Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি আমিরাতের

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৪২
ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি আমিরাতের

বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে পরিচিত পেট্রোডলার ব্যবস্থা এক নতুন ও উদ্বেগজনক চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন ট্রেজারি বা অর্থ মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে দিয়েছে যে, দেশটি তেল বাণিজ্যে চীনা ইউয়ান ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারে। ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে এবং সেই চাপে আবুধাবি একটি আর্থিক পরিত্রাণের জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে। আর সেই চাপের অংশ হিসেবেই এই পরোক্ষ হুমকি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সাথে এক বৈঠকে আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালেদ মোহাম্মদ বালামা এই হুমকি দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বালামা ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি বাড়তে থাকলে ডলারের তারল্য সংকট এড়াতে আবুধাবির নতুন কিছু প্রয়োজন হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন এই হুমকি দিচ্ছে তা বুঝতে হলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ব্যাপকতার দিকে তাকাতে হবে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ব্যয় বাড়াতে অসমমিতিক চাপের কৌশল অনুসরণ করেছে। এই কৌশলের মূল শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের প্রতিশোধের সবচেয়ে বড় ভার বহন করেছে দেশটি–২,৮০০-এর বেশি ড্রোন ও মিসাইল আমিরাতে ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন ট্রেজারি একটি মুদ্রা অদলবদল ব্যবস্থা অফার করতে পারে, যদিও এই ধরনের ব্যবস্থা সাধারণত ফেডারেল রিজার্ভ পরিচালনা করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ফেড-এর আমিরাতকে এই অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা গত বছর আর্জেন্টিনার একটি মূল নির্বাচনের আগে ট্রেজারি কর্তৃক ২ হাজার কোটি ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইরান যুদ্ধের খরচের কিছু অংশ বহন করবে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের অধ্যাপক লিন্ডা বিলমেস অনুমান করেছেন যে, সংঘাতের প্রথম ৪০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন সরাসরি ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মার্কিন নীতির প্রতি আরব দেশগুলোর হতাশা উপসাগরীয় সরকারের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্য মন্তব্যেও উঠে এসেছে। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাবেক উপদেষ্টা আবদুল খালেক আবদুল্লা দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার যুক্তি হলো, এই ঘাঁটিগুলো কৌশলগত সম্পদের চেয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি বিকল্প জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল হিসেবে তিনি উন্নত মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র অধিগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

ফিরছে বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতা: দায় কার?ফিরছে বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতা। ছবি:এআই

এই ঘটনাপ্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমান্তরাল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির তেল বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার। ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো–যেগুলোকে সে সংঘাতে নিরপেক্ষ মনে করে–তাদের কাছ থেকে টোল আদায় করছে। এই মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে ইউয়ানে বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। এই ব্যবস্থা মার্কিন আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করছে। অর্থাৎ একদিকে ইরান হরমুজে ইউয়ান-ভিত্তিক একটি সমান্তরাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করছে, অন্যদিকে আমিরাত ওয়াশিংটনকে বলছে তারাও ইউয়ানে যেতে বাধ্য হতে পারে।

এই পরিস্থিতি পেট্রোডলার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর বিপদ সংকেত। ১৯৭৪ সালে সৌদি আরবের সাথে করা চুক্তির ভিত্তিতে যে পেট্রোডলার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল–যেখানে তেল কেবল মার্কিন ডলারে বিক্রি হবে এবং বিনিময়ে আমেরিকা সামরিক সুরক্ষা দেবে–সেই ব্যবস্থাটি আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ডলারের আধিপত্য শুধু একটি মুদ্রার প্রশ্ন নয়, এটি মার্কিন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কর্তৃত্বের মেরুদণ্ড। পেট্রোডলার ব্যবস্থা দুর্বল হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ঋণ সহজে অর্থায়ন করার সক্ষমতা, সুদের হার নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে প্রাধান্য– সবকিছুতেই চাপ আসবে।

ইরান যুদ্ধ: পর্দার আড়ালে জিতছে চীনtrump & xi

আমিরাতের এই হুমকি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক দেশ তেল বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ইউয়ান ও রুবলে তেল বাণিজ্য করছে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হিসেবে ইউয়ানে তেল কেনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। সৌদি আরবও চীনের সাথে কিছু তেল বিক্রয়ে ইউয়ান গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত–আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অন্যতম প্রধান আশ্রয়–এই হুমকি দিচ্ছে, এটি মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য একটি গভীর সতর্ক সংকেত।

পরিস্থিতির মূল প্রশ্নটি হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি আমিরাতের দাবি মেনে নিয়ে একটি আর্থিক ত্রাণ প্যাকেজ দেবে, নাকি ঝুঁকি নেবে যে একটি ঘনিষ্ঠ মিত্র সত্যিই ডলার থেকে সরে গিয়ে ইউয়ানের দিকে যেতে পারে? ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য উভয় বিকল্পেই সমস্যা আছে। ত্রাণ দিলে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও একই দাবি করবে। না দিলে পেট্রোডলার ব্যবস্থার ভিত্তি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়বে।

ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়–এটি বৈশ্বিক আর্থিক শৃঙ্খলার একটি পরীক্ষা। হরমুজে ইউয়ান, আমিরাতের হুমকি, ইরানের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টোল আদায়–এই সবকিছু মিলিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে: মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেই ভিত্তিটাই এই যুদ্ধে কাঁপছে।

বিষয়: আরবমার্কিন ডলারইরানইরান-ইসরায়েল সংঘাতমধ্যপ্রাচ্যডোনাল্ড ট্রাম্পআরব আমিরাতমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রচীন
সর্বশেষ
  • ১

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ২

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৩

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৪

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

  • ৫

    ‘২৪ ঘণ্টা হল খোলা চাই, এইখানে একটা মিসলিডিং আছে’

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড