চরচা ডেস্ক

“ভালোবাসার কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নেই। অবহেলা বা নার্সিসিজম দিয়ে একে হত্যা করা হয়।’’ বিখ্যাত আমেরিকান লেখক ফ্র্যাঙ্ক সালভাতরের আলোচিত উদ্ধৃতি এটি।
যে কোনো সম্পর্কেই সম্মান, ভালোবাসা, যত্ন এবং বোঝাপড়া প্রয়োজন। কিন্তু যখন একজন ব্যক্তি নিজের গুরুত্বকে অতিরিক্ত বড় করে দেখেন, সবসময় বাড়তি মনোযোগ আশা করেন এবং চান সবাই তাকে প্রশংসা করুক, তখন অজান্তেই তিনি তার সঙ্গীকে দূরে ঠেলে দিতে শুরু করেন। এটিই হলো নার্সিসিস্টিক (আত্মমুগ্ধ) ব্যক্তিত্বের উদাহরণ।
আমেরিকার মায়ো ক্লিনিকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার (এনপিডি) জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করে। যেমন: অর্থনৈতিক বিষয়, কাজ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক। এই ধরনের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষরা যখন প্রত্যাশিত মনোযোগ পান না, তখন তারা হতাশ বোধ করেন এবং প্রায়ই অসন্তুষ্ট বা অখুশি মনে হন। তাদের কাছে সম্পর্কগুলো পরিপূর্ণ মনে হয় না এবং তারা প্রায়ই অন্যদের প্রতি হিংসা অনুভব করেন।
এই নার্সিসিজম নিয়ে আলোচনার অন্যতম একটি কারণ হলো ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনকভাবেই এটি এখন একটি ট্রেন্ডিং শব্দে পরিণত হয়েছে।
নার্সিসিজম কী?
নয়াদিল্লির মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র ‘খাইর বাই সার্থখকের’ প্রতিষ্ঠাতা মনোচিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ সার্থক পালিওয়াল এনডিটিভিকে বলেছেন, “যেকোনো সম্পর্ক সাধারণত দুইজন মানুষকে সমান জায়গা এবং মর্যাদা দেওয়ার ওপর নির্ভর করে। দুজনই চায় নিজেদের প্রতি মনোযোগ। যখন একজন ব্যক্তি বারবার নিজের চাহিদা ও দাবিকে অন্যজনের ওপরে চাপাতে শুরু করেন এবং অন্যজনকে ছোট ও কোণঠাসা বোধ করান, তখন সেই সম্পর্কের ভেতরে নার্সিসিজমের জন্ম হতে পারে।”
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ডা. সার্থক জানিয়েছেন, তিনি বহু রোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন যারা অনুভব করেছেন যে তাদের সঙ্গী বা প্রিয়জন তাদের ছোট করে দেখান এবং গুরুত্বহীন মনে করান। তিনি বলেন, “একজন নার্সিসিস্ট ব্যক্তি এমন আচরণ করতে পারে যেন তার চাহিদাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর সঙ্গী যদি সেই প্রত্যাশিত মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটিকে তারা সম্পর্কের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।”

ভারতের পুনের জুপিটার হাসপাতালের মনোবিজ্ঞানী ডা. দীপ্তি কানাডে মোদক আরও বলেন, “একজন নার্সিসিস্ট কথা বলার সময় আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করেন, সঙ্গীর অনুভূতিকে খাটো করে দেখান কিংবা প্রতিটি দ্বন্দ্বে নিজেকে আবিষ্কার করে গল্প তৈরি করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কটি অন্যজনের কাছে মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।”
এই মনোবিজ্ঞানী এনডিটিভিকে বলেন, নার্সিসিস্টরা প্রায়ই অন্যের ওপর দোষ চাপায়, সঙ্গীর উদ্বেগকে তুচ্ছ করে বা নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে গিয়ে ঘটনার গোটা বর্ণনা বদলে দেয়। এতে সঙ্গীর মধ্যে বিভ্রান্তি ও নিজেকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে পারে।”
নার্সিসিস্টিক ব্যক্তিত্ব চিনবেন কীভাবে?
