১৪৪, ১৪৬, ১৪৬, ১৪৪–নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদ তার চারটি উইকেটই তুলে নিয়েছেন ঘণ্টায় প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার বেগে বল করে। প্রথম ম্যাচে যে গতিময় বোলিং তাকে বানিয়ে দিয়েছিল সবচেয়ে খরুচে বোলার, একই উইকেটে গতির ঝড় তুলে সেখানেই হলেন দলের সেরা বোলার। সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ের ম্যাচে নাহিদের ফাইফার প্রতিপক্ষকে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ দেয়নি, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে।
আগের ম্যাচে ৬৫ রানে ১ উইকেট নেওয়া নাহিদই ধীরলয়ে এগিয়ে যাওয়া নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কাটা দেন। দুর্দান্ত এক ফুলার লেন্থের ডেলিভারিতে চমকে দেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা হেনরি নিকোলসকে। পরের ওভারে আরেকটু জোরের ওপর করা বাউন্সারে চমকে দেন উইল ইয়ংকে। তাল সামলাতে না পেরে পয়েন্টে তুলে দেন সহজ ক্যাচ।
অন্যপ্রান্তে এরপর আক্রমণে আনা হয় এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা সৌম্য সরকারকে। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে নেননি খুব বেশি সময়। স্লো-মিডিয়াম পেসে শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের কিছুটা চাপে ফেলতে সক্ষম হন। পরে মেলে সফলতাও।
প্রায় অফ-স্পিন লেন্থে উইকেটের পেছনে ক্যাচে ফেরান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথামকে। মাটি-ঘেঁষা দারুণ এক ক্যাচ নেন লিটন দাস। মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে জুটি গড়েন নিক কেলি। দলীয় শতক পার হওয়ার পরই ফের আঘাত নাহিদের। অবশ্য এই উইকেটে বোলারের চেয়ে উইকেটকিপারের কৃতিত্বই বেশি।
নাহিদকে পুল করতে চেয়েছিলেন আব্বাস, ব্যাটে-বলে আর হয়নি। বল উড়ে যায় আকাশে। বলের দিকে নজর রেখে অনেকটা দৌড়ে, অনেকটা বাজপাখির মতো লাফিয়ে বল জমা করেন গ্লাভসে। যথারীতি এখানেও মূলত নাহিদের গতিতেই এলোমেলো হয়েছেন ব্যাটসম্যান।
নাহিদের মতো গতি না থাকলেও প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট নেওয়া শরিফুলও করছিলেন ছন্দময় বোলিং। শেষ পর্যন্ত মেলে সফলতাও। একাই লড়ে যাওয়া কেলি বড় শট মারতে গিয়ে টপ-এজে ক্যাচ আউট হন ৮৩ রানে। নিউজিল্যান্ডের ফাইটিং স্কোরের আশাও শেষ সেখানেই।
নিজের শেষ ওভারে জেডেন লেনক্সকে ইয়র্কারে বোল্ড করেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেটের দেখা পান নাহিদ। প্রথমটি এসেছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগের সিরিজেই। স্পেল শেষ করেন ১০ ওভারে ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেটে।
৪৮.৪ ওভারে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৯৮ রানে। শেষ উইকেটটি নেন তাসকিন, যা তার একমাত্র শিকার এই ইনিংসে।