যিশুর মূর্তি ভাঙার ছবি: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রোধের আগুন
চরচা ডেস্ক
যিশুর মূর্তি ভাঙার ছবি: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রোধের আগুন
চরচা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৩৬
লেবাননে একজন ইসরায়েলি সেনা যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙছেন। ছবি: রয়টার্স
লেবাননে একজন ইসরায়েলি সেনার যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙার একটি ছবি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ক্রোধের জন্ম দিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদক আলি হার্বের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনাটি ইসরায়েলের প্রতি ক্রমবর্ধমান ক্রোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে– এবার তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাগা ঘাঁটির কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। যে ডানপন্থী মহল খ্রিস্টান মূল্যবোধ সমর্থনের দাবি করে এবং যেখানে ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন একসময় অলঙ্ঘনীয় নিয়ম ছিল, সেই মহলেও এই খ্রিস্টীয় ধর্মীয় প্রতীক অবমাননার ঘটনা সমালোচনার আগুন জ্বালিয়েছে।
যদিও এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে ইসরায়েলের ব্যাপক নৃশংসতার মধ্যে মাত্র একটি যা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের দেবল শহরের কাছে সংঘটিত এই ঘটনার পর নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দেন। তিনি বলেন, “আমি এ কাজের সর্বোচ্চ নিন্দা করি। সামরিক কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত পরিচালনা করছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে আলোড়ন তুলেছে ট্রাম্পের সাবেক মিত্র ও ডানপন্থী ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের প্রতিক্রিয়া। তিনি তার নিউজলেটারে লিখেছেন, “আমেরিকার করপোরেট মিডিয়া দেখে এটা কখনো জানা যাবে না, কিন্তু এই ধরনের ঘটনা বিরল নয়। ইসরায়েলি সরকার দশকের পর দশক ধরে তার সেনাদের বর্বরের মতো আচরণ করতে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উদারভাবে অর্থায়ন নিয়েছে। এখনকার এবং অতীতের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো সোশ্যাল মিডিয়া ইসরায়েলের আচরণ বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেছে।”
সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওমেন মার্জরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের যুদ্ধবাজ পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে তার সঙ্গে মতবিরোধ করেছিলেন। ইসরায়েলি সেনার যিশুর মূর্তির মাথায় স্লেজহ্যামার দিয়ে আঘাত করার বিষয়ে তিনি তার এক্সে পোস্ট লিখেছেন যে, “আমাদের সবচেয়ে ভালো মিত্র প্রতি বছর আমাদের ট্যাক্সের অর্থ ও অস্ত্র থেকে কোটি কোটি ডলার নেয়।”
সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও ট্রাম্পের আরেক মিত্র ম্যাট গেটজ মাত্র একটি শব্দে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন– ‘ভয়াবহ’।
সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা কীভাবে এই ঘটনাকে সমর্থন দিতে পারে তা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা বলবেন– এই ইসরায়েলি সেনার যিশু খ্রিস্টের মূর্তির মাথা ভাঙতে সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ছিলেন কারণ হিজবুল্লাহ ও হামাস ভেতরে লুকিয়ে ছিল। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
এই ক্রোধ ট্রাম্পের মাগা সমর্থকগোষ্ঠীতে ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠ জোট নিয়ে বাড়তে থাকা সন্দেহের প্রতিধ্বনি।
ইসরায়েলের সমর্থকরা মূর্তি ভাঙাকে একজন সেনার বিচ্ছিন্ন ভুল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেও আল জাজিরার প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এটি একটি ধারারই প্রতিফলন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের দেইর মিমাসের একটি চার্চে দুজন সেনার মধ্যে একটি নকল বিবাহের দৃশ্য ধারণ করে ভবনটি ভাঙচুর করে। গত বছর একটি ইসরায়েলি ট্যাংক দক্ষিণ লেবানিজ গ্রাম ইয়ারাউনে সেন্ট জর্জের একটি মূর্তি ভেঙে দেয়। গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল বেশ কয়েকবার ফিলিস্তিনি চার্চে বোমা মেরেছে, যার মধ্যে ২০২৩ সালে একটি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, গাজায় যুদ্ধের সময় ইসরায়েল এক হাজারের বেশি মসজিদ এবং তিনটি চার্চ ধ্বংস করেছে।
