চরচা ডেস্ক

ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। এটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান খবর। ইসরায়েলের পেছনে স্পষ্টভাবেই দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সামরিক ক্ষমতার হিসাব কষলে ইরান দাঁড়িপাল্লায় কিছুটা কম ওজনই পাবে। তারপরও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করেছে তেহরান।
ইরান তবে কীসের জোরে এভাবে পাল্টা হামলা চালানোর পথে এল? আসুন, জেনে নেওয়া যাক, সামরিক শক্তির দিক থেকে কেন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র, সেই বিষয়টির আদ্যোপান্ত।
পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সমীহ করা হয় মূলত একটি অস্ত্রের কারণে, ক্ষেপণাস্ত্র। নিজেদের সামর্থ্যেই এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে ইরান, যেগুলোর কারণে ইসরায়েলসহ অন্যান্য বিরোধী রাষ্ট্রের ইরানকে ভয় না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কম থাকায় আকাশপথে শত্রুকে লন্ডভন্ড করা ইরানের পক্ষে কঠিন। ওপরে ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দেখলেও সেটা বোঝা সহজ। তাই পরিকল্পিতভাবেই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করায় মনোযোগ দেয় ইরান।
দেশটির অন্যতম বিরোধী শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র। সেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের দেওয়া তথ্যই বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুত আছে ইরানের। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের অফিস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল আছে কেবল ইরানেরই।

খুব নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে না পারলেও এসব মিসাইল বিক্ষিপ্তভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। এটা অনেকটা আমেরিকান স্টাইলে ব্রাশফায়ার করার মতো বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসরায়েল, সৌদি আরবসহ পারস্য অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আছে। ফলে শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি সাধনের ক্ষমতা ইরানের ভালোই আছে। আর এটাই বিরোধীপক্ষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলতে যথেষ্ট।
ইসরায়েলে পৌঁছে আঘাত করার মতো ৯ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আছে ইরানের। এগুলোর মধ্যে আছে ‘সেজিল’, ‘খেইবার’ ও ‘হাজ কাসেম’। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির নামেই শেষ মিসাইলটির নামকরণ করা হয়েছে। এটির সীমা প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার। সেজিলের সীমা সবচেয়ে বেশি, আড়াই হাজার কিলোমিটার। খেইবারের সীমা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার।
মার্কিন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অস্ত্রভান্ডারে স্বল্প ও মধ্যমপাল্লার নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এক ডজনের বেশি ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আছে ইরানের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) বলছে, ইরানের ৫০টির বেশি মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার ও ১০০টির বেশি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার রয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা দ্য আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ইরানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বহরে আছে ‘শাহাব–১’, ‘জোলফাঘার’, ‘শাহাব–৩’, ‘ইমাদ–১’ প্রভৃতি। এর মধ্যে শাহাব–১–এর সীমা ৩০০ কিলোমিটার, জোলফাঘারের সীমা ৭০০ কিলোমিটার, শাহাব–৩–এর সীমা ৮০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার। ইমাদ–১ এখনো তৈরির পর্যায়ে আছে, এর সীমা ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া ‘কিয়াম-১’ নামের ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৭০০ কিলোমিটারের বেশি। ৭৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে এটি।
ইরানের কাছে ক্রুজ মিসাইলও আছে। এর মধ্যে অন্যতম ভয়ানক হলো ‘কেএইচ–৫৫’। এটি আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা যায় এবং এটি পরমাণু অস্ত্রও বহন করতে সক্ষম। এর সীমা প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। এ ছাড়া জাহাজবিধ্বংসী উন্নত মিসাইল হিসেবে আছে ‘খালিদ ফারয’। ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ১ হাজার কেজির ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার নকশায় তৈরি। দেশটির পুরো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীতেই চীনের সহায়তা দৃশ্যমান।
একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক মিসাইল কর্মসূচীও চালাচ্ছে ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় বিভিন্ন রাষ্ট্র এই কর্মসূচীর চরম বিরোধিতা করে আসছে। তবে সেসবে কান দেয়নি ইরান। বরং তাতে অবিচল থাকাতেই মধ্যপ্রাচ্যের ‘মিসাইল–স্টেট’–এ পরিণত হয়েছে দেশটি।
এবার বুঝুন, এত ক্ষেপণাস্ত্র থাকা ইরানকে ভয় না পাওয়ার কি কারণ আছে?
ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনেও ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। এবং সেটি বেশ দ্রুত গতিতে। আজ শনিবারও তারা ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।

