Advertisement Banner

ফিফা-বিশ্বকাপ-২০২৬ /প্রথম দিনেই ইতিহাস কানাডার

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
প্রথম দিনেই ইতিহাস কানাডার
কানাডাকে সমতায় ফেরানোর উল্লাস কাইল লারিনের (৯ নম্বর জার্সি)। ছবি: এক্স

পুরো তিন পয়েন্ট কেন হলো না, এ নিয়ে আক্ষেপ থাকতে পারে। এই অনুভূতিই বেশি হওয়ার কথা। কানাডাই যে বেশি দাপুটে দল ছিল!

কিন্তু টরন্টোতে আজ কানাডা-পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে কানাডা। ২১ মিনিটে ইয়োভো লুকিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বসনিয়া, ৭৮ মিনিটে কাইল লারিনের গোল কানাডাকে দিয়েছে স্বস্তি।

জয় না এলেও এক ড্রতেই বিশ্বকাপে একটা ইতিহাস গড়ে ফেলেছে। নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ আর সপ্তম ম্যাচে গিয়ে যে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টের মুখ দেখল কানাডা।

এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে প্রেস করতে পারে বলে যে দুটি দলকে ভাবা হচ্ছে, তার একটি কানাডা। অন্যটি অস্ট্রিয়া। মজার ব্যাপার, দুটিই ‘গেগেনপ্রেসিং’ ঘরানার ফুটবলে অভ্যস্ত। ইয়ুর্গেন ক্লপের কারণে খ্যাতি পাওয়া ফুটবলের গেগেনপ্রেসিং ঘরানার জনক মানা হয় রালফ রাংনিককে, যিনি এখন অস্ট্রিয়ার কোচ। আর ক্লপের মতোই এই ‘রাংনিক স্কুল অব কোচিং ট্যাকটিকসে’র আরেক শিষ্য জেসি মার্শ কোচিং করাচ্ছেন কানাডাকে।

সে কারণে কানাডার ক্ষেত্রে এটা অনুমিতই ছিল যে, কানাডার ম্যাচ মানেই তাতে পাগলাটে গতি থাকবে। তবে এই প্রেসিংয়ের সময়ে বসনিয়াও সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে।

এর মধ্যেই বসনিয়া ২১ মিনিটে তাদের পুরোনো অস্ত্র কাজে লাগিয়ে গোল পেয়ে গেল। ফ্রি-কিক থেকে ক্রস ভাসানো হলো কাছের পোস্টে, সেখানে সিদ কোলাসিনাচের হেডে ফ্লিক, এরপর ইয়োভো লুকিচের কাজটা তো জলের মতো তরল – বলতে গেলে একেবারে গোললাইন থেকেই হেডে বলটাকে শুধু জালে পাঠানো।

তা-ই করলেন লুকিচ। বসনিয়ার জার্সিতে তার প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক গোল হয়ে গেল।

এর আগে পরে কানাডার জোনাথন ডেভিড একেবারে চূড়ান্ত হাস্যকর একটা মিস না করলে, ওলুওয়াসেই একটা শট পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে না মারলে বিরতির আগেই হয়তো সমতায় থাকত কানাডা।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই গল্প। কানাডার দাপট দিয়ে শুরু। সিদ কোলাসিনাচ চোখধাঁধানো গোললাইন ক্লিয়ারেন্স না করলে দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটেই গোল পেয়ে যান কানাডার ল্যারিয়া। একের পর এক সুযোগ নষ্ট হতে দেখে এক পর্যায়ে আক্রমণভাগে একসঙ্গে তিন পরিবর্তনও আনেন কানাডা কোচ জেসি মার্শ।

মাস্টারস্ট্রোক! বদলি নামার ১২১ সেকেন্ড পর গোল করে ফেললেন লারিন। কোনের পাস গেল ডেভিডের কাছে, ফ্লিক করে লারিনের দিকে বল এগিয়ে দিলেন ডেভিড। ভলিতে দারুণভাবে বল জালে জড়িয়ে দিলেন লারিন।

টরন্টো মাতল উচ্ছ্বাসে। কানাডা নাম লেখাল ইতিহাসে।

সম্পর্কিত