
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সব ধরনের জাহাজ চলাচল অবরোধের সিদ্ধান্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাবনাকেও বিপন্ন করতে পারে।

ট্রাম্পের সীমাহীন ক্ষমতার বিশ্বাস কখনোই সংবিধান বা আমেরিকার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সির স্বাভাবিক ক্ষয়ও তাকে আরও দুর্বল করতে পারে। একইসঙ্গে ইরান বাইরের দিক থেকে তার শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যদি দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনা হলে সেখানেও মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর গ্রিনল্যান্ড দখলের নতুন করে উত্থাপিত পরিকল্পনা ন্যাটো জোটের ৭৭ বছরের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্ক এমন এক ভাঙনের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ইউরোপীয়

ইরানের কিছু সমুদ্রপথনির্ভর আমদানি আছে। আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তার গমের পঞ্চমাংশ আসত। ব্রাজিল ও ইউক্রেন থেকে বেশির ভাগ ভুট্টা আসে উপসাগরের বন্দর দিয়ে। কিছু শস্য ক্যাস্পিয়ান বন্দর বা তুরস্ক ও মধ্য এশিয়া হয়ে রাশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে আসতে পারে, তবে বেশি খরচে।

সমঝোতা ছাড়াই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ইরান উপকূলে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি ইরানে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্য
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দূরদর্শিতার অভাব ভয়াবহ অদক্ষতার প্রমাণ। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পূর্বের অবস্থা ফেরায়নি। কারণ ইরান এখনও চলাচল সীমিত রেখেছে এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে কর আরোপের হুমকি দিয়েছে। এই যুদ্ধ ইরানের নেতাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, জলপথ নিয়ন্ত্রণ বাস্তবে সম্ভব।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ফের ইরানে হামলার কথা ভাবছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি আজ থেকে হরমুজ প্রণালিসহ ইরানের বিভিন্ন বন্দরে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা। ওদিকে, ইরান বলছে, যদি কোনো যুদ্ধজাহাজ ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করে তা হবে যুদ্ধবিরতির শর্তভঙ্গ।

সাক্ষাৎকারে স্টারমার ওই অঞ্চলে ব্রিটেনের মাইন-সুইপার (মাইন অপসারণকারী জাহাজ) মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে সামরিক গোপনীয়তার স্বার্থে তিনি বিস্তারিত কিছু না বললেও স্পষ্ট করেন যে, তাদের সামরিক সক্ষমতা মূলত প্রণালিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

একদিকে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলিরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে, হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা হচ্ছে– আর অন্যদিকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের উন্নয়নযজ্ঞে মত্ত।

কবরস্থানে শহীদদের জন্য দোয়া পড়ে যখন বাড়ির দিকে আসছি... হঠাৎ মনে হলো একটা বিশাল ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আমাদের ওপর আছড়ে পড়ল।এটি একটি যুদ্ধাপরাধ। মানবাধিকার কোথায়? ইসরায়েলে যদি কোনো একটি শিশুও আহত হয়, তবে পুরো বিশ্ব হইচই শুরু করে। আমরা কি মানুষ নই? আমরা কি তাদের মতো নই?

ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আজ সোমবার লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ সোমবার থেকে তারা ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে।

এই যুদ্ধে আমেরিকার একটি বড় সংকট হলো বিরল খনিজ ও টাংস্টেনের সরবরাহ। উন্নত গোলাবারুদ তৈরিতে টাংস্টেন অপরিহার্য এবং বিশ্বের ৮০ শতাংশ টাংস্টেন উৎপাদন হয় চীনে। চীন বিরল খনিজেরও নিয়ন্ত্রক।

এই যুদ্ধে আমেরিকার একটি বড় সংকট হলো বিরল খনিজ ও টাংস্টেনের সরবরাহ। উন্নত গোলাবারুদ তৈরিতে টাংস্টেন অপরিহার্য এবং বিশ্বের ৮০ শতাংশ টাংস্টেন উৎপাদন হয় চীনে। চীন বিরল খনিজেরও নিয়ন্ত্রক।