Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

বিশ্বের বর্তমান অশান্তির মূল ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা

সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ১০
বিশ্বের বর্তমান অশান্তির মূল ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা

ক’দিন আগে একটি বাংলা দৈনিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার একটি বক্তব্য ছাপানো হয়। এটি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে ভাষান্তরিত করে বাংলায় প্রকাশ করা হয়েছে। পশ্চিম গোলার্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দ্য সিলভার অভিমত অতিশয় গুরত্বের দাবি রাখে। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের একচ্ছত্র ক্ষমতা বর্তমান অশান্তির মূল কারণ। নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য ১৫ জন। এর ভেতর পাঁচজন স্থায়ী, যথা- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এদের ভেটো পাওয়ার রয়েছে। অর্থাৎ এদের একজন কোনো প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিলে সেটি অকার্যকর হয়ে যায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মি. লুলার ভাষায় ভেটোকে ঢাল ও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে স্থায়ী সদস্যরা প্রায়ই লাখ লাখ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা যদি আলোচ্য সমস্যার যথাযথ বিচার বিবেক, বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ না করে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেখানে ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ কোথায়? ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল নাসের দেশের স্বার্থে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন। তখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং তাদের দোসর মিশরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এখানে উল্লেখ্য যে সুয়েজ খালের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ একটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে যার অধিকাংশ শেয়ার ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের হাতে। সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সকে সংঘর্ষ থামাতে বলে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয়। তখন বস্তুত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র একদিকে, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন অপর দিকে। বাংলাদেশের জন্মলগ্নে সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবার ভেটো প্রয়োগ করেছিল। পূর্বে বলেছি যে, সদস্যরা বিবেককে কাজে না লাগিয়ে কোন মুরুব্বির নির্দেশে ভোট প্রয়োগ করলে সেখানে সংকট আসবে। ১৯৭১ সালের ৯ মাস পাকিস্তান দখলীকৃত বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালাল, তা জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যের চোখে পড়ল না। নিরাপত্তা পরিষদেরও একই অবস্থা।

যুদ্ধ নয়, দরকার সংলাপiran-usa flag

যাহোক, বিশ্বে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক ক্ষমতার একটা ভারসাম্য ছিল। পারমাণবিক শক্তির পাল্লা কার দিকে কতটা ভারী তার পরিমাপ না করতে পারলেও এটা অনুমান করা হতো যে এরকম একটি যুদ্ধের ফল হবে ভয়াবহ। কে বলেছিলেন তা মনে নেই, তবে কথাটা এরকম যে পারমাণবিক যুদ্ধ হলে জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ব্লকের পতনের পর এ পাঠ চুকে গেল। রিগানের ভাষায় শয়তানের গৃহ ধ্বংস হল। পশ্চিমা নেতাদের সুখনিদ্রা ফিরে এল। কেননা নানা ধরনের আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হত মারণাস্ত্র সীমিত করা নিয়ে।

মি. দ্য সিলভা বলেছেন যে, যেখানে নিয়মের কোনো বালাই নেই সেখানে বিশ্ব স্বাভাবিকভাবে অনিরাপদ হয়ে পড়ে। এরকম বিশ্বে যে কেউ পরবর্তী শিকার হতে পারে। দ্য সিলভা প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন। ইরাক জাতিসংঘের একজন সদস্য অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে আক্রমণ করে পরাজিত করল এবং দ্য সিলভার কথার প্রতিধ্বনি করে বলতে হয়, অল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল। দ্বিতীয় যুদ্ধের পর বিশ্বের সামরিক ক্ষমতার পূর্ব পর্যন্ত এরকম রাজ্য দখল করার ঘটনা ঘটেনি, যা ইরাকে ঘটল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইরানে বর্তমানে যে যুদ্ধ চলছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে যে বিশ্ব এখন বসবাসের অযোগ্য। আগের রাত পর্যন্ত আলোচনা চলছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের। কোনোরকম যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। অথচ ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করল ইরানের ওপর। যুদ্ধে হাসপাতাল, বিদ্যালয় এবং সাধারণ জনবসতির উপর হামলা চালানোর কথা নয়, তারপরও চলে এবং যারা করে, তারা গলাবাজি করে না। কিন্তু ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সংবাদ সম্মেলন করে এই মানবতাবিরোধী কাজ করার ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু যে হটকারিতার পরিচয় দিল, তার দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে দুর্লভ। প্রত্যাশা ছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ একজোটে এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করবে এবং সেই সঙ্গে তাদের ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক করার কথা বলবে। উল্টো তা না করে ইরানের আক্রমণকারীদের কাছে চলে গেল। শুধু তাই নয়, ইরানের ড্রোন টেকনোলজির কৌশল আহরণের জন্য সুদূর ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তি করতে গেল। অথচ এরা মুসলিম উম্মাহ এবং ওআইসির সদস্য। তারা কি ইরানকে দ্বিতীয় গাজা বানাতে চায়?

যুক্তরাজ্য ইসরায়েলকে বসাল মধ্যপ্রাচ্যে। আজ ইসরায়েল পরিকল্পনা করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগলিক পরিবর্তন আনতে। এর জন্য ইসরায়েলের আগাম বাজেটে প্রচুর তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।

বর্তমান যে হটকারী যুদ্ধাটা শুরু করেছে, এতে কিন্তু ইউরোপের কোনো দায়িত্বপূর্ণ রাষ্ট্র নিন্দা করেনি। অতএব, বিবেকহীন সদস্য রাষ্ট্র দিয়ে কিভাবে শক্তিশালী নিরাপত্তা কাউন্সি গড়ে তোলা সম্ভব? ইরানের জনজীবনকে ধ্বংস করার জন্য ভয়াবহ আক্রমণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ইরান সাধ্যমত প্রতিরোধ করছে, তারপরও নিজের বিবেককে পরিষ্কার রেখে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে। পক্ষান্তরে পাশ্চত্যের দেশ যারা বেশি মানবতার কথা বলে, তারা শুধু হরমুজ প্রণালীর কথা বলছে, মুখ খুলছেন না ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মানবতাবিরোধী যুদ্ধের ব্যাপার।

অনিরাপদ বিশ্ব নিরাপদ হবে না যতদিন একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব না হয়। সেটি সম্ভব-যদি Balance of Terror প্রতিষ্ঠিত হতো। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ভারতের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সমর্থনে বলেছিলেন, ‘Strength respects strength’। জানি না কতদিনে বিশ্বের এই একতরফা ক্ষমতার অবাসন হবে?

বিষয়: আন্তর্জাতিকইরান-ইসরায়েল সংঘাতমধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্রযুদ্ধমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল
সর্বশেষ
  • ১

    ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট

  • ২

    খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

  • ৩

    ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আগুন, সবশেষ যা জানা গেল

  • ৪

    হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, গ্রেপ্তার ৪

  • ৫

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া