Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

মার্কিন আদালত কি প্রেসিডেন্টকে ‘একনায়কতন্ত্রের’ দিকে নিয়ে যাচ্ছেন?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১০: ১৩
মার্কিন আদালত কি প্রেসিডেন্টকে ‘একনায়কতন্ত্রের’ দিকে নিয়ে যাচ্ছেন?

অনেক বছর আগের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) তৎকালীন কমিশনার উইলিয়াম হামফ্রে যখন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্টের ‘নিউ ডিল’ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন, তখন রুজভেল্ট মাত্র এক লাইনের একটি চিঠি লিখে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু হামফ্রে এত সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলেন না। তিনি এই বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন এবং মৃত্যুর পর সুপ্রিম কোর্টে জয়ী হন। প্রায় এক শতাব্দী ধরে সুপ্রিম কোর্ট ‘হামফ্রেইজ এক্সিকিউটর বনাম ইউনাইটেড স্টেটস’ মামলার সেই রায়কে আইনি দৃষ্টান্ত হিসেবে মেনে আসছিল।

ওই রায়ে বলা হয়েছিল—স্বাধীন সংস্থাগুলোর কমিশনারদের যাতে প্রেসিডেন্ট সরাসরি নিজের ইচ্ছামতো সরিয়ে দিতে না পারেন, কংগ্রেস তাদের সেই আইনি সুরক্ষা দিতে পারবে।

তবে গত ২৯ জুন আদালত ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলায় সেই দীর্ঘদিনের আইনি নিয়মটি বাতিল করে দিয়েছে। ৬-৩ ভোটে আদালতের বিচারকরা হামফ্রে মামলার সেই ঐতিহাসিক আইনি সুরক্ষা বিলুপ্ত করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আদালতের ১০৮ পৃষ্ঠার দীর্ঘ মতামতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম খুব একটা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি এখন এমন এক ক্ষমতা পেয়ে গেছেন, যা তিনি একসময় নিজের রিয়েলিটি শো-তে খুব আনন্দের সাথে বলতেন—’ইউ আর ফায়ার্ড’ (তোমার চাকরি শেষ)।

তিনি এখন নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো অধীনস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করতে পারবেন। এই ক্ষমতার ব্যবহার তিনি কতটা আগ্রাসীভাবে করবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তার প্রেসিডেন্সির পরবর্তী অধ্যায়ের রূপরেখা।

এই রায়ের পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, “গত ১০০ বছরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা।”

এবার একটু পেছনের গল্পে ফেরা যাক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসেই কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বের করার ধুম লাগিয়েছেন। প্রচলিত নিয়ম ও আইন ভেঙে তিনি এমন সব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়েছেন, যাদের চাকরি সাধারণত কোন দল ক্ষমতায় এলো বা গেল—তার ওপর নির্ভর করে না।

ছবি তোলা নিয়ে ট্রাম্প-মেলোনির বিরোধ, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাতিলmeloni-trump

এই কর্মকর্তাদের কয়েকজন নিম্ন আদালতে মামলা করে জিতেও গিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট কোনো সই ছাড়াই ছোট এক আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্পের এই বরখাস্তগুলোকে নীরবে অনুমোদন দেয়।

এর মাধ্যমে সরকারের ভেতর স্বাধীনভাবে কাজ করার যে শেষ কয়েকটি জায়গা ছিল, সেগুলোকে অকেজো করার সুযোগ পেয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

এই প্রসঙ্গে গত বছর ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, “আদালত অবশ্য বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, এই সিদ্ধান্তটি সাময়িক এবং বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, মামলা চলাকালীন বারবার কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে সরানো এবং আবার ফেরত আনার ঝামেলা বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ।”

ওই নিবন্ধে আরও বলা হয়, “কিন্তু আসলে এই সিদ্ধান্তটি ছিল এক চরম ধাক্কা। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কতটুকু তা নিয়ে যার যা-ই মত হোক না কেন, আদালতের এভাবে মামলাটি শেষ করা ঠিক হয়নি। কোনো বড় ধরনের শুনানি বা দীর্ঘ আলোচনা ছাড়াই তারা প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনকে এক ঝটকায় বাতিল করে দিল।

