Advertisement Banner

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়, ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়, ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জিতেছে বাংলাদেশ। ছবি: বিসিবি

প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর বল হাতেও মোসাদ্দেক হোসেন ছিলেন ভালো ছন্দে। অথচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া চাপে থাকলেও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ তাকে আক্রমণে আনতেই যেন ভুলে গেলেন। শেষ পর্যন্ত এতে অবশ্য খুব বড় ক্ষতি হয়নি। কিছুটা সংগ্রামের পর সহজ জয়ে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থেমেছিল ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে। ৪১ ওভারে ১৯২ রানের টার্গেট ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই তাড়া করেছে স্বাগতিকরা।

এর মধ্য দিয়ে দুই দলের মধ্যকার পঞ্চম দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এসে প্রথমবার জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগের চারটি ছিল তিন ম্যাচের, আর প্রতিবার অস্ট্রেলিয়ার জয় ছিল ৩-০ ব্যবধানে। এবার সেই সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। সিরিজের শেষ ম্যাচ আগামী ১৪ জুন।

বাংলাদেশ ম্যাচ ও সিরিজ জেতার কারণে আড়ালে চলে যেতে পারে অধিনায়ক মিরাজের আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের বিষয়টি। এর আগে তারকা লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ক্ষেত্রেও একই কাজ করেছিলেন তিনি। কখনো আক্রমণে এনেছেন দেরিতে, কখনো ভালো করার পরও সরিয়ে দিয়েছেন বা তখনই আক্রমণে এনেছেন, যখন ব্যাটসম্যানরা সেট।

এবার তার জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করেছেন মোসাদ্দেক। প্রথম ম্যাচে মাঝের ওভারে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ নিয়েছিলেন ২ উইকেট। এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৮১ রানেই হারিয়ে ফেলেছিল ৬ উইকেট। ওই সময়ে তাকে আক্রমণে না এনে মিরাজ নিজে ও আরেক স্পিনার তানভীর ইসলামকে দিয়ে চালিয়ে যান।

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শূন্য রানে তিন উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু থেকেই ছিল নড়বড়ে। কিন্তু সপ্তম উইকেটে জাভিয়ের বার্টলেট ও মার্নাশ লাবুশেন মিলে যোগ করেন ১০৩ রান। এই জুটি ভাঙার জন্য মোসাদ্দেক বা সৌম্য সরকারের হাতে বল দিয়ে অন্তত চেষ্টা করতেই পারতেন মিরাজ। কিন্তু তিনি সেই পথে হাঁটেননি।

বড় মঞ্চে এই ধরনের বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত বুমেরাং হওয়াটা প্রায় অনিবার্য। এমনিতেই মাঠে ফিল্ডিং সেট করা থেকে অন্যান্য ক্ষেত্রে নাজমুল হোসেন ও লিটন দাসকেই বেশি ব্যস্ত দেখা যায়। এর সঙ্গে নিয়মিতভাবে যদি মিরাজ যোগ্য বোলারদের এভাবে মূল্যায়ন করেন, নেতা হিসেবে তার ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাবে।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য এরপরও খুব বড় টার্গেট দিতে পারেনি। বল হাতে শুরুতেই যদিও মিলেছিল সাফল্য। দ্বিতীয় বলেই বার্টলেটকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদ হাসান (০)।

এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা সৌম্য সরকার ও নাজমুল এরপর অবশ্য দ্রুত ম্যাচ শেষ করার ব্রত নিয়েই যেন ব্যাট করছিলেন। ওভারপ্রতি ছয় রানের বেশি করে নিয়ে তারা চাপে ফেলে দেন প্রতিপক্ষের বোলারদের। ওয়ানডেতে নিজের আগের টানা তিন ম্যাচে ফিফটি বা তার বেশি রান করা নাজমুল আশা জাগাচ্ছিলেন আরেকটি বড় ইনিংসের।

অন্যদিকে কয়েকদিন আগে ৩৩তম জন্মদিন পালন করা সৌম্য শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। মাত্র ৯৩ বলে তিনি ও নাজমুল মিলে যোগ করেন ৮৬ রান। দুজনই ব্যাট করেন প্রায় ১০০ স্ট্রাইক রেটে।

এরপরই ছন্দপতন। এবং যথারীতি সেটা অকেশনাল স্পিনার ম্যাট রেনশর বোলিংয়ে। অকারণেই রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে টাইমিং করতে হন ব্যর্থ সৌম্য। ৪৭ বলে ৪২ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ক্রিজ ছাড়েন তিনি। নিজেও অবাক ছিলেন আউট হওয়ার ধরনে।

এক ওভার বাদে সেই একই ভুল করেন নাজমুলও। প্রথম ৩৩ বলে ৩৩ করার পরের ৮ রান করতে বল খেলে ফেলেন ২০টি। এরপর সেট হয়ে নিজের উইকেট ছুড়ে আসেন তিনিও। অভিষিক্ত রিলি মেরেডিথের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান।

ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইনিংসের গতি তাতেও অবশ্য কমেনি। একশর বেশি স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে লিটন দাস পৌঁছে যান ২১ রানে। এরপরই বিপত্তি। ক্যামেরন গ্রিনের হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বাউন্সারে তার অবশ্য করার ছিল সামান্যই।

প্রথম ম্যাচের ফর্ম টেনে এনে মোসাদ্দেকের শুরুটা বেশ ভালো ছিল। অ্যাডাম জাম্পার এক ওভারে হাঁকান দুই বাউন্ডারি। তবে একই ওভারে অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে ডাউন দ্য উইকেটে বেরিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ১৫ রানের ইনিংস।

তবে এরপর তাওহীদ হৃদয় ও মিরাজের ৫১ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত সহজেই জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। তাওহীদ করেন ৪০ রান। ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করা অধিনায়ক মিরাজের অবদান ২২ রান।

সম্পর্কিত