প্রায় ১০ বছর ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করছে ইরান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মনুষ্যবিহীন এসব ড্রোন। নিজেরা ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্রদের কাছেও এই প্রযুক্তি সরবরাহ করছে ইরান।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অতি উন্নত মানের নয় ইরানের ড্রোন। এক্ষেত্রে নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পরে বিকল্প হিসেবে ‘সুইসাইড ড্রোন’ তৈরির দিকেও নজর দিয়েছে ইরান। ‘রাদ ৮৫’ নামের এসব ড্রোনে বিস্ফোরক যুক্ত করে সেগুলো দিয়ে চালানো যায় আত্মঘাতী হামলা।
ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল বহর আছে ইরানের। এমনকি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার খবরও দেশটি দিয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি। দেশটি নিজেও এ–সংক্রান্ত দাবি কখনো করেনি।
তবে তাই বলে ইরান যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে একেবারেই নবিশ, সেটি মনে করার কারণ নেই। পশ্চিমা দেশগুলো প্রতিনিয়তই ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও এ–সংক্রান্ত প্রযুক্তিজ্ঞান রয়েছে।
২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের অন্যতম সফল কর্মকাণ্ড হিসেবে ওই চুক্তি আলোচিত ছিল। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন।
মনে রাখতে হবে, পরমাণু শক্তিধর অন্তত তিনটি দেশের সঙ্গে ইরানের ভালো সম্পর্ক আছে। সেদিক থেকে ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে জোরেশোরে এগোনোর চেষ্টা করে, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে বেশ চাপের মুখে আছে ইরান। ইসরায়েলে হামলা চালানোয় সেই চাপ আরও বাড়বে বৈ কমবে না।
এক কথায়, ইরানকে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে ইসরায়েলের। ইরানের বদলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ হলে ত্বরিত গতিতে পাল্টা পদক্ষেপ নিত ইসরায়েল। তবে এখন কিছুটা ধীরে চলো নীতিতেই আছে দেশটি। এর মূল কারণ হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–ভান্ডার ও হালের ড্রোন হামলার সামর্থ্য। আপনি যখন বুঝবেন যে, শত্রুপক্ষের বন্দুকের নল আপনার দিকেই ঘোরানো এবং চাইলে ওই পক্ষ গুলি ছুড়ে আপনাকে জখমও করতে পারে, তখন স্বাভাবিকভাবেই হঠকারিতা ও দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়া আপনার প্রধান কাজ হবে না। তবে এবার ইসরায়েল ও আমেরিকা হামলার পর হামলা করেই যাচ্ছে। এই সংঘাত কোনদিকে যাবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।

ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। এটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান খবর। ইসরায়েলের পেছনে স্পষ্টভাবেই দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সামরিক ক্ষমতার হিসাব কষলে ইরান দাঁড়িপাল্লায় কিছুটা কম ওজনই পাবে। তারপরও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করেছে তেহরান।
ইরান তবে কীসের জোরে এভাবে পাল্টা হামলা চালানোর পথে এল? আসুন, জেনে নেওয়া যাক, সামরিক শক্তির দিক থেকে কেন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র, সেই বিষয়টির আদ্যোপান্ত।
পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সমীহ করা হয় মূলত একটি অস্ত্রের কারণে, ক্ষেপণাস্ত্র। নিজেদের সামর্থ্যেই এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে ইরান, যেগুলোর কারণে ইসরায়েলসহ অন্যান্য বিরোধী রাষ্ট্রের ইরানকে ভয় না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কম থাকায় আকাশপথে শত্রুকে লন্ডভন্ড করা ইরানের পক্ষে কঠিন। ওপরে ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দেখলেও সেটা বোঝা সহজ। তাই পরিকল্পিতভাবেই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করায় মনোযোগ দেয় ইরান।
দেশটির অন্যতম বিরোধী শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র। সেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের দেওয়া তথ্যই বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুত আছে ইরানের। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের অফিস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল আছে কেবল ইরানেরই।