আর এই বড় কাজটি তারা করল কোনো শক্ত যুক্তি ছাড়াই, মাত্র দুই পাতার এক সই ছাড়া আদেশের মাধ্যমে, যা ট্রাম্পের হাতে এক বিশাল নতুন ক্ষমতা তুলে দিল।”

এখন বড় প্রশ্ন হলো—দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প যেভাবে পুরোনো নিয়ম ভাঙছেন, আর সুপ্রিম কোর্ট তাতে সায় দিয়ে যাচ্ছে, তাতে কি ট্রাম্প একনায়কতন্ত্রের দিকেই এগোচ্ছেন?

ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ জানায়, প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই মামলার মূল রায়টি (মেজরিটি অপিনিয়ন) লিখেছেন এবং আদালতের বাকি পাঁচজন রক্ষণশীল বিচারক তার সাথে একমত হয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, সংবিধান প্রণেতারা শাসন বিভাগের সমস্ত ক্ষমতা ‘একজনের হাতে’ সঁপে দিয়েছেন।

এই কথার মাধ্যমে ‘ইউনিটারি এক্সিকিউটিভ থিওরি’ বা ‘একক শাসন ক্ষমতার নীতি’টি খুব সংক্ষেপে ফুটে উঠেছে। এই তত্ত্বটি হলো রাষ্ট্রপতির বিশাল ক্ষমতার এমন এক ধারণা, যা কয়েক দশক ধরে রক্ষণশীল আইনি চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে আসছে।

আশির দশকের শেষের দিকে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি আন্তোনিন স্কালিয়া একদম একা এই তত্ত্বের পক্ষে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তার সমমনা বিচারকরা আদালতে যোগ দিতে শুরু করেন, তখন সুপ্রিম কোর্ট আস্তে আস্তে পুরোনো হামফ্রে মামলার আইনি সুরক্ষাকে দুর্বল করতে থাকে।

২০২০ সালে ‘কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো’র একটি মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত দেয় যে, একজন মাত্র পরিচালক দিয়ে চলা স্বাধীন সংস্থাগুলোর প্রধানদের বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট আরও বেশি স্বাধীনতা পাবেন।

অত্যাধুনিক এআই মডেল ব্যবহার সীমিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসনopenAI

এক বছর পর, ‘ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি’র আরেকটি একই রকম মামলায় আদালত সেই ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে এফটিসির মতো বহুজনবিশিষ্ট কমিটিতে চলা স্বাধীন সংস্থাগুলোর আইনি সুরক্ষা তখনও বজায় ছিল।

কিন্তু ’স্লটার’ মামলার এই নতুন রায়ের পর সেই সুরক্ষাও শেষ হয়ে গেল। রবার্টস লিখেছেন, “হামফ্রে মামলার আর কোনো কিছু যদি বাকি থেকেও থাকে, তবে আমরা তা বাতিল করে দিলাম। হামফ্রে মামলাটি কয়েক দশক ধরে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই স্রেফ টিকে ছিল।”

আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া আপত্তি জানিয়েছেন বিচারপতি সোনিয়া সোতোমেয়র। আদালতে নিজের আপত্তির সারসংক্ষেপ পড়ে শোনানোর মতো বিরল ঘটনাও ঘটান তিনি। তার সাথে একমত পোষণ করেন বাকি দুই উদারপন্থী বিচারক—কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং এলিনা কাগান।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

সোতোমেয়র যুক্তি দেন যে, মেজরিটি বিচারকরা এখন যেভাবে এই অবস্থানের পক্ষে একযোগে দাঁড়িয়েছেন, এর নজির আগে তেমন দেখা যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন যে, বেশিরভাগ বিচারকরা নব্বই বছরের সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়মকে গোঁজামিল দিয়ে বদলে দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, “ভবিষ্যতের জন্য একটা জিনিসই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, আর তা হলো—সামনে চরম বিশৃঙ্খলা নেমে আসবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই রায়ের ফলে এমন সব সরকারি সংস্থা অচল হয়ে পড়বে, যেগুলো গড়ে উঠেছিল এই বিশ্বাসের ওপর যে—কিছু সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং নিরপেক্ষ দলগুলোর মাধ্যমে নেওয়া উচিত।

