Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

যুদ্ধবাজের দেশে ফুটবলেও কি মাস্তানি চলবে?

অর্ণব সান্যাল

অর্ণব সান্যাল

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২০: ৩৫
যুদ্ধবাজের দেশে ফুটবলেও কি মাস্তানি চলবে?

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসে ৪ বছর পর পর। এই ৪ বছরে দুনিয়ায় কত কিছু ঘটে যায়! তারপরও সারা বিশ্বের মানুষ বিশ্বকাপের সময়টায় নিখাদ ফুটবলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়। আয়োজক ফিফার উদ্দেশ্যটাও তেমনি, ফুটবলের সুতোয় পুরো পৃথিবীকে ঐকবদ্ধ করা, একসঙ্গে আনা। কিন্তু এবারের মতো এতটা ‘শ্যাম রাখি, না কূল রাখি’ অবস্থায় ফিফা গত কিছুটা সময়ে পড়েনি। মূলত নিজেদের মূলনীতির মান রক্ষা করাই ফিফার জন্য এখন চ্যালেঞ্জ। আর তাতে দুটি পক্ষে মুখোমুখি আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা চলছে। তুমুল যুদ্ধের অনেক আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব প্রবল রূপে বিরাজমান। আর এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বে ইরানের সবগুলো খেলাও পড়েছে মার্কিন মুলুকে। এ নিয়ে বেশ দড়ি টানাটানি চলেছে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার একেবারে আগ দিয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই ভিসার মধ্যে অনেক গড়বড়। ইরানি দলকে এমন ভিসা দেওয়া হয়েছে, যেটাতে তারা কেউই রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে থাকতে পারবে না। ম্যাচ খেলেই তাদের চলে যেতে হবে। ভিসা নিয়ে দড়ি টানাটানির মধ্যেই ইরান আগেই নিজেদের বেজক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে মেক্সিকোয়। পুরো বিষয়টিই পড়েছে রাজনীতির মারপ্যাঁচের মধ্যে।

ইরান যুদ্ধের মতোই ফুটবল মাঠেও সাহস দেখিয়ে ফেলেছে এরই মধ্যে। নিজেদের বেজক্যাম্প নিজেরাই মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়নি বরং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মধ্যেও যেভাবে পাল্টা আক্রমণ দিয়ে টিকে থেকে যুদ্ধে ‘প্রায় জয়’ ছিনিয়ে নিয়েছে তেল ও ভূরাজনৈতিক অস্ত্রের ব্যবহারে, ঠিক তেমনি বিশ্বকাপে জানান দিয়েছে যে, যুদ্ধের ট্রমা তারা খেলার মাঠে আনতে রাজি নয়, এমনকি তা যুদ্ধবাজের দেশে হলেও নয়!

বিশ্বকাপ নিয়ে আগ্রহ এত কম কেন?Triando

হ্যাঁ, ইরান নানা ধরনের বায়নাক্কা করছে বটে। তা নিজের দেশে আক্রমণ চালানো একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলে কে করবে না? ইরান দাবি জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তাদের দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ফিফা’কে। এমনকি রেভোলিউশনারি গার্ড বা ইরানের বর্তমান শাসনকাঠামো নিয়ে মার্কিন ভূমিতে কোনো রঙ্গ-ব্যঙ্গও তারা সহ্য করবে না, অপমান হিসেবে দেখবে। রীতিমতো ঘোষণা দিয়েই জানিয়ে দিয়েছে, গ্যালারি থেকে কোনো কটূক্তি হলে, সঙ্গে সঙ্গে তারা খেলা থামিয়ে দেবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যে দেশের আক্রমণে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন, বর্তমান নেতাও শারীরিকভাবে শঙ্কায়, নিহত হয়েছে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ এমনকি শয়ে শয়ে স্কুলপড়ুয়া শিশুও, সেই মার্কিন মুলুকে খেলতে যাওয়ার আগে ইরান যদি এমন শর্ত দেয়, তাহলে ভুরু কুঁচকে ‘অন্যায্য’ বলার সুযোগ থাকে কি?

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: রয়টার্স
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: রয়টার্স

থাকে না। তবুও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গ্রেট আমেরিকা’ ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের ভিসা নিয়ে টালবাহানা করছে। কারণ এক ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রথম ‘পরাজয়’ মেনে নেওয়ার অবস্থায় গেছে। ট্রাম্প হয়তো বলেই চলেছেন যে, ইরানকে হারানো গেছে! তবে পুরো যুক্তরাষ্ট্র, দেশটির শাসন–কাঠামো, জনগণের একাংশ বা এস্টাবলিশমেন্ট জানে যে, একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে গিয়ে আসলে পিছু হটতে হয়েছে তাদের। আর যুদ্ধ এমন এক ক্রিয়া, যাতে পশ্চাদপসরণ সব সময়ই পরাজয়ের স্বাদ দেয়। শুধু মুখের কথায় সেই পরাজয়কে জয়ে পরিণত করা যায় না। ৯০ মিনিটের খেলাতেই যদি গোলের হিসাবে পিছিয়ে যেতে হয়, তবে আর অতিরিক্ত সময়ের খাতা খোলে না। টাইব্রেকার তো দূর কী বাত!

তাই ট্রাম্প যখন ইরান যুদ্ধের ক্ষতি মেটাতে চীন, রাশিয়ায় দূতিয়ালিতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে ইরান ট্রাম্পের দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলতে নানা শর্ত আরোপ করে যাচ্ছে। আর সেই সঙ্গে জানিয়ে যাচ্ছে একই দাবি, ‘খেলা সরিয়ে নাও’। ফিফা সেখানে মধ্যস্থতা করতে গিয়ে পড়ছে বিপাকে। হয়তো মনে মনে ভাবছে, ‘ইরান নিজেকে সরিয়ে নিলেই বরং ভালো হতো’!

আর ঠিক এই সমীকরণেই ট্রাম্পের দেশ ও ফিফা—সবাইকেই ট্রাম্প কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে ইরান। খেলা থেকে শুরুতেই নিজেকে সরিয়ে নেয়নি। বরং উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছে। এটি অবশ্য ইরানের ঐতিহ্যবাহী কৌশল, হাজার বছরেরও বটে। পিছু না হটে উল্টো উপস্থিতি জানান দেওয়া, টিকে থাকা। ৯০ মিনিটের খেলায় খুব একটা ভালো করতে না পারলেও স্কোরবোর্ড সমান রেখে অতিরিক্ত সময়ে খেলাকে টেনে নেওয়া, প্রয়োজনে টাইব্রেকার পর্যন্ত। কে জানে, এতটা সময় প্রতিপক্ষের মাথা ঠান্ডা রেখে টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠতেই পারে। হয়তো ভুল করেই বসল। আর ঠিক সেই ভুলেরই ফায়দা তুলবে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সত্যিকারের যুদ্ধেও একই কৌশলে টিকে থেকেছে ইরান। বিশ্বকাপ ফুটবলের ক্ষেত্রেও তাই এতেই ভরসা হয়তো বেশি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দলের শক্তিমত্তা বিচার করতে গিয়েও কিছু আশ্চর্যের বিষয় লক্ষ্য করা যায় বটে। সেসব আবার ফুটবল মাঠের সাথে সাথে মিলে যায় যুদ্ধ এবং জাতীয় চরিত্রের সাথেও।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি। ছবি: রয়টার্স

ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ১৯৩০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফুটবলে সুযোগ পেয়েছিল। বিশ্বকাপের সেরা পারফরম্যান্সও এখনও পর্যন্ত ওটিই। সেবারই সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল মার্কিনিরা। ২০২৬ সাল ধরলে মোট ১২টি বিশ্বকাপ খেলতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পারফরম্যান্সে ১৯৩০ সালের টুর্নামেন্টকে আর পেছনে ফেলতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র বৃহৎ অর্থে আমেরিকা মহাদেশের অংশ হলেও ফুটবল খেলে ইউরোপীয় সূত্রে। বরাবরই ইউরোপীয় ঘরানার তারুণ্যে ভরপুর গতিনির্ভর দল তৈরি করে। কৌশলের চেয়ে শক্তি সেখানে গুরুত্ব বেশি পায় কিছুটা। মিডফিল্ডে ভিত গড়ে গতির তোড়ে ওপরে উঠে আক্রমণে যেতে চায়। কিন্তু ফিনিশিংয়ে বরাবরই তারা দুর্বল। তাই ফলাফল সব সময় মনের মতো হয় না।

ওদিকে ইরান বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে বেশ পিছিয়ে। সব মিলিয়ে ৭টি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছে। গ্রুপ পর্বই কখনোই পার হওয়া হয়নি। তবে ইরানের ফুটবল দলের রক্ষণ বরাবরই জমাট থাকে। রক্ষণ ঠিক রেখে কাউন্টার-অ্যাটাকে যায় ইরানিরা। ‘রেজিলিয়েন্স’ শব্দটি তাই ইরানের ফুটবল দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা অন্তত সেটাই মনে করে থাকেন।

এই রেজিলিয়েন্সের জোরেই বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত নিজেদের সবচেয়ে বড় সাফল্যটা পেয়েছিল ইরান। কার বিপক্ষে জানেন? সেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেই! ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের লিঁও’তে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল ইরান। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে খেলার মধ্যে রাজনীতি মেশানোর ম্যাচের চরম উদাহরণ হিসেবে সেটিকেই ধরা হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক শত্রুতা দীর্ঘদিনের।

১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ। ছবি: সংগৃহীত
১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ। ছবি: সংগৃহীত

সেই শত্রুতাই যেন ফুটে উঠেছিল লিঁও’র স্টেডিয়ামে। জয়ের পর ইরানের শহরগুলো ‘শত্রু’কে হারানোর আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠেছিল। ম্যাচের আগে ইরানের খেলোয়াড়দের মধ্যেও জাতীয়তাবাদের বীজ বুনে দিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। খেলা তাই আর শুধু খেলা থাকেনি, বরং প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল যেন।

অবশ্য এর পর আর কখনোই ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। গত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলে হারতেও হয়েছে। তবে এখনও বিশ্বকাপে ইরানের জ্বলে ওঠা বলতে ২৬/২৭ বছর পেছনেই চলে যেতে হয়। এবং সেখানে অনুপ্রেরণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভাবিত জয়ই।

এবার দুই দেশ খেলছে দুই গ্রুপে। গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা দুই দেশেরই আছে। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পার্থক্য আছে। যুক্তরাষ্ট্র আছে ১৬ নম্বরে, ইরান ২১। তবে মাঠের খেলায় র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকাটা কখনোই জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না, ফুটবলে আরও না। অবশ্য টুর্নামেন্টে এই দুই দেশের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ, যদি না অভাবনীয় কোনো কিছু হয়।

চিত্তাকর্ষক তথ্য হলো, লিঁও’র সেই ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাদা গোলাপ বিনিময় হয়েছিল। সৌহার্দ্যের অংশ হিসেবে। এমনকি গ্রুপ ফটোও তোলা হয়েছিল। তখনও এই দুই দেশের মধ্যে এতটুকু ভদ্রতা অন্তত অবশিষ্ট ছিল, যেখানে খেলাকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক রূপ দিয়েও পোশাকিভাবে হলেও ফুটবলকে এগিয়ে রাখা যেত। তবে এবার আর সেটি নেই একেবারেই। তাই হাজারো সমীকরণকে মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো ম্যাচ সম্ভব হলেও, তাতে ড্রোন-মিসাইলই থাকবে অবচেতনে। ফুল নয়। সাদা গোলাপ যে এখন স্কুলপড়ুয়া শিশুর রক্তে টকটকে লাল!

সেই ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই পক্ষই এরই মধ্যে দিয়েছে। ইরানের সুবিধা হলো, আক্ষরিক যুদ্ধের মতোই খেলার মাঠেও তার হারানোর কিছু নেই। আর যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা হলো, পান থেকে চুন খসলেই তাকে সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন যে, ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি আয়োজনের দায়িত্ব নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এসব ম্যাচ গণ্ডগোল ছাড়া ঠিকঠাক আয়োজন করা বেশ কঠিন। আছে সন্ত্রাসী ঝুঁকি। এমন ঝুঁকি যেমন আইএসের পক্ষ থেকে আছে, তেমনি আছে মার্কিন মুলুকে গজিয়ে ওঠা হোয়াইট সুপ্রিমেসি সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে।

গোদের উপর বিষফোঁড়া হিসেবে আছে মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনের এখনকার কড়াকড়ি। ফলে খেলোয়াড় থেকে শুরু করে নানা দেশের দর্শকদের নিরাপত্তা, খেলা উপভোগের নিশ্চয়তা—সবই আসলে অনেক যদি, কিন্তুতে মোড়া। আশঙ্কাও আছে হরেক। আর ইরানের খেলায় কোনোভাবে বাধা দিলে, বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেলে তো কথাই নেই। অবশ্য খেলার মধ্যে শুধু রাজনীতি নয়, বরং এত কিছু মিশিয়ে ফেলার অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ধন্যবাদ পেতেই পারেন!

বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাক তারকাকে ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদiraq

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল তাই নিজেদের ‘মাস্তান’ ইমেজকে সংযত করার চ্যালেঞ্জ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অস্ত্রের মুখে তুলে এনে যে মাস্তানি শুরু হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তা গড়িয়েছে স্থায়ী ‘যুদ্ধবাজ’ ট্যাগে। এই বঙ্গে কাউন্সিলর ইলেকশনের আগ দিয়ে পাড়ার সুপরিচিত মাস্তান যেভাবে নিজেকে জনদরদী হিসেবে তুলে ধরতে চায়, যুক্তরাষ্ট্রের এখন ঠিক তেমন দশা। কারও অযাচিত আচরণে মাথা গরম করে হালকা ঝাড়ি দিয়ে ফেললেও তাই শুনতে হবে ঠেস—‘আরে, ওইটা তো মাস্তান, ও কি আর বদলাবে নাকি!’

‘বড়লোকের’ বিশ্বকাপে এবার যা কিছু নতুন2026-05-05T175055Z_2_LYNXMPEM4418P_RTROPTP_4_SOCCER-WORLDCUP-NEW-YORK-1200x800

উল্টো দিকে ইরান আছে ‘দোষ চাপানো’র সুবিধাজনক অবস্থায়। অনেকটা ইচ্ছে হলেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মতো ইরান চাইলেই দোষের বোঝা তুলে দিতে পারছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে। এর আগে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচেই খেলার সাথে রাজনীতি মেশাতে পেরেছিল ইরান। জিতেছিলও। এবার পুরো বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টকেই বিশ্বরাজনীতির সাথে ঘুঁটে দেয় কি না, কে জানে! 

আর ওপরের শঙ্কাগুলো সত্যি হলে ফিফা হয়তো শেষে বিশ্বকাপ আয়োজনের নিজস্ব মন্ত্রই ভুলে যাবে। এত বিভক্তির মধ্যে একতা আসবে কোত্থেকে? তখন সিনেমার মতো ম্যাচের আগেও চালাতে হতে পারে ডিসক্লেইমার। বাংলার কাছ থেকে ধার করে বলা যেতে পারে—‘প্লিজ, খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশাবেন না।’

বিষয়: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ইরানহরমুজ প্রণালিমার্কিন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রযুদ্ধআয়াতুল্লাহ আলী খামেনিভেনেজুয়েলা
সর্বশেষ
  • ১

    তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা তুলেছেন

  • ২

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

  • ৩

    বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান: শামা ওবায়েদ

  • ৪

    হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ: রয়টার্স

  • ৫

    পেরুতে ‘৬০০ বছরের’ অক্ষত সমাধির সন্ধান

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া