খুব নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে না পারলেও এসব মিসাইল বিক্ষিপ্তভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। এটা অনেকটা আমেরিকান স্টাইলে ব্রাশফায়ার করার মতো বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসরায়েল, সৌদি আরবসহ পারস্য অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আছে। ফলে শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি সাধনের ক্ষমতা ইরানের ভালোই আছে। আর এটাই বিরোধীপক্ষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলতে যথেষ্ট।
ইসরায়েলে পৌঁছে আঘাত করার মতো ৯ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আছে ইরানের। এগুলোর মধ্যে আছে ‘সেজিল’, ‘খেইবার’ ও ‘হাজ কাসেম’। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির নামেই শেষ মিসাইলটির নামকরণ করা হয়েছে। এটির সীমা প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার। সেজিলের সীমা সবচেয়ে বেশি, আড়াই হাজার কিলোমিটার। খেইবারের সীমা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার।
মার্কিন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অস্ত্রভান্ডারে স্বল্প ও মধ্যমপাল্লার নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এক ডজনের বেশি ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আছে ইরানের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) বলছে, ইরানের ৫০টির বেশি মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার ও ১০০টির বেশি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার রয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা দ্য আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ইরানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বহরে আছে ‘শাহাব–১’, ‘জোলফাঘার’, ‘শাহাব–৩’, ‘ইমাদ–১’ প্রভৃতি। এর মধ্যে শাহাব–১–এর সীমা ৩০০ কিলোমিটার, জোলফাঘারের সীমা ৭০০ কিলোমিটার, শাহাব–৩–এর সীমা ৮০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার। ইমাদ–১ এখনো তৈরির পর্যায়ে আছে, এর সীমা ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া ‘কিয়াম-১’ নামের ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৭০০ কিলোমিটারের বেশি। ৭৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে এটি।
ইরানের কাছে ক্রুজ মিসাইলও আছে। এর মধ্যে অন্যতম ভয়ানক হলো ‘কেএইচ–৫৫’। এটি আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা যায় এবং এটি পরমাণু অস্ত্রও বহন করতে সক্ষম। এর সীমা প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। এ ছাড়া জাহাজবিধ্বংসী উন্নত মিসাইল হিসেবে আছে ‘খালিদ ফারয’। ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ১ হাজার কেজির ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার নকশায় তৈরি। দেশটির পুরো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীতেই চীনের সহায়তা দৃশ্যমান।
একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক মিসাইল কর্মসূচীও চালাচ্ছে ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় বিভিন্ন রাষ্ট্র এই কর্মসূচীর চরম বিরোধিতা করে আসছে। তবে সেসবে কান দেয়নি ইরান। বরং তাতে অবিচল থাকাতেই মধ্যপ্রাচ্যের ‘মিসাইল–স্টেট’–এ পরিণত হয়েছে দেশটি।
এবার বুঝুন, এত ক্ষেপণাস্ত্র থাকা ইরানকে ভয় না পাওয়ার কি কারণ আছে?
ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনেও ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। এবং সেটি বেশ দ্রুত গতিতে। আজ শনিবারও তারা ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।

প্রায় ১০ বছর ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করছে ইরান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মনুষ্যবিহীন এসব ড্রোন। নিজেরা ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্রদের কাছেও এই প্রযুক্তি সরবরাহ করছে ইরান।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অতি উন্নত মানের নয় ইরানের ড্রোন। এক্ষেত্রে নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পরে বিকল্প হিসেবে ‘সুইসাইড ড্রোন’ তৈরির দিকেও নজর দিয়েছে ইরান। ‘রাদ ৮৫’ নামের এসব ড্রোনে বিস্ফোরক যুক্ত করে সেগুলো দিয়ে চালানো যায় আত্মঘাতী হামলা।
ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল বহর আছে ইরানের। এমনকি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার খবরও দেশটি দিয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি। দেশটি নিজেও এ–সংক্রান্ত দাবি কখনো করেনি।
তবে তাই বলে ইরান যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে একেবারেই নবিশ, সেটি মনে করার কারণ নেই। পশ্চিমা দেশগুলো প্রতিনিয়তই ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও এ–সংক্রান্ত প্রযুক্তিজ্ঞান রয়েছে।
২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের অন্যতম সফল কর্মকাণ্ড হিসেবে ওই চুক্তি আলোচিত ছিল। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন।
মনে রাখতে হবে, পরমাণু শক্তিধর অন্তত তিনটি দেশের সঙ্গে ইরানের ভালো সম্পর্ক আছে। সেদিক থেকে ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে জোরেশোরে এগোনোর চেষ্টা করে, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে বেশ চাপের মুখে আছে ইরান। ইসরায়েলে হামলা চালানোয় সেই চাপ আরও বাড়বে বৈ কমবে না।
এক কথায়, ইরানকে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে ইসরায়েলের। ইরানের বদলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ হলে ত্বরিত গতিতে পাল্টা পদক্ষেপ নিত ইসরায়েল। তবে এখন কিছুটা ধীরে চলো নীতিতেই আছে দেশটি। এর মূল কারণ হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–ভান্ডার ও হালের ড্রোন হামলার সামর্থ্য। আপনি যখন বুঝবেন যে, শত্রুপক্ষের বন্দুকের নল আপনার দিকেই ঘোরানো এবং চাইলে ওই পক্ষ গুলি ছুড়ে আপনাকে জখমও করতে পারে, তখন স্বাভাবিকভাবেই হঠকারিতা ও দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়া আপনার প্রধান কাজ হবে না। তবে এবার ইসরায়েল ও আমেরিকা হামলার পর হামলা করেই যাচ্ছে। এই সংঘাত কোনদিকে যাবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।