আপত্তি জানানো এই বিচারকরা আরও বড় বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই রায়ের ফলে নিচের পদের কর্মকর্তা এবং হয়তো ২০ লাখ সরকারি চাকুরিজীবীর একটি বড় অংশের আইনি সুরক্ষাও এখন ঝুঁকির মুখে পড়ে গেল।

কারণ, এদের অনেকেই তো সরকারের কোনো না কোনো শাসন ক্ষমতার চর্চা করেন। ট্রাম্প ইতিমধ্যে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীকে চাকরি থেকে বের করে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো—কাউকে চাকরি থেকে সরানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেস ট্রাম্পের ওপর কোনো নিয়ম চাপাতে পারবে কি না।

প্রেসিডেন্টের নিজের প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা গেছে যে তিনি এই রায়ের ভবিষ্যৎ সুবিধা কতখানি তা বুঝতে পেরেছেন। তিনি আগেও দাবি করেছিলেন যে, সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল ২) অনুযায়ী শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি ‘যা খুশি তা-ই’ করতে পারেন।

তবে এই সুরক্ষা আইনের পরিবর্তন আবার সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

এত কিছুর পরেও সুপ্রিম কোর্ট তাদের এই একক শাসন ক্ষমতার নীতিতে একটি বড় ব্যতিক্রম রেখেছে। ‘ট্রাম্প বনাম কুক’ নামক একটি আলাদা মামলায় আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার অনুমতি দেননি।

লিসা কুক একটি মর্টগেজ আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন—ট্রাম্পের এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আদালত তাকে সরানোর অনুমতি দেয়নি। মাত্র ৫-৪ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এক আদেশে রবার্টস বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ (আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক) সংবিধানে একটি ‘অনন্য জায়গায়’ রয়েছে।

এর মূল কারণ হলো—অর্থনৈতিক নীতিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখার এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এর ফলে একটি অদ্ভুত অসমতা তৈরি হলো, যা নিয়ে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটও তার আপত্তিতে নোট করেছেন।

প্রেসিডেন্ট এখন চাইলে শ্রমসম্পর্ক, শেয়ারবাজার বা পারমাণবিক সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রধানদের চাকরি থেকে বের করে দিতে পারবেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের টিকিও ছুঁতে পারবেন না।

এই স্ববিরোধী সিদ্ধান্তটি অনেক কিছুই বুঝিয়ে দেয়। ‘স্লটার’ মামলায় রবার্টস জোর দিয়ে বলেছেন যে, যারা শাসন ক্ষমতার দায়িত্বে আছেন তাদের প্রেসিডেন্টের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। অথচ ‘কুক’ মামলায় তিনি নিজেই মেনে নিচ্ছেন যে—অন্তত একজন শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বাইরেই থাকবেন।

এই ব্যতিক্রমটি কি শুধুই ফেডারেল রিজার্ভের জন্যই থাকবে, নাকি সামনে আরও বড় আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে একটি বিষয় পুরোপুরি পরিষ্কার—এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেল, যা শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নয়, বরং তার পরে আসা প্রতিটি প্রেসিডেন্টের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

দাম কমাতে জ্বালানি বিক্রেতাদেরকে আল্টিমেটাম দিলেন ট্রাম্পdonald trump

ইয়েল ইউনিভার্সিটির দর্শনের অধ্যাপক জেসন স্ট্যানলি, যিনি ২০২০ সালে ‘হাউ ফ্যাসিজম ওয়ার্কস’ নামে একটি আলোচিত বই লিখেছিলেন, ফ্যাসিবাদের স্বরূপ নিয়ে তার বিস্তারিত গবেষণা আছে।

২০১৮ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেসন স্ট্যানলি এক কথাতেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে, “ট্রাম্প ফ্যাসিবাদী রাজনীতিরই চর্চা করেন। তবে এর মানে এই নয় যে, তার সরকার ফ্যাসিবাদী। তবে হ্যাঁ, তিনি ফ্যাসিবাদী নানা কৌশল ব্যবহার করে থাকেন।”

অর্থাৎ, পুরো সরকার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ফ্যাসিবাদী না বানিয়েও একজন নেতা ফ্যাসিবাদী চরিত্রের হতে পারেন। এমন নেতারা বিভিন্ন কৌশলে নিজেকে ‘অনিবার্য ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন এবং পুরো সরকার ব্যবস্থা যেন তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়, সেটি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালান। এমন বৈশিষ্ট্য যে ট্রাম্পের মধ্যে আছে, সেটি মুখ বুজে অস্বীকার করাটা কঠিনই বটে।

প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

আর তাই খোদ আমেরিকাতেই ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ মনে করা জনতার সংখ্যা অনেক। তবে এর বিরোধী পক্ষও আছে বেশ। সমস্যা হচ্ছে, ট্রাম্পের একসময়ের কাছের লোকেরাই তাকে ফ্যাসিবাদী মনে করে থাকেন।

আগের মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ ছিলেন জন কেলি। কেলি বছরখানেক আগে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানেই বলেছেন, ফ্যাসিবাদের সাধারণ সংজ্ঞা অনুযায়ী ট্রাম্প অবশ্যই একজন ফ্যাসিস্ট।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প যেভাবে বিরোধী মত দমনে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের কথা বলেছেন, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করছেন, যেকোনো মতভিন্নতাকে কোণঠাসা করার কথা বলছেন, নির্বাচনী কর্মকর্তার বিচার করার বা বিচার বিভাগকে ছিন্নভিন্ন করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তাতে ফ্যাসিবাদী অনেক লক্ষণই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পকে শুধুই একজন উচ্চস্তরের পুঁজিবাদী বলেই মনে করেন। তাদের মতে, ট্রাম্প কেবল ব্যবসায়ী পুঁজিপতিদের নির্বিঘ্নে কাজ করতে দিতে চান, বেপরোয়া হতে দিতে চান; এবং এটি সম্ভব করার জন্যই তিনি যাবতীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট মনে না করা মানুষের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক ইয়ান-ভারনার মুলার ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ লেখা এক নিবন্ধে সরাসরি বলে দিয়েছেন, ট্রাম্প ফ্যাসিস্ট নন।

তার ভাষায়, উগ্র ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী একজন নেতা হলেন ট্রাম্প, তবে তাকে ফ্যাসিবাদী বলা যাবে না। ফ্যাসিবাদ এক ধরনের একনায়কতন্ত্র, তবে সব একনায়কই ফ্যাসিস্ট নন। ট্রাম্প ভোগসর্বস্ব পুঁজিবাদের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক।

তবে যুদ্ধে মরে যাওয়াকে তিনি মহিমান্বিত করতে চান না—যদিও যেকোনো কট্টর ফ্যাসিবাদী নেতা সর্বতোভাবে এটিই করে থাকেন। তাই ট্রাম্প কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী নন। অবশ্য তাই বলে, ট্রাম্প যে বিপজ্জনক নন, সেটিও বলা যাবে না।

অর্থাৎ, ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলেই ফ্যাসিস্ট কি না–সেই বিতর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে চলে আসাটা বেশ কঠিন। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক মত আছে। তবে এটি মানতেই হবে যে, ফ্যাসিবাদের বেশ কিছু লক্ষণ ট্রাম্পের আচার-আচরণে ও রাজনৈতিক কৌশলে, অন্তত বাহ্যিকভাবে বিরাজমান অবশ্যই। এখন তার মনের গহীনে শেষ পর্যন্ত কী ইচ্ছা লুকিয়ে আছে, তা তো আর কেউ জানে না!

বিষয়: বিচারকমামলাডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রসুপ্রিম কোর্ট
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড