জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উপ-পরিচালক ডা. আহমেদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সংস্থাটি জানায়, ইএম টেন্ডারস ও মোনায়েম গ্রুপ-এর মধ্যকার দ্বন্দ্বের জেরে ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত র্যাব ও পুলিশ পৃথক অভিযানে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বিস্তারিত তথ্য জানান। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ক্যাম্পাসের পেছনের গলিতে হামলার শিকার হন ডা. আহমেদ হোসেন। দুই থেকে তিনজন হামলাকারী তার হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ক্যানসার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে বনানী থানায় অজ্ঞাতনামা ৮–১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পরপরই র্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা যৌথ অভিযান শুরু করে। অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণখান, বাড্ডা, বনানী ও গুলশান এলাকা থেকে শরিফুল আলম করিম, আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিন ও আরিফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালায়। এতে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন র্যাবের মুখপাত্র। তিনি জানান, বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত রুবেল নামের এক ব্যক্তির পক্ষে বাংলাদেশে শরিফুল আলম করিম ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে হামলাটি সমন্বয় করে। ঘটনার পেছনে আরও ব্যক্তিগত আক্রোশ বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দেশের বাইরে অবস্থান করলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যাবে—এমনটি নয়। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে র্যাবের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ইউসূফ আলী ও নেছার আহমেদ। মঙ্গলবার ডিএমপির গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, সোমবার রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।