Advertisement Banner

টেস্ট ক্রিকেটের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পিএসএল ফাইনাল?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
টেস্ট ক্রিকেটের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পিএসএল ফাইনাল?
নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি

“বাংলাদেশ! প্লিজ নাহিদ রানার যত্ন নিও”—কিছুদিন আগেই আকুতির সুরে কথাটা বলেছিলেন ধারাভাষ্যকার ডমিনিক কর্ক। এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের তরুণ এই পেসার ঠিক সেই জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করেছেন, যেখানে তাকে দেখতে চাননি কর্ক। অর্থাৎ, যথেষ্ট যত্ন নেওয়া হচ্ছে না নাহিদের।

মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, সদ্যই পিএসএলের ফাইনালে আগুন ঝরানো বোলিং করা একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে কেন এমনটা বলা হচ্ছে? উত্তরটা খুব সহজ। সেই ফাইনাল খেলতে গিয়েই যে নাহিদ রানা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে। সঙ্গী হয়েছে দুটি চোট!

পিএসএলে চার ম্যাচ খেলে নাহিদ দেশে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে। প্রথম ম্যাচে ভালো করেননি, হেরে যায় বাংলাদেশও। দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে জেতান দলকে। নাহিদকে টানা না খেলিয়ে এর আগ পর্যন্ত বিশ্রাম দেওয়ার নীতিতে অটল ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে এবার সিরিজ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় পেসারকে তৃতীয় ম্যাচেও খেলানো হয়। বিপত্তির শুরু সেখান থেকেই।

কে জানত, স্রেফ এই একটি ম্যাচের জন্য গোটা প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, আর টেস্ট ক্রিকেটকেও দেওয়া হয়েছে কম গুরুত্ব!

ফিল্ডিংয়ের সময় মাঠের ভেতরের বিজ্ঞাপনের একটি বোর্ডের তারকাটায় লেগে কেটে যায় ডান হাতের তর্জনী। আপাতত সেই চোট গুরুতর না মনে হলেও বিশ্রাম দেওয়া হয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে। পাশাপাশি বাতিল করা হয় পিএসএলের বাকি অংশে খেলার অনুমতিও। বিসিবি জানায়, পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নিতেই এই সিদ্ধান্ত।

তবে পিএসএলে নাহিদের দল পেশোয়ার জালমি ফাইনাল নিশ্চিত করতেই বদলে যায় চিত্র। শিরোপার লড়াইয়ে তাকে দলে পেতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে আবেদন জানান ক্লাবটির মালিকপক্ষ। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে অনুমতি দেওয়া হয় নাহিদকে ফাইনালে খেলতে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য। ফাইনালে তিনি পেশোয়ারকে হতাশ করেননি। চার ওভারে ২ উইকেট নিয়ে রাখেন জয়ে ভূমিকা। কিন্তু কে জানত, স্রেফ এই একটি ম্যাচের জন্য গোটা প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, আর টেস্ট ক্রিকেটকেও দেওয়া হয়েছে কম গুরুত্ব!

পিএসএলে দারুণ পারফর্ম করেছেন নাহিদ রানা। ছবি: ফেসবুক
পিএসএলে দারুণ পারফর্ম করেছেন নাহিদ রানা। ছবি: ফেসবুক

নাহিদ দেশে ফেরার পরই খবর চাউর হয়, পিএসএল থেকে দুটি চোট বয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। একটি হাতে, যা তিনি পাকিস্তানে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। এই চোট শিগগিরই সেরে উঠবে বলেই আশা করছে বিসিবি। তবে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে নাহিদের গোড়ালিতে চোটের বিষয়টি, যা এতদিন পর্যন্ত আড়াল করেই রাখা হয়েছিল। টেপ পেঁচিয়ে নাকি এই চোট ‘ম্যানেজ’ করেই খেলছেন তিনি। এসব জেনেও কীসের ভিত্তিতে টেস্ট সিরিজ শুরুর মাত্র ৫ দিন আগে, কেন আর কীভাবে নাহিদকে নাটকীয়ভাবে পিএসএলে খেলতে দেওয়া হলো–সেটা নিয়েও নেই সদুত্তর।

বিসিবির একটি সূত্র চরচাকে এই ব্যাপারে জানিয়েছেন তাদের অবস্থান, “এখানে কিন্তু নির্দিষ্ট করে কাউকে দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ বিবেচনায় নাহিদকে পিএসএলে খেলতে যেতে দেওয়া হয়েছিল তার চোট, বিশ্রাম, ভ্রমণ ক্লান্তি সব মাথায় রেখেই। সব পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হ্যাঁ, এই সময়ে সে দেশে থেকে প্রস্তুতি নিলেই হয়তো ভালো হতো।”

এসব ক্ষেত্রে সচরাচর যা হয়, নাহিদের বেলায়ও তাই হচ্ছে। একজন দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন অন্যজনের ওপর। এতে শেষ পর্যন্ত হয়তো দায়টা চলে যাবে ফিজিও বা মেডিকেল টিমের কাঁধে।

নাহিদের মতো গতিময় পেসার এই মুহূর্তে গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই বিরল। তাই সবাই একবাক্যে মানেন, তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ক্রিকেটেরও সম্পদ। ফলে তাকে কীভাবে তিন ফরম্যাটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও বেছে বেছে খেলাতে হবে, সেটাই বিসিবির দায়িত্ব। দীর্ঘ সময় ধরে সেটা ভালোভাবেই অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে পিএসএলের এক ফাইনাল খেলার জন্য ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে টেস্ট সিরিজে অংশগ্রহণকেই।

টিম ম্যানেজমেন্টের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেছেন আশার কথা। তিনি বলেন, “পেসারদের চোট খুব স্বাভাবিক ঘটনা। নাহিদকে নিয়ে আমরা সাবধানী আগেও যেমন ছিলাম, এখনও তাই আছি। পিএসএল খেলতে গিয়ে যে চোটটা পেয়েছে, সেটা খুবই সামান্য। আর অন্য চোট, যেটা গোড়ালিতে, সেটা নিয়ে তো নাহিদ আগেও খেলেছে। পিএসএলের ফাইনালেও তো খেলল। আমরা আশাবাদী প্রথম টেস্টে তাকে পাওয়ার ব্যাপারে।”

এসব ক্ষেত্রে সচরাচর যা হয়, নাহিদের বেলায়ও তাই হচ্ছে। একজন দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন অন্যজনের ওপর। এতে শেষ পর্যন্ত হয়তো দায়টা চলে যাবে ফিজিও বা মেডিকেল টিমের কাঁধে। তবে নাহিদের মতো একজন গতিময় পেসারের ক্ষেত্রে সামান্য চোটাঘাতও বড় হতে পারে। শুরুতে সতর্ক অবস্থানে থেকেও কেন পরে টেস্ট সিরিজকে একপাশে সরিয়ে পিএসএলকে গুরুত্ব দিয়েছে বিসিবি, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

আর সেই প্রশ্নটা থেকে যাবে নাহিদ ৮ মে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্ট খেললেও। পেসাররা চোট পাবেনই, তবে সাবধানতা অবলম্বন করাটা খুব জরুরি। গত দুই সপ্তাহে নাহিদের চোট নিয়ে বিসিবি যে সেই সতর্কতা অবলম্বন করেনি, তা তো এখন স্পষ্ট।

এ যাত্রায় পার পেয়ে গেলেও ভবিষ্যতে এমন গাফিলতি নাহিদের জন্য হতে পারে বড় বিপদের কারণ। দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থেই বিসিবি কি সতর্ক হবে?

সম্পর্কিত