Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

লোহিত সাগরে তেল অবরোধে এশিয়া কতটা চাপে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৬: ০১
লোহিত সাগরে তেল অবরোধে এশিয়া কতটা চাপে?
গত সপ্তাহে হুতিরা লোহিত সাগর ছেড়ে যাওয়া অন্তত দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ছবি: রয়টার্স

গত ছয় মাসে দ্বিতীয়বারের মতো বড় জ্বালানি সংকট এড়াতে হিমশিম খাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অবরোধ শুরু হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন তেল পরিবহনের জন্য পুরোপুরি খোলা রয়েছে কেবল সুয়েজ খাল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জাপান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ তাদের আমদানি করা তেলের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনে। তাই ইয়েমেনের হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার পর এসব দেশ বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা শুরু করেছে। বাব এল-মান্দেব প্রণালিই লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। তখন এশিয়ার অনেক দেশ বড় ধাক্কা খেয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশগুলোকে তেলের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হয়েছিল।

এশিয়া গ্রুপ থিংকট্যাংকের আহমেদ হেলাল বলেন, বিশ্বে অতিরিক্ত তেলের মজুত এখন প্রায় শেষের দিকে। হাতে খুবই কম তেলের মজুত রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দ্য গার্ডিয়ান বলছে, জাপানসহ কয়েকটি দেশ জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে ভর্তুকিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। হুতিদের অবরোধের ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কিছু দেশ জ্বালানির ওপর কর ছাড়ের মেয়াদও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এতে জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সরকারের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা ৬ জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ইরানেরVessels in the Strait of Hormuz near the beach of Bandar Abbas, Iran, July 27, 2026–REUTERS

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এখন লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ায় সেই চাপ আরও বাড়তে পারে। মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব উপসাগরীয় উপকূল থেকে তেল পাঠানোর পথ বদলে দেয়। দেশটি পূর্ব উপকূলের বদলে পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে লোহিত সাগর হয়ে তেল রপ্তানি শুরু করে। বর্তমানে সৌদি আরবের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৭০ শতাংশের বেশি এই বন