Advertisement Banner

ডায়েট ও ব্যায়ামের পরও কেন ওজন কমছে না

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ডায়েট ও ব্যায়ামের পরও কেন ওজন কমছে না
প্রতীকী ছবি: ম্যাগনিফিক

স্বাস্থ্য নিয়ে কমবেশি সবাই এখন বেশ সচেতন। ওজন বেড়ে গেলে সেটি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ডায়েট ও ব্যায়াম শুরু করে দেন। এখন অনেক মানুষই বলেন, তারা স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং নিয়মিত ব্যায়ামও করেন, তবুও ওজন কমছে না।

এ কারণে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি হয়। তারা বুঝতে পারেন না, আসলে ওজন কমানোর সঠিক উপায় কী।

এই বিষয়ে ভারতের গুরগাঁওয়ের মেডান্টা–দ্য মেডিসিটি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক সুকৃত সুদ হিন্দুস্থান টাইমসকে বলেন, এই সমস্যার মূল কারণ হলো স্থূলতা বা ওবেসিটি নিয়ে প্রচলিত ধারণা।

তার মতে, কিছুদিন আগ পর্যন্ত স্থূলতাকে শুধু জীবনযাপন-সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। ধারণা ছিল, সঠিক খাবার খাওয়া ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যদিও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তবে ওজন বাড়ার একমাত্র কারণ এগুলো নয়।

ধীর বিপাকক্রিয়া (স্লো মেটাবলিজম)

ডা. সুকৃত বলেন, ওজন কমানোর সময় শরীর চুপচাপ বসে থাকে না। শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কম ক্যালরি গ্রহণ করলে দেহ শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করে। ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। একই সঙ্গে ক্ষুধার অনুভূতিও বাড়তে থাকে। এ কারণে ওজন কমানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

কঠোর ডায়েট

আরেকটি বড় বিষয় হলো ওজন কমানোর চেষ্টা কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটি। ডা. সুকৃত বলেন, অনেক মানুষ কঠোর ডায়েট মেনে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এ ধরনের ডায়েট দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা কঠিন। ফলে অনেকের ওজন কমে আবার বেড়ে যায়। এই ওঠানামা শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম এবং লিভারের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই শুধু ডায়েট ও ব্যায়াম সব সময় ওজন কমানোর জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

কার্যকরভাবে ওজন কমাতে কী করা দরকার?

ডা. সুকৃতের মতে, স্থূলতা বা ওবেসিটির চিকিৎসা নিয়ে প্রচলিত ধারণায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন এসেছে। ডায়েট ও ব্যায়াম এখনো মূল ভিত্তি হলেও কিছু মানুষের কার্যকরভাবে ওজন কমাতে বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে–এটি অনেকে বুঝতে শুরু করেছেন।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি এখন নতুন কিছু চিকিৎসা পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কম ঝুঁকিপূর্ণ এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি, যা শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে কাজ করে।

এন্ডোস্কোপিক গ্যাস্ট্রোপ্লাস্টি

ডা. সুকৃত জানান, এন্ডোস্কোপিক স্লিভ গ্যাস্ট্রোপ্লাস্টি (ইএসজি) নামের একটি পদ্ধতিতে পাকস্থলীর আকার ছোট করা হয়, যাতে মানুষ দ্রুত পেট ভরা অনুভব করেন। আবার ইনট্রাগ্যাস্ট্রিক বেলুন সাময়িকভাবে ব্যবহার করে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ট্রান্সওরাল আউটলেট রিডাকশন পদ্ধতিও বিবেচনা করা হয়, বিশেষ করে যাদের আগের চিকিৎসার পর আবার ওজন বেড়ে গেছে।

তবে এসব পদ্ধতি ডায়েট ও ব্যায়ামের বিকল্প নয় বলেও উল্লেখ করেন ডা. সুকৃত। তিনি বলেন, এগুলো কেবল ওজন কমানোর অতিরিক্ত সহায়ক উপায়। লক্ষ্য শুধু ওজন কমানো নয় বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করা।

এই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, যারা মনে করেন সব নিয়ম মেনেও তাদের ওজন কমছে না, তাদের জন্য হয়তো প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে অন্য বিকল্প ভাবার সময় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি চেষ্টা কম করার নয়, বরং আরও সমন্বিত পদ্ধতির অভাব।

সম্পর্কিত