নার্সিসিস্ট কারা এবং কীভাবে তারা অন্যকে বিভ্রান্ত করতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা তো পাওয়া গেছে। তো কীভাবে বুঝবেন আপনার সঙ্গী একজন নার্সিসিস্ট। কিছু লক্ষণকে তারা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে বিবেচনা করতে বলেছেন।
দুই বিশেষজ্ঞ যে লক্ষণগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো:
ডা. দীপ্তি বলেন, ডা. দীপ্তি কানাডে মোদক বলেন, “নার্সিসিস্টিক বৈশিষ্ট্যগুলো শুরুতে সাধারণত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও যত্নশীল আচরণের আড়ালে থাকে। আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি হওয়ার পর ধীরে ধীরে এর পরিবর্তন দেখা যায়।”
যেসব আচরণ নার্সিসিজম হিসেবে ভুল বোঝা উচিত নয়
এখন যেহেতু নার্সিসিস্টিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে, মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন, মনে রাখতে হবে, সম্পর্কের প্রতিটি তর্ক বা মতবিরোধ নার্সিসিজম থেকে তৈরি হয় না।
ডা. দীপ্তি বলেন, “আবেগীয়ভাবে রক্ষণশীল, উচ্চাকাঙ্খা বা জেদি স্বভাবের হলেই আবার কাউকে নার্সিসিস্ট বলা যাবেনা। অন্তর্মুখিতা, অতীতের ট্রমা, অ্যাটাচমেন্ট সমস্যা বা দুর্বল যোগাযোগ দক্ষতা অনেক সময় নার্সিসিস্টিক বৈশিষ্ট্যের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলোর সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”

বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করে বলেছেন, মতবিরোধ বা বিচ্ছেদের সময় ‘নার্সিসিস্ট’ শব্দটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাদের ভাষ্য, এনপিডি একটি নির্ণয়যোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা পেশাদার মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, সোশ্যাল মিডিয়ার চেকলিস্ট দেখে নয়।
সার্থক পালিওয়াল বলেন, তার অনেক ক্লায়েন্ট এমন সমস্যার কথা তোলেন যেখানে তারা নিজেদের ভয়-আতঙ্ক স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কিন্তু অপর পক্ষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে অনেক সময় ওই ব্যক্তি মনে করেন, তার স্পষ্টভাবে ভাবনা প্রকাশ করা হয়তো অন্যজনের কাছে অতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন বা নার্সিসিস্টিক বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। সুস্থ সম্পর্কের জন্য এমন কথোপকথন দরকার যেখানে উভয় পক্ষ ও তাদের অনুভূতির জন্য জায়গা থাকে।
কেন ডেটিং আলোচনার কেন্দ্রে এখন নার্সিসিজম?
বর্তমানে সম্পর্কগুলোকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’, ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’, ‘ইয়েলো ফ্ল্যাগ’ এমনকি ‘বেইজ ফ্ল্যাগ’—এর মাপকাঠিতে বিচার করা হচ্ছে। ডেটিং জগৎ নানা ট্রেন্ড দ্বারা প্রভাবিত। যেমন হট-টেক ডেটিং, কোরেম্যান্সিং, সানসেট ক্লজ ইত্যাদি। ফলে সম্পর্কগুলো যেন আবেগের বদলে একধরনের যান্ত্রিক বিশ্লেষণে পরিণত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে নার্সিসিজম নিয়ে আলোচনা কেন বাড়ছে, সে বিষয়ে ডা. দীপ্তি কানাডে মোদক বলেন, “ডেটিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ‘সেলফ-ব্র্যান্ডিং’-এর প্রবণতা মানুষকে ইগো-নির্ভর আচরণের ব্যাপারে বেশি সংবেদনশীল করে তুলেছে। সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সূক্ষ্ম বোঝাপড়াও সমান জরুরি।”
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য সহমর্মিতা, দায়বদ্ধতা এবং মানসিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক অপূর্ণতাগুলোর প্রতিও সহনশীলতা থাকা দরকার।”
ডা. দীপ্তি ও ডা. সার্থকের মতে, নার্সিসিজম সম্পর্কে ধারণা মানুষকে সুস্থ সীমারেখা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এই শব্দের অপব্যবহার বিশ্বাস ও মানসিক উপলব্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অন্যদের মধ্যে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ খোঁজার পাশাপাশি নিজেকেও একটু বোঝার চেষ্টা করা উচিত এবং নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

“ভালোবাসার কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নেই। অবহেলা বা নার্সিসিজম দিয়ে একে হত্যা করা হয়।’’ বিখ্যাত আমেরিকান লেখক ফ্র্যাঙ্ক সালভাতরের আলোচিত উদ্ধৃতি এটি।
যে কোনো সম্পর্কেই সম্মান, ভালোবাসা, যত্ন এবং বোঝাপড়া প্রয়োজন। কিন্তু যখন একজন ব্যক্তি নিজের গুরুত্বকে অতিরিক্ত বড় করে দেখেন, সবসময় বাড়তি মনোযোগ আশা করেন এবং চান সবাই তাকে প্রশংসা করুক, তখন অজান্তেই তিনি তার সঙ্গীকে দূরে ঠেলে দিতে শুরু করেন। এটিই হলো নার্সিসিস্টিক (আত্মমুগ্ধ) ব্যক্তিত্বের উদাহরণ।
আমেরিকার মায়ো ক্লিনিকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার (এনপিডি) জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করে। যেমন: অর্থনৈতিক বিষয়, কাজ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক। এই ধরনের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষরা যখন প্রত্যাশিত মনোযোগ পান না, তখন তারা হতাশ বোধ করেন এবং প্রায়ই অসন্তুষ্ট বা অখুশি মনে হন। তাদের কাছে সম্পর্কগুলো পরিপূর্ণ মনে হয় না এবং তারা প্রায়ই অন্যদের প্রতি হিংসা অনুভব করেন।
এই নার্সিসিজম নিয়ে আলোচনার অন্যতম একটি কারণ হলো ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনকভাবেই এটি এখন একটি ট্রেন্ডিং শব্দে পরিণত হয়েছে।
নার্সিসিজম কী?
নয়াদিল্লির মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র ‘খাইর বাই সার্থখকের’ প্রতিষ্ঠাতা মনোচিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ সার্থক পালিওয়াল এনডিটিভিকে বলেছেন, “যেকোনো সম্পর্ক সাধারণত দুইজন মানুষকে সমান জায়গা এবং মর্যাদা দেওয়ার ওপর নির্ভর করে। দুজনই চায় নিজেদের প্রতি মনোযোগ। যখন একজন ব্যক্তি বারবার নিজের চাহিদা ও দাবিকে অন্যজনের ওপরে চাপাতে শুরু করেন এবং অন্যজনকে ছোট ও কোণঠাসা বোধ করান, তখন সেই সম্পর্কের ভেতরে নার্সিসিজমের জন্ম হতে পারে।”
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ডা. সার্থক জানিয়েছেন, তিনি বহু রোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন যারা অনুভব করেছেন যে তাদের সঙ্গী বা প্রিয়জন তাদের ছোট করে দেখান এবং গুরুত্বহীন মনে করান। তিনি বলেন, “একজন নার্সিসিস্ট ব্যক্তি এমন আচরণ করতে পারে যেন তার চাহিদাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর সঙ্গী যদি সেই প্রত্যাশিত মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটিকে তারা সম্পর্কের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।”

ভারতের পুনের জুপিটার হাসপাতালের মনোবিজ্ঞানী ডা. দীপ্তি কানাডে মোদক আরও বলেন, “একজন নার্সিসিস্ট কথা বলার সময় আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করেন, সঙ্গীর অনুভূতিকে খাটো করে দেখান কিংবা প্রতিটি দ্বন্দ্বে নিজেকে আবিষ্কার করে গল্প তৈরি করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কটি অন্যজনের কাছে মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।”
এই মনোবিজ্ঞানী এনডিটিভিকে বলেন, নার্সিসিস্টরা প্রায়ই অন্যের ওপর দোষ চাপায়, সঙ্গীর উদ্বেগকে তুচ্ছ করে বা নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে গিয়ে ঘটনার গোটা বর্ণনা বদলে দেয়। এতে সঙ্গীর মধ্যে বিভ্রান্তি ও নিজেকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে পারে।”
নার্সিসিস্টিক ব্যক্তিত্ব চিনবেন কীভাবে?
নার্সিসিস্ট কারা এবং কীভাবে তারা অন্যকে বিভ্রান্ত করতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা তো পাওয়া গেছে। তো কীভাবে বুঝবেন আপনার সঙ্গী একজন নার্সিসিস্ট। কিছু লক্ষণকে তারা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে বিবেচনা করতে বলেছেন।
দুই বিশেষজ্ঞ যে লক্ষণগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো:
ডা. দীপ্তি বলেন, ডা. দীপ্তি কানাডে মোদক বলেন, “নার্সিসিস্টিক বৈশিষ্ট্যগুলো শুরুতে সাধারণত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও যত্নশীল আচরণের আড়ালে থাকে। আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি হওয়ার পর ধীরে ধীরে এর পরিবর্তন দেখা যায়।”
যেসব আচরণ নার্সিসিজম হিসেবে ভুল বোঝা উচিত নয়
এখন যেহেতু নার্সিসিস্টিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে, মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন, মনে রাখতে হবে, সম্পর্কের প্রতিটি তর্ক বা মতবিরোধ নার্সিসিজম থেকে তৈরি হয় না।
ডা. দীপ্তি বলেন, “আবেগীয়ভাবে রক্ষণশীল, উচ্চাকাঙ্খা বা জেদি স্বভাবের হলেই আবার কাউকে নার্সিসিস্ট বলা যাবেনা। অন্তর্মুখিতা, অতীতের ট্রমা, অ্যাটাচমেন্ট সমস্যা বা দুর্বল যোগাযোগ দক্ষতা অনেক সময় নার্সিসিস্টিক বৈশিষ্ট্যের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলোর সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”

বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করে বলেছেন, মতবিরোধ বা বিচ্ছেদের সময় ‘নার্সিসিস্ট’ শব্দটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাদের ভাষ্য, এনপিডি একটি নির্ণয়যোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা পেশাদার মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, সোশ্যাল মিডিয়ার চেকলিস্ট দেখে নয়।
সার্থক পালিওয়াল বলেন, তার অনেক ক্লায়েন্ট এমন সমস্যার কথা তোলেন যেখানে তারা নিজেদের ভয়-আতঙ্ক স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কিন্তু অপর পক্ষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে অনেক সময় ওই ব্যক্তি মনে করেন, তার স্পষ্টভাবে ভাবনা প্রকাশ করা হয়তো অন্যজনের কাছে অতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন বা নার্সিসিস্টিক বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। সুস্থ সম্পর্কের জন্য এমন কথোপকথন দরকার যেখানে উভয় পক্ষ ও তাদের অনুভূতির জন্য জায়গা থাকে।
কেন ডেটিং আলোচনার কেন্দ্রে এখন নার্সিসিজম?
বর্তমানে সম্পর্কগুলোকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’, ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’, ‘ইয়েলো ফ্ল্যাগ’ এমনকি ‘বেইজ ফ্ল্যাগ’—এর মাপকাঠিতে বিচার করা হচ্ছে। ডেটিং জগৎ নানা ট্রেন্ড দ্বারা প্রভাবিত। যেমন হট-টেক ডেটিং, কোরেম্যান্সিং, সানসেট ক্লজ ইত্যাদি। ফলে সম্পর্কগুলো যেন আবেগের বদলে একধরনের যান্ত্রিক বিশ্লেষণে পরিণত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে নার্সিসিজম নিয়ে আলোচনা কেন বাড়ছে, সে বিষয়ে ডা. দীপ্তি কানাডে মোদক বলেন, “ডেটিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ‘সেলফ-ব্র্যান্ডিং’-এর প্রবণতা মানুষকে ইগো-নির্ভর আচরণের ব্যাপারে বেশি সংবেদনশীল করে তুলেছে। সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সূক্ষ্ম বোঝাপড়াও সমান জরুরি।”
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য সহমর্মিতা, দায়বদ্ধতা এবং মানসিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক অপূর্ণতাগুলোর প্রতিও সহনশীলতা থাকা দরকার।”
ডা. দীপ্তি ও ডা. সার্থকের মতে, নার্সিসিজম সম্পর্কে ধারণা মানুষকে সুস্থ সীমারেখা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এই শব্দের অপব্যবহার বিশ্বাস ও মানসিক উপলব্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অন্যদের মধ্যে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ খোঁজার পাশাপাশি নিজেকেও একটু বোঝার চেষ্টা করা উচিত এবং নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।