
১১:১১ কেবল একটি সময় নয়, অনেকের কাছে এটি এক ধরনের ঘটনা। বিশ্বাস করা হয়, এই সংখ্যা বারবার দেখা মানে মহাবিশ্বের কোনো বার্তা বা আধ্যাত্মিক সামঞ্জস্যের ইঙ্গিত।

ভারতের পুনের জুপিটার হাসপাতালের মনোবিজ্ঞানী ডা. দীপ্তি কানাডে মোদক আরও বলেন, “একজন নার্সিসিস্ট কথা বলার সময় আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করেন, সঙ্গীর অনুভূতিকে খাটো করে দেখান কিংবা প্রতিটি দ্বন্দ্বে নিজেকে আবিষ্কার করে গল্প তৈরি করেন।

আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা কিছু বুঝে ওঠার আগে খুব দ্রুত প্রেমে পড়েন। মনোবিজ্ঞানীরা এই প্রবণতার একটি নাম দিয়েছেন। শুধু নাম দিয়েই খান্ত হননি। এর ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে সতর্কও করেছেন।

‘রাশোমন ইফেক্ট’ কি জানেন তো? একটি মাত্র ঘটনাকে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা। একটি ঘটনা যখন ঘটে তখন একেকজন একেকভাবে তা দেখে এবং বর্ণনা করে। একজনের বয়ান আরেকজনের বয়ানের একেবারে বিপরীত ও সাংঘর্ষিকও হতে পারে, এই অবস্থাকেই দর্শন ও মনোবিজ্ঞানে ‘রাশোমন ইফেক্ট’ বলে।

আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মনোবিজ্ঞানী ড. ডন পটার বলেছেন, বছরের শেষে বড়দিন, নববর্ষসহ নানা উৎসবকে ঘিরে জমায়েত, পারিবারিক আড্ডা ও সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রত্যাশাই অনেক সময় এই হলিডে ডিপ্রেশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে ‘ফ্রেন্ডস’ বা ‘দ্য বিগ ব্যাং থিওরি’র বা আমাদের দেশের ‘বন্ধন’ বা ‘আজ রবিবার’-এর মতো টিভি সিরিজ পুনরায় দেখা কেবল অভ্যাসের চেয়েও বেশি কিছু। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন এটি এক ধরণের ‘সেল্ফ কেয়ার’।

কেউ পড়ে গেলে হাসির আসার প্রথম উপাদান হলো আশ্চর্য হওয়া। বিশেষভাবে বলতে গেলে, দৈনন্দিন জীবনে কাউকে এমন অবস্থায় দেখা, যখন তিনি কয়েক সেকেন্ড আগেও সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন, হঠাৎই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হন। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি আমাদেরকে বিস্মিত করে।

১৯৯৮ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী জেমস বি মাস এর নাম দেয় 'পাওয়ার ন্যাপ' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। সে সময় তিনি কর্মক্ষেত্রে ছোট ঘুমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে সমর্থন করার জন্য এই শব্দটি চালু করেন।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, যখন স্বামী ঘরের কাজে সামান্য সহযোগিতাও করেন, তখন স্ত্রী তাকে আবারও সমান সঙ্গী ভাবা শুরু করেন। এতে ভালোবাসা, সম্মান এবং আকর্ষণ—সবকিছুই ফিরে আসে।

‘জিপ কোডিং’ নামে নতুন একটি ডেটিং অ্যাপ অনলাইন জগতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে লং-ডিস্ট্যান্স ডেটিংয়ের জটিলতায় বিরক্ত ব্যক্তিদের কাছে সম্পর্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে এই অ্যাপ স্মার্ট কৌশল মনে হতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পার্টনারের কথা বলার ভঙ্গি, হাসি, পছন্দ–এসব জিনিস খেয়াল করা সম্পর্ককে আবারও উষ্ণ করে তোলে। একটি সাধারণ বাক্য–‘তুমি হাসলে ঘরটা আলোকিত হয়ে যায়’– সম্পর্কে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই পদ্ধতি ব্যবহারে ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক নতুন অভ্যাস তৈরি করে। যে অভ্যাসে কাজ ফেলে রাখার বদলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করার ঝোঁক বাড়ে।