Advertisement Banner

পেট ভালো রাখতে কী খাবেন? প্রিবায়োটিক নাকি প্রোবায়োটিক

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
পেট ভালো রাখতে কী খাবেন? প্রিবায়োটিক নাকি প্রোবায়োটিক
প্রিবায়োটিক খাবার। ছবি: ম্যাগনিফিক

আজকাল ফিটনেস আর ডায়েট দুনিয়ায় একটা শব্দ খুব বেশি শোনা যাচ্ছে— ‘গাট হেলথ’ বা অন্ত্রের স্বাস্থ্য। শুধু ওজন কমানো নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে মানসিক স্বস্তির জন্য অন্ত্রের সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি। গাট হেলথ ঠিক রাখার সবচেয়ে ভালো উপাদান হলো প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক খাবার। স্বাস্থ্য সচেতনতার এগুলোকে সুপারফুড ভাবছেন। কিন্তু এই দুটি আসলে কী এবং কীভাবে আমাদের শরীরে কাজ করে?

প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক উভয়ই আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখলেও তবে তাদের কাজ আলাদা।

প্রোবায়োটিক হলো এমন উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যেগুলো আমরা খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করি এবং অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি হজমে সাহায্য করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।

প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে– টক দই, পান্তা ভাত, ঘোল/লাচ্ছি, ঘরে তৈরি আচার, কিছু ফারমেন্টেড সবজি (যেমন– গাজর , শসা ও বিট) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে, প্রিবায়োটিক হলো ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, যা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং তাদের বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি আমরা সরাসরি হজম করতে না পারলেও আমাদের পেটের মধ্যে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া এগুলো খেয়ে বাঁচে এবং ভালো থাকে।

প্রিবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে– ডাল, শিম, মটরশুঁটি, কাঁচা কলা, রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অর্থাৎ, প্রোবায়োটিক হলো উপকারী ব্যাকটেরিয়া আর প্রিবায়োটিক হলো সেই ব্যাকটেরিয়ার খাবার, যা একসাথে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

প্রোবায়োটিক খাবার। ছবি: ম্যাগনিফিক
প্রোবায়োটিক খাবার। ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রোবায়োটিকের উপকারিতা

  • হজমশক্তি উন্নত করে
  • ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর
  • কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে সহায়তা করে
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে
  • অন্ত্রের ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে
  • কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগ ও বিষন্নতার উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে
  • প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
  • ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে

প্রিবায়োটিকের উপকারিতা

  • অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায়
  • হজমতন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
  • ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজের শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
  • অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে।

প্রিবায়োটিক না প্রোবায়োটিক– কোনটি ভালো?

প্রিবায়োটিক এবং প্রোবায়োটিক একসঙ্গে গ্রহণ করলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। প্রোবায়োটিকের সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে আপনাকে প্রিবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এতে হজম প্রক্রিয়ার দ্রুত উন্নতির পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও উপকার করে।

অন্ত্রে ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য এ দুধরণের খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

তবে সঠিক পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে একজন পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলা ভালো। প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন

সম্পর্কিত