চরচা ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের ফলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি করছে। বিশেষ করে এআই এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, সেগুলোকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার মতো কাজে মানুষের চাহিদা বাড়ছে। তা ছাড়া নতুন প্রজন্মের এই কাজগুলোতে এমন কিছু দক্ষতার প্রয়োজন, যা মানুষের স্পর্শ ছাড়া সম্ভব নয়।
আগে ডেটা অ্যানোটেটর বা তথ্য বিশ্লেষণের কাজে সাধারণত স্বল্প মজুরিতে অস্থায়ী লোক নিয়োগ করা হতো। কিন্তু এআই মডেল যত উন্নত হচ্ছে, অর্থনীতি, আইন ও চিকিৎসা শাস্ত্রের মতো বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা এখন প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। বট তৈরির বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য ‘মারকোর’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে, যাদের প্রধান নির্বাহী ব্রেন্ডন ফুডির মতে, সেখানে বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে ঘণ্টায় গড়ে ৯০ ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বটদের প্রশিক্ষণ শেষ হলে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হয় ‘ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’ (এফডিই)। এই ধারণার পথিকৃৎ সফটওয়্যার জায়ান্ট পালান্টির। এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মীদের দুঃসাহসিক কাজের গল্প দিয়ে উদ্বুদ্ধ করে। পালান্টির-এর এক সাবেক এফডিই তার ব্লগপোস্টে লিখেছিলেন যে, শুরুতে মাত্র দুজন কর্মী নিয়ে কান্দাহারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে তাদের নামানো হয়েছিল এবং পালো আল্টো সদর দপ্তর থেকে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জয় করে ফেরার। বাস্তবে এই কাজগুলো মূলত ডেভেলপার, পরামর্শক ও বিক্রয়কর্মীর এক মিশ্র রূপ। তারা ক্লায়েন্টের কর্মস্থলে সরাসরি গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী এআই টুল চালু করেন। ইনকিউবেটর ওয়াই কম্বিনেটরের প্রধান গ্যারি ট্যান জানান, তাদের তরুণ কোম্পানিগুলোতে বর্তমানে এফডিই পদের জন্য ৬৩টি চাকরির বিজ্ঞাপন রয়েছে, যা গত বছরে ছিল মাত্র চারটি।

এআই এজেন্ট ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে নির্মাতাদের বুঝতে হচ্ছে যে, এই টুলগুলো মানবিক ক্ষেত্রে কেমন আচরণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, একজন কাস্টমার-সার্ভিস এজেন্ট তৈরিকারী প্রোগ্রামারকে বুঝতে হবে যে, কেন একজন বিরক্ত গ্রাহক মানুষের সাথে কথা বলার জন্য বারবার ‘শূন্য’ (০) বোতাম চাপেন। স্কিল-ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি কর্নারস্টোন অনডিমান্ডের প্রধান নির্বাহী হিমাংশু পালসুলে ডেভেলপারদের কাজের পরিবর্তন বোঝাতে ওয়েমো রোবোট্যাক্সির উদাহরণ দেন। ওয়েমোর গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চললেও গাড়িটি যদি কখনো নষ্ট হয়ে যায় এবং যাত্রীরা ভেতরে আটকে পড়েন, তখন এমন একজন ‘মানব ট্রাবলশুটার’-এর প্রয়োজন হয়, যিনি প্রযুক্তি ও আতঙ্কিত যাত্রী—উভয়কেই সামলাতে জানবেন। পালসুলে মনে করেন, আগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের শুধু কোডিং দক্ষতার মূল্যায়ন করা হতো, কিন্তু এখন কোড যেহেতু অ্যালগরিদমের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা সম্ভব, তাই মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আচরণই এখন আসল সম্পদ।
এরপর আসে নিয়ম-কানুন ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়। এআই এজেন্টরা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, তা দেখার জন্য নিরন্তর মানবনিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সিস্কোর নেতৃত্বে গঠিত ‘এআই ওয়ার্কফোর্স কনসোর্টিয়াম’ সম্প্রতি উন্নত দেশগুলোর ৫০টি প্রযুক্তিবিষয়ক চাকরি বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, এআই প্রোগ্রামারদের চেয়ে এআই ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাদের কাজ হলো বটগুলো যেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস না করে বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত না করে তা নিশ্চিত করা।
এই সব নতুন ভূমিকাকে সমন্বয় করার জন্য বর্তমানে ‘প্রধান এআই কর্মকর্তা’ পদটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা এখন বোর্ডকে আশ্বস্ত করতে চান যে তারা এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন। আইবিএম-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে ১১টি জেনারেটিভ-এআই মডেল ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে এজেন্ট কেনার চাপে থাকে। সব মিলিয়ে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে এখন ‘মানুষ’ ক্রমে একটি অত্যাবশ্যক চাহিদায় পরিণত হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের ফলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি করছে। বিশেষ করে এআই এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, সেগুলোকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার মতো কাজে মানুষের চাহিদা বাড়ছে। তা ছাড়া নতুন প্রজন্মের এই কাজগুলোতে এমন কিছু দক্ষতার প্রয়োজন, যা মানুষের স্পর্শ ছাড়া সম্ভব নয়।
