মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি ও স্মারক যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদল। আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সম্প্রতি মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সে ভাঙচুর ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও লেখক আবু সাইদ খান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। অথচ গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ছদ্মবেশী কিছু দুর্বৃত্ত মুজিবনগর কমপ্লেক্সের প্রায় ৩০০টি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার এই স্মারক রক্ষায় কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি।”
সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য থেকে শুরু করে অপারেশন সার্চলাইটের ঘটনাচিত্র—সবই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দিতেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মামলা নেওয়া হয়নি বা সংস্কার কাজ শুরু হয়নি।”
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা এবং বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন তাদের বক্তব্যে বলেন, মুজিবনগর কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা জাতির সম্পদ। এই স্মৃতি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে জন-প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন মুজিবনগরকে দেশের প্রথম রাজধানী হিসেবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. অবিলম্বে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ সারা দেশে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযুদ্ধের স্মারকসমূহ পুনঃনির্মাণ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
২. স্মারকসমূহে হামলাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে।
৩. রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় মুজিবনগর দিবস পালন করতে হবে।
৪. মুজিবনগরে নির্মাণাধীন জাদুঘরের কাজ দ্রুত শেষ করে সেখানে একটি মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
৫. দলমতের ঊর্ধ্বে নির্মোহভাবে রচিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
গত ১৭ এপ্রিল প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সশরীরে মুজিবনগর পরিদর্শন করেন। তারা জানান, এবার দিবসটিতে সরকারি কোনো কর্মসূচি ছিল না এবং কোনো মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেননি, যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
পরিদর্শক দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, দোলন চন্দ্র রায় এবং রফিক আহমেদ সিরাজী।