ভারতে উমর খালিদের জামিন আবেদন খারিজ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ভারতে উমর খালিদের জামিন আবেদন খারিজ
ভারতের ছাত্র আন্দোলনকর্মী উমর খালিদ। ছবি: ফেসবুক

ভারতের দুজন ছাত্র আন্দোলনকর্মীকে বিনা বিচারে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে এবং তাদেরকে জামিনও দেওয়া হচ্ছে না।

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার পর গ্রেপ্তার হওয়া উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, রাজধানীতে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন তারা।

ওই সহিংসতায় ৫৩ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই মুসলিম। কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন এবং গত কয়েক বছরে বিভিন্ন আদালতে বারবার জামিনের আবেদন করেও তারা ব্যর্থ হন। তবে একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও পাঁচজন আন্দোলনকর্মীকে আদালত জামিন দিয়েছে।

এই দাঙ্গা হয়েছিল বিজেপি সরকারের নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস চলা বিক্ষোভের সময়, জাতিসংঘ যেটিকে “মৌলিক বৈষম্যমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছিল।

সোমবার সকালে দেওয়া আদেশে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, খালিদ ও ইমামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অন্যদের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় তাদের জামিন দেওয়া হয়নি। আদালত আরও বলে, এক বছর পরেই তারা আবার জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, উমর খালিদ ২০১৯ সালে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। শারজিল ইমাম গ্রেপ্তারের সময় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ছিলেন। দুজনেরই বয়স এখন ৩৭ বছর।

কারাবন্দি আন্দোলনকর্মীদের এই মামলা ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের এক সাবেক বিচারপতি, তিনজন অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতি এবং এক সাবেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এক প্রতিবেদনে বলেন, আন্দোলনকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আরোপের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ তারা পাননি।

উমর খালিদের জামিন আবেদন গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন আদালতে অন্তত পাঁচবার খারিজ হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিনি পরিবারের বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য দু’বার স্বল্পমেয়াদি মুক্তি পেয়েছিলেন। শারজিল ইমামের জামিন আবেদন আগেও অন্তত দু’বার খারিজ হয়েছে।

সম্পর্কিত