এই ঘটনায় ক্যাথলিক নেতারাও সরব হয়েছেন। ক্যাথলিক অর্ডিনারিজের সমাবেশ থেকে যিশু খ্রিস্টের মূর্তিতে আক্রমণের নিন্দা করে বলা হয়েছে, এই কাজ খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি একটি গুরুতর অপমান। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের খ্রিস্টান প্রতীক অবমাননার অন্যান্য ঘটনার পাশাপাশি এটি নৈতিক ও মানবিক গঠনের এক উদ্বেগজনক ব্যর্থতা প্রকাশ করে। এখানে প্রাথমিক শ্রদ্ধাবোধও গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
নেতানিয়াহু নিজে দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল খ্রিস্টানদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো আচরণ করে। তিনি বলেছেন, সিরিয়া ও লেবাননে মুসলমানরা খ্রিস্টানদের হত্যা করছে। আর ইসরায়েলের খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু আল জাজিরার প্রতিবেদন এই দাবির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাশাপাশি রেখেছে– লেবাননেই মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ খ্রিস্টান জনসংখ্যা রয়েছে এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট একজন ম্যারোনাইট ক্যাথলিক।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ফিলিস্তিনি যাজক মুনথার আইজ্যাক সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “ক্ষোভটা একটি ধ্বংস হওয়া যিশুর মূর্তি নিয়ে হওয়া উচিত নয়–সেটা জঘন্য। প্রকৃত ক্ষোভ হওয়া উচিত বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা, মানবিক মর্যাদায় আঘাত, গাজা ও লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে। যুদ্ধ খারাপ, আমাদের জবাবদিহিতা দরকার। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার ট্রাম্প ও কংগ্রেসকে হস্তক্ষেপ করে ইসরায়েলের এই সীমা লঙ্ঘন বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এই ঘটনা আমেরিকার ইসরায়েল নীতিতে একটি নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে রয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ এই পরিবর্তন নিশ্চিত করে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের মধ্যে ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন এখনো টিকে আছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ ও খ্রিস্টানদের ওপর হামলার কারণে কার্লসনের মতো ব্যক্তিত্বদের ভিন্নমত প্রকাশিত হওয়ায় সেই ঐকমত্য ভাঙতে আংশিকভাবে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী খ্রিস্টান ভিত্তির মধ্যে সমর্থন হারানো দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে পুনর্গঠন করতে পারে।
লেবাননে একজন ইসরায়েলি সেনা যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙছেন। ছবি: রয়টার্স
লেবাননে একজন ইসরায়েলি সেনার যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙার একটি ছবি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ক্রোধের জন্ম দিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদক আলি হার্বের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনাটি ইসরায়েলের প্রতি ক্রমবর্ধমান ক্রোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে– এবার তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাগা ঘাঁটির কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। যে ডানপন্থী মহল খ্রিস্টান মূল্যবোধ সমর্থনের দাবি করে এবং যেখানে ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন একসময় অলঙ্ঘনীয় নিয়ম ছিল, সেই মহলেও এই খ্রিস্টীয় ধর্মীয় প্রতীক অবমাননার ঘটনা সমালোচনার আগুন জ্বালিয়েছে।
যদিও এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে ইসরায়েলের ব্যাপক নৃশংসতার মধ্যে মাত্র একটি যা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের দেবল শহরের কাছে সংঘটিত এই ঘটনার পর নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দেন। তিনি বলেন, “আমি এ কাজের সর্বোচ্চ নিন্দা করি। সামরিক কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত পরিচালনা করছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে আলোড়ন তুলেছে ট্রাম্পের সাবেক মিত্র ও ডানপন্থী ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের প্রতিক্রিয়া। তিনি তার নিউজলেটারে লিখেছেন, “আমেরিকার করপোরেট মিডিয়া দেখে এটা কখনো জানা যাবে না, কিন্তু এই ধরনের ঘটনা বিরল নয়। ইসরায়েলি সরকার দশকের পর দশক ধরে তার সেনাদের বর্বরের মতো আচরণ করতে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উদারভাবে অর্থায়ন নিয়েছে। এখনকার এবং অতীতের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো সোশ্যাল মিডিয়া ইসরায়েলের আচরণ বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেছে।”
সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওমেন মার্জরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের যুদ্ধবাজ পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে তার সঙ্গে মতবিরোধ করেছিলেন। ইসরায়েলি সেনার যিশুর মূর্তির মাথায় স্লেজহ্যামার দিয়ে আঘাত করার বিষয়ে তিনি তার এক্সে পোস্ট লিখেছেন যে, “আমাদের সবচেয়ে ভালো মিত্র প্রতি বছর আমাদের ট্যাক্সের অর্থ ও অস্ত্র থেকে কোটি কোটি ডলার নেয়।”
সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও ট্রাম্পের আরেক মিত্র ম্যাট গেটজ মাত্র একটি শব্দে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন– ‘ভয়াবহ’।
সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা কীভাবে এই ঘটনাকে সমর্থন দিতে পারে তা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা বলবেন– এই ইসরায়েলি সেনার যিশু খ্রিস্টের মূর্তির মাথা ভাঙতে সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ছিলেন কারণ হিজবুল্লাহ ও হামাস ভেতরে লুকিয়ে ছিল। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
এই ক্রোধ ট্রাম্পের মাগা সমর্থকগোষ্ঠীতে ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠ জোট নিয়ে বাড়তে থাকা সন্দেহের প্রতিধ্বনি।
ইসরায়েলের সমর্থকরা মূর্তি ভাঙাকে একজন সেনার বিচ্ছিন্ন ভুল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেও আল জাজিরার প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এটি একটি ধারারই প্রতিফলন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের দেইর মিমাসের একটি চার্চে দুজন সেনার মধ্যে একটি নকল বিবাহের দৃশ্য ধারণ করে ভবনটি ভাঙচুর করে। গত বছর একটি ইসরায়েলি ট্যাংক দক্ষিণ লেবানিজ গ্রাম ইয়ারাউনে সেন্ট জর্জের একটি মূর্তি ভেঙে দেয়। গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল বেশ কয়েকবার ফিলিস্তিনি চার্চে বোমা মেরেছে, যার মধ্যে ২০২৩ সালে একটি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, গাজায় যুদ্ধের সময় ইসরায়েল এক হাজারের বেশি মসজিদ এবং তিনটি চার্চ ধ্বংস করেছে।
এই ঘটনায় ক্যাথলিক নেতারাও সরব হয়েছেন। ক্যাথলিক অর্ডিনারিজের সমাবেশ থেকে যিশু খ্রিস্টের মূর্তিতে আক্রমণের নিন্দা করে বলা হয়েছে, এই কাজ খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি একটি গুরুতর অপমান। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের খ্রিস্টান প্রতীক অবমাননার অন্যান্য ঘটনার পাশাপাশি এটি নৈতিক ও মানবিক গঠনের এক উদ্বেগজনক ব্যর্থতা প্রকাশ করে। এখানে প্রাথমিক শ্রদ্ধাবোধও গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
নেতানিয়াহু নিজে দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল খ্রিস্টানদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো আচরণ করে। তিনি বলেছেন, সিরিয়া ও লেবাননে মুসলমানরা খ্রিস্টানদের হত্যা করছে। আর ইসরায়েলের খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু আল জাজিরার প্রতিবেদন এই দাবির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাশাপাশি রেখেছে– লেবাননেই মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ খ্রিস্টান জনসংখ্যা রয়েছে এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট একজন ম্যারোনাইট ক্যাথলিক।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ফিলিস্তিনি যাজক মুনথার আইজ্যাক সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “ক্ষোভটা একটি ধ্বংস হওয়া যিশুর মূর্তি নিয়ে হওয়া উচিত নয়–সেটা জঘন্য। প্রকৃত ক্ষোভ হওয়া উচিত বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা, মানবিক মর্যাদায় আঘাত, গাজা ও লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে। যুদ্ধ খারাপ, আমাদের জবাবদিহিতা দরকার। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার ট্রাম্প ও কংগ্রেসকে হস্তক্ষেপ করে ইসরায়েলের এই সীমা লঙ্ঘন বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এই ঘটনা আমেরিকার ইসরায়েল নীতিতে একটি নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে রয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ এই পরিবর্তন নিশ্চিত করে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের মধ্যে ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন এখনো টিকে আছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ ও খ্রিস্টানদের ওপর হামলার কারণে কার্লসনের মতো ব্যক্তিত্বদের ভিন্নমত প্রকাশিত হওয়ায় সেই ঐকমত্য ভাঙতে আংশিকভাবে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী খ্রিস্টান ভিত্তির মধ্যে সমর্থন হারানো দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে পুনর্গঠন করতে পারে।