আগে ডেটা অ্যানোটেটর বা তথ্য বিশ্লেষণের কাজে সাধারণত স্বল্প মজুরিতে অস্থায়ী লোক নিয়োগ করা হতো। কিন্তু এআই মডেল যত উন্নত হচ্ছে, অর্থনীতি, আইন ও চিকিৎসা শাস্ত্রের মতো বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা এখন প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। বট তৈরির বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য ‘মারকোর’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে, যাদের প্রধান নির্বাহী ব্রেন্ডন ফুডির মতে, সেখানে বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে ঘণ্টায় গড়ে ৯০ ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বটদের প্রশিক্ষণ শেষ হলে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হয় ‘ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’ (এফডিই)। এই ধারণার পথিকৃৎ সফটওয়্যার জায়ান্ট পালান্টির। এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মীদের দুঃসাহসিক কাজের গল্প দিয়ে উদ্বুদ্ধ করে। পালান্টির-এর এক সাবেক এফডিই তার ব্লগপোস্টে লিখেছিলেন যে, শুরুতে মাত্র দুজন কর্মী নিয়ে কান্দাহারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে তাদের নামানো হয়েছিল এবং পালো আল্টো সদর দপ্তর থেকে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জয় করে ফেরার। বাস্তবে এই কাজগুলো মূলত ডেভেলপার, পরামর্শক ও বিক্রয়কর্মীর এক মিশ্র রূপ। তারা ক্লায়েন্টের কর্মস্থলে সরাসরি গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী এআই টুল চালু করেন। ইনকিউবেটর ওয়াই কম্বিনেটরের প্রধান গ্যারি ট্যান জানান, তাদের তরুণ কোম্পানিগুলোতে বর্তমানে এফডিই পদের জন্য ৬৩টি চাকরির বিজ্ঞাপন রয়েছে, যা গত বছরে ছিল মাত্র চারটি।

এআই এজেন্ট ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে নির্মাতাদের বুঝতে হচ্ছে যে, এই টুলগুলো মানবিক ক্ষেত্রে কেমন আচরণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, একজন কাস্টমার-সার্ভিস এজেন্ট তৈরিকারী প্রোগ্রামারকে বুঝতে হবে যে, কেন একজন বিরক্ত গ্রাহক মানুষের সাথে কথা বলার জন্য বারবার ‘শূন্য’ (০) বোতাম চাপেন। স্কিল-ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি কর্নারস্টোন অনডিমান্ডের প্রধান নির্বাহী হিমাংশু পালসুলে ডেভেলপারদের কাজের পরিবর্তন বোঝাতে ওয়েমো রোবোট্যাক্সির উদাহরণ দেন। ওয়েমোর গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চললেও গাড়িটি যদি কখনো নষ্ট হয়ে যায় এবং যাত্রীরা ভেতরে আটকে পড়েন, তখন এমন একজন ‘মানব ট্রাবলশুটার’-এর প্রয়োজন হয়, যিনি প্রযুক্তি ও আতঙ্কিত যাত্রী—উভয়কেই সামলাতে জানবেন। পালসুলে মনে করেন, আগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের শুধু কোডিং দক্ষতার মূল্যায়ন করা হতো, কিন্তু এখন কোড যেহেতু অ্যালগরিদমের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা সম্ভব, তাই মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আচরণই এখন আসল সম্পদ।
এরপর আসে নিয়ম-কানুন ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়। এআই এজেন্টরা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, তা দেখার জন্য নিরন্তর মানবনিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সিস্কোর নেতৃত্বে গঠিত ‘এআই ওয়ার্কফোর্স কনসোর্টিয়াম’ সম্প্রতি উন্নত দেশগুলোর ৫০টি প্রযুক্তিবিষয়ক চাকরি বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, এআই প্রোগ্রামারদের চেয়ে এআই ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাদের কাজ হলো বটগুলো যেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস না করে বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত না করে তা নিশ্চিত করা।
এই সব নতুন ভূমিকাকে সমন্বয় করার জন্য বর্তমানে ‘প্রধান এআই কর্মকর্তা’ পদটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা এখন বোর্ডকে আশ্বস্ত করতে চান যে তারা এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন। আইবিএম-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে ১১টি জেনারেটিভ-এআই মডেল ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে এজেন্ট কেনার চাপে থাকে। সব মিলিয়ে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে এখন ‘মানুষ’ ক্রমে একটি অত্যাবশ্যক চাহিদায় পরিণত হচ্ছে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি এবং আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে দেশটির গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের ফলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি করছে। বিশেষ করে এআই এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, সেগুলোকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার মতো কাজে মানুষের চাহিদা বাড়ছে।