
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ২৪ ওভার খেলা হয়েছে। পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০২। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ৩৩৬ রান।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের একজন বোলারের তিনটি বলের গতি ঘণ্টায় ১৪৮; ১৪৯ ও ১৫০ কিলোমিটার বেগে–এমন দৃশ্য বছর তিনেক আগেও ছিল যেন ‘অলীক কল্পনা’! আজ সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্রমেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা নাহিদ সেটাই করে দেখিয়েছেন।

এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ছন্দে ছিলেন না নাহিদ। রানও দেন বেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে চার উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট, যা বাংলাদেশকে এনে দেয় ১০৪ রানের জয়।

পাঁচ দিনের দুর্দান্ত ক্রিকেটের পর প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ পেয়েছে ১০৪ রানের জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই মেহেদি হাসান মিরাজকে টানা দুই চার মেরে পাল্টা আক্রমণের আভাস দেন ফজল। বার্তাটা ছিল স্পষ্ট—টার্নিং উইকেটে স্পিনারদের চেপে বসতে দিতে চান না। উইকেটে স্পিন ধরলেও অন্যপ্রান্তে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদকে দিয়েই আক্রমণ চালিয়ে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

ওয়ানডে অধিনায়ক হলেও দলে তার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা নিয়ে প্রায়ই ওঠে প্রশ্ন। তবে ফরম্যাট যখন টেস্ট ক্রিকেট, সেখানে মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগই নেই। ধারাবাহিকভাবে লাল বলের ক্রিকেটে দলের অন্যতম সেরা পারফরমার যে তিনিই।

নাহিদ দেশে ফেরার পরই খবর চাউর হয়, পিএসএল থেকে দুটি চোট বয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। একটি হাতে, যা তিনি পাকিস্তানে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। এই চোট শিগগিরই সেরে উঠবে বলেই আশা করছে বিসিবি।

তিন ফরম্যাটের চিত্রটা যা দাঁড়াচ্ছে তা হলো, এই মুহূর্তে পেস বোলিংই বাংলাদেশের শক্তির জায়গা। অধিকাংশ ম্যাচ জেতাচ্ছেন তারাই। কাকে রেখে কাকে খেলাবেন, সেই মধুর বিড়ম্বনায় তাই প্রায়ই পড়তে হচ্ছে নির্বাচকদের। আর এভাবেই বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

নাহিদ রানার ফাইফারে টার্গেট ছিল নাগালের মধ্যেই। টপ অর্ডারে শুরুতেই বিপর্যয় হলেও তানজিদ হাসান দেখালেন স্বভাবসুলভ আগ্রাসন। সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত করলেন ফিফটি। লড়াই জমাতে পারল না নিউজিল্যান্ড, সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ (১-১)।

৪৮.৪ ওভারে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৯৮ রানে। শেষ উইকেটটি নেন তাসকিন, যা তার একমাত্র শিকার এই ইনিংসে।

একটা সময় পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসারদের দেখে বাংলাদেশের দর্শকরা আক্ষেপ করতেন। সেই আক্ষেপ অনেকটাই মিটিয়েছেন নাহিদ রানা। এখন পর্যন্ত বিশ্বমানের কয়েকজন পেস বোলার পেলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে সত্যিকারের গতির ঝড় তুলছেন নাহিদই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে এবার পিএসএলেও নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মাঝপথেই দেশে ফিরছেন নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলাম। মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে পেশোয়ার জালমির ম্যাচটি খেলেই বাংলাদেশের উড়োজাহাজ ধরেছেন তারা। তবে তার আগে যা পারফরম্যান্স তাদের, তাতে গর্ব হতেই পারে বাংলাদেশের।

ওয়াকারের কথা রেখে চলেছেন নাহিদ। চলমান পিএসএলে খেলছেন পেশোয়ার জালমির হয়ে। এখন পর্যন্ত খেলেছেন তিন ম্যাচ, উইকেট নিয়েছেন ৫টি। এই পরিসংখ্যান দেখে বলতেই পারেন, এ আর এমন কী! তবে না, এই তিন ম্যাচে নাহিদের গতির আগুনে রীতিমতো কাঁপছে পিএসএল। সেরা বোলিংটা করেন করাচি কিংসের বিপক্ষে। চার ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৭