চরচা ডেস্ক

ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে সঙ্গীকে চুমু দেওয়া অতি স্বাভাবিক এক আবেগীয় অনুভূতি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর সাথে জড়িয়ে আছে একটি বিশেষ স্বাস্থ্যঝুঁকি। লালার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘কিসিং ডিজিজ’ বা ‘মনো’ আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ জ্বর মনে হতে পারে, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এক জটিল স্নায়ুরোগের আশঙ্কাজনক যোগাযোগ খুঁজে পেয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন অনেক রোগ আছে যা আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও শরীরের গভীরে দীর্ঘমেয়াদী ছাপ রেখে যায়। ‘ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস’ বা সাধারণের কাছে যা ‘কিসিং ডিজিজ’ নামে পরিচিত, সেই রোগটি নিয়ে সম্প্রতি এমনই এক তথ্য সামনে এসেছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা জীবনে অন্তত একবার এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, পরবর্তী জীবনে তাদের মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) নামক একটি জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়।
কিসিং ডিজিজ বা মনো আসলে কী?
মেডিকেল পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস’, সংক্ষেপে অনেকেই একে শুধু ‘মনো’ বলে ডাকেন। এটি মূলত ‘এপস্টাইন-বার ভাইরাস (ইবিভি)’ নামের একটি ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, এর নাম ‘কিসিং ডিজিজ’ কেন? এনডিটিভির একটি প্রতিবেদন বলছে, এই ভাইরাসটি প্রধানত লালার মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হয়। চুমুর মাধ্যমে এটি ছড়ানোর প্রবণতা বেশি বলে এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু চুমুই নয়, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত গ্লাস, চামচ বা পানীয় ভাগ করে নিলে কিংবা কাশির মাধ্যমে খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলেও এটি ছড়াতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিশ্বের প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ মানুষই তাদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি হলে তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, কিন্তু কৈশোরে বা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এই সংক্রমণ ঘটলে তা পূর্ণাঙ্গ মনো রোগের রূপ নেয়।
মনো’র লক্ষণ
প্রাথমিক অবস্থায় মনোকে সাধারণ ফ্লু বা গলার ইনফেকশন বলে মনে হতে পারে। এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-
অধিকাংশ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, পুষ্টিকর খাবার এবং সাধারণ চিকিৎসাতেই রোগী নিজে থেকে সেরে ওঠেন।
নতুন গবেষণা ও মাল্টিপল স্কলেরোসিস
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মনো আক্রান্তদের মধ্যে ভবিষ্যতে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) হওয়ার একটি জোরালো যোগসূত্র রয়েছে। এটি একটি অটো-ইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে (মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড) আক্রমণ করে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই এপস্টাইন-বার ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ‘বি-সেল’-কে আক্রমণ করে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে এমনভাবে বিভ্রান্ত করে যে, সেটি নিজের স্নায়ুর মায়োলিন স্তরকে ধ্বংস করতে শুরু করে। অনেকটা বিদ্যুতের তারের ওপরের প্লাস্টিকের আবরণ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো, যা স্নায়বিক সংকেত আদান-প্রদানে বাধার সৃষ্টি করে।
সচেতনতা
গবেষণায় তিন গুণ ঝুঁকির কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিসংখ্যান বলছে, মনো হলেও এমএস হওয়ার সামগ্রিক হার খুবই কম—মাত্র ০.১৭ শতাংশ। যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই হার ০.০৭ শতাংশ। অর্থাৎ, মনো হওয়া মানেই এমএস হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি পারস্পরিক সংযোগ মাত্র, সরাসরি কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নয়। তবে সচেতন থাকা জরুরি।
বিশেষ করে যারা অতীতে মনোতে ভুগেছেন, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, শরীরের কোনো অংশ বারবার অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই আবিষ্কার বর্তমানে মনো’র চিকিৎসায় কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন না আনলেও, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের রহস্য উন্মোচনে বড় ভূমিকা রাখবে। যদি অন্যান্য গবেষকরাও এই তথ্য নিশ্চিত করেন, তবে ভবিষ্যতে ইবিভি ভ্যাকসিন তৈরির মাধ্যমে হয়ত মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো ব্যাধি ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে সঙ্গীকে চুমু দেওয়া অতি স্বাভাবিক এক আবেগীয় অনুভূতি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর সাথে জড়িয়ে আছে একটি বিশেষ স্বাস্থ্যঝুঁকি। লালার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘কিসিং ডিজিজ’ বা ‘মনো’ আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ জ্বর মনে হতে পারে, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এক জটিল স্নায়ুরোগের আশঙ্কাজনক যোগাযোগ খুঁজে পেয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন অনেক রোগ আছে যা আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও শরীরের গভীরে দীর্ঘমেয়াদী ছাপ রেখে যায়। ‘ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস’ বা সাধারণের কাছে যা ‘কিসিং ডিজিজ’ নামে পরিচিত, সেই রোগটি নিয়ে সম্প্রতি এমনই এক তথ্য সামনে এসেছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা জীবনে অন্তত একবার এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, পরবর্তী জীবনে তাদের মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) নামক একটি জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়।
কিসিং ডিজিজ বা মনো আসলে কী?
মেডিকেল পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস’, সংক্ষেপে অনেকেই একে শুধু ‘মনো’ বলে ডাকেন। এটি মূলত ‘এপস্টাইন-বার ভাইরাস (ইবিভি)’ নামের একটি ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, এর নাম ‘কিসিং ডিজিজ’ কেন? এনডিটিভির একটি প্রতিবেদন বলছে, এই ভাইরাসটি প্রধানত লালার মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হয়। চুমুর মাধ্যমে এটি ছড়ানোর প্রবণতা বেশি বলে এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু চুমুই নয়, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত গ্লাস, চামচ বা পানীয় ভাগ করে নিলে কিংবা কাশির মাধ্যমে খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলেও এটি ছড়াতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিশ্বের প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ মানুষই তাদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি হলে তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, কিন্তু কৈশোরে বা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এই সংক্রমণ ঘটলে তা পূর্ণাঙ্গ মনো রোগের রূপ নেয়।
মনো’র লক্ষণ
প্রাথমিক অবস্থায় মনোকে সাধারণ ফ্লু বা গলার ইনফেকশন বলে মনে হতে পারে। এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-
অধিকাংশ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, পুষ্টিকর খাবার এবং সাধারণ চিকিৎসাতেই রোগী নিজে থেকে সেরে ওঠেন।
নতুন গবেষণা ও মাল্টিপল স্কলেরোসিস
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মনো আক্রান্তদের মধ্যে ভবিষ্যতে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) হওয়ার একটি জোরালো যোগসূত্র রয়েছে। এটি একটি অটো-ইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে (মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড) আক্রমণ করে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই এপস্টাইন-বার ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ‘বি-সেল’-কে আক্রমণ করে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে এমনভাবে বিভ্রান্ত করে যে, সেটি নিজের স্নায়ুর মায়োলিন স্তরকে ধ্বংস করতে শুরু করে। অনেকটা বিদ্যুতের তারের ওপরের প্লাস্টিকের আবরণ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো, যা স্নায়বিক সংকেত আদান-প্রদানে বাধার সৃষ্টি করে।
সচেতনতা
গবেষণায় তিন গুণ ঝুঁকির কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিসংখ্যান বলছে, মনো হলেও এমএস হওয়ার সামগ্রিক হার খুবই কম—মাত্র ০.১৭ শতাংশ। যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই হার ০.০৭ শতাংশ। অর্থাৎ, মনো হওয়া মানেই এমএস হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি পারস্পরিক সংযোগ মাত্র, সরাসরি কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নয়। তবে সচেতন থাকা জরুরি।
বিশেষ করে যারা অতীতে মনোতে ভুগেছেন, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, শরীরের কোনো অংশ বারবার অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই আবিষ্কার বর্তমানে মনো’র চিকিৎসায় কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন না আনলেও, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের রহস্য উন্মোচনে বড় ভূমিকা রাখবে। যদি অন্যান্য গবেষকরাও এই তথ্য নিশ্চিত করেন, তবে ভবিষ্যতে ইবিভি ভ্যাকসিন তৈরির মাধ্যমে হয়ত মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো ব্যাধি ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

মাল্টিভিটামিন কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। এটি সুষম খাদ্যের বিকল্পও নয়। বরং এটি একটি সহায়ক উপাদান, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপকার করতে পারে। তাই অন্ধভাবে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে, নিজের শারীরিক অবস্থা, বয়স এবং খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পথ।