে কী ঘটেছে?Gonovote 2

সংসদীয় কমিটি বনাম সংস্কার পরিষদ

সরকারি দল সংবিধান সংশোধনে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। যেখানে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এই কমিটি আলোচনা করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করবে এবং তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।

সরকারের মতে, এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাংবিধানিকভাবে বৈধ প্রক্রিয়া, যা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগোতে পারে। কিন্তু বিরোধী দল এই প্রস্তাবকে যথেষ্ট মনে করছে না। তাদের দাবি, পূর্বনির্ধারিত সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সক্রিয় না করে সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে এগোনো হলে তা সনদের মূল কাঠামোকে দুর্বল করে ফেলবে।

ফলে এখানে দ্বন্দ্বটি শুধু প্রক্রিয়াগত নয়, বরং কাঠামোগত–কোন প্রতিষ্ঠান এই সংস্কার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে, তা নিয়েই বিরোধ তীব্র হচ্ছে।

তিন সমান্তরাল বাস্তবতায় আটকে প্রক্রিয়া

সব মিলিয়ে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এখন তিনটি সমান্তরাল বাস্তবতায় আটকে আছে। প্রথমত, রাজনৈতিকভাবে প্রায় সব পক্ষ সনদের পক্ষে অবস্থান নিলেও আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে তীব্র মতবিরোধ।

দ্বিতীয়ত, গণভোট হলেও তার ফলাফলের কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তৃতীয়ত, বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে সরকার যেখানে সংসদীয় সংশোধনের পথে এগোতে চায়, সেখানে বিরোধীরা পূর্বনির্ধারিত সংস্কার কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে অনড়।

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

এই তিনটি স্তরের অমিলই ঐকমত্য কমিশনকে ঘিরে বিতর্ককে সংসদের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কারণ, যে ঐকমত্য একসময় একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ দেখাচ্ছিল, এখন তা ভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যার কারণে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে চাপে রাখতে এবার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সনদ বাস্তাবায়নের দাবিতে আজ শনিবার সমাবেশ করেছে জোট। সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ‘‘বার্তা পরিষ্কার। যেদিন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছেন, আমি বলেছিলাম, বিএনপি আজকে থেকে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করল। এটা ফ্যাসিবাদ।’’

অর্থাৎ, ঐকমত্য কমিশনের আলাপ সংসদ হয়ে এখন গড়িয়েছে রাজপথে। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থান একটি সংঘাতময় রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। সংসদীয় প্রক্রিয়া ও রাজপথের চাপ–এই দুই সমান্তরাল পথ এখন মুখোমুখি অবস্থানে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরো বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিষয়: এনসিপিজাতীয় ঐকমত্য কমিশনজুলাই সনদজাতীয় সংসদগণভোটরাজনীতিসংবিধান
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড