চরচা ডেস্ক

ইন্সট্যান্ট নুডলস বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার। হোস্টেলের রাত জাগা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যস্ত অফিসগামী-সবার কাছেই এটি এক আস্থার নাম। মাত্র দুই থেকে দশ মিনিটের মধ্যে তৈরি হওয়া এই খাবার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ মাতামাতি হয়। বিশেষ কোভিড মহামারির সময় থেকে মানুষ ইন্সট্যান্ট নুডলস দিয়ে নানা ধরনের নিরীক্ষাধর্মী রেসিপি ফুড ট্রেন্ডের শীর্ষে চলে আসে। তবে এই খাবারটি আমাদের ক্ষুধা মেটালেও এটি শরীরের জন্য কতটা উপকারী বা অপকারী, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলছে।
মুখরোচক স্বাদের আড়ালে যা লুকিয়ে আছে
ইন্সট্যান্ট নুডলস মূলত ময়দা দিয়ে তৈরি এবং একে দীর্ঘস্থায়ী করতে কড়া তেলে ভেজে শুকানো হয়। এই প্রক্রিয়াই এর প্রধান সমস্যার মূল। ময়দা বা রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
কেন এটি স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক?
ইন্সট্যান্ট নুডলসকে ‘মন্দ’ বলার পেছনে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা মূলত তিনটি বড় কারণ দেখান-
অতিরিক্ত সোডিয়াম: একটি ছোট প্যাকেটে প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সোডিয়াম থাকতে পারে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সারাদিনের চাহিদার সমান। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের প্রধান কারণ।
ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ: নুডলসকে ফ্রেশ রাখতে এতে টারশিয়ারি বিউটাইলহাইড্রোকুইনাইন বা টিবিএইচকিউ ব্যবহার করা হয়। এটি একটি পেট্রোলিয়াম ভিত্তিক উপজাত, যা দীর্ঘমেয়াদে পাকস্থলীর সমস্যা এবং টিউমারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এমএসজি: এর মশলায় থাকা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট স্বাদের মোহ তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু এটি অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, বমি ভাব এবং স্নায়বিক দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষণার ফলাফল কী বলে?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে দুই বা তার বেশিবার ইন্সট্যান্ট নুডলস খান, তাদের ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ হওয়ার ঝুঁকি সাধারণের চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও প্রবল। এটি শরীরের মেটাবলিজম নষ্ট করে দেয় এবং স্থূলতা বা মেদ বাড়ায়।
তবে কি এটি পুরোপুরি বর্জনীয়?
ইন্সট্যান্ট নুডলস সরাসরি ‘বিষ’ না হলেও একে ‘পুষ্টিকর’ খাবার বলার কোনো উপায় নেই। তবে এটি খাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আনলে ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব। যেমন-
ইন্সট্যান্ট নুডলস কোনো পুষ্টিকর খাবার নয়, বরং এটি একটি ‘ইমার্জেন্সি ফুড’। মাঝে মাঝে শখের বসে বা বিপদে পড়ে খাওয়া ঠিক আছে, কিন্তু একে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা মানেই নিজের অজান্তে শরীরকে বড় কোনো ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া। সুস্থ থাকতে টাটকা এবং প্রাকৃতিক খাবারের কোনো বিকল্প নেই।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন

ইন্সট্যান্ট নুডলস বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার। হোস্টেলের রাত জাগা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যস্ত অফিসগামী-সবার কাছেই এটি এক আস্থার নাম। মাত্র দুই থেকে দশ মিনিটের মধ্যে তৈরি হওয়া এই খাবার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ মাতামাতি হয়। বিশেষ কোভিড মহামারির সময় থেকে মানুষ ইন্সট্যান্ট নুডলস দিয়ে নানা ধরনের নিরীক্ষাধর্মী রেসিপি ফুড ট্রেন্ডের শীর্ষে চলে আসে। তবে এই খাবারটি আমাদের ক্ষুধা মেটালেও এটি শরীরের জন্য কতটা উপকারী বা অপকারী, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলছে।
মুখরোচক স্বাদের আড়ালে যা লুকিয়ে আছে
ইন্সট্যান্ট নুডলস মূলত ময়দা দিয়ে তৈরি এবং একে দীর্ঘস্থায়ী করতে কড়া তেলে ভেজে শুকানো হয়। এই প্রক্রিয়াই এর প্রধান সমস্যার মূল। ময়দা বা রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
কেন এটি স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক?
ইন্সট্যান্ট নুডলসকে ‘মন্দ’ বলার পেছনে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা মূলত তিনটি বড় কারণ দেখান-
অতিরিক্ত সোডিয়াম: একটি ছোট প্যাকেটে প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সোডিয়াম থাকতে পারে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সারাদিনের চাহিদার সমান। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের প্রধান কারণ।
ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ: নুডলসকে ফ্রেশ রাখতে এতে টারশিয়ারি বিউটাইলহাইড্রোকুইনাইন বা টিবিএইচকিউ ব্যবহার করা হয়। এটি একটি পেট্রোলিয়াম ভিত্তিক উপজাত, যা দীর্ঘমেয়াদে পাকস্থলীর সমস্যা এবং টিউমারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এমএসজি: এর মশলায় থাকা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট স্বাদের মোহ তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু এটি অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, বমি ভাব এবং স্নায়বিক দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষণার ফলাফল কী বলে?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে দুই বা তার বেশিবার ইন্সট্যান্ট নুডলস খান, তাদের ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ হওয়ার ঝুঁকি সাধারণের চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও প্রবল। এটি শরীরের মেটাবলিজম নষ্ট করে দেয় এবং স্থূলতা বা মেদ বাড়ায়।
তবে কি এটি পুরোপুরি বর্জনীয়?
ইন্সট্যান্ট নুডলস সরাসরি ‘বিষ’ না হলেও একে ‘পুষ্টিকর’ খাবার বলার কোনো উপায় নেই। তবে এটি খাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আনলে ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব। যেমন-
ইন্সট্যান্ট নুডলস কোনো পুষ্টিকর খাবার নয়, বরং এটি একটি ‘ইমার্জেন্সি ফুড’। মাঝে মাঝে শখের বসে বা বিপদে পড়ে খাওয়া ঠিক আছে, কিন্তু একে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা মানেই নিজের অজান্তে শরীরকে বড় কোনো ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া। সুস্থ থাকতে টাটকা এবং প্রাকৃতিক খাবারের কোনো বিকল্প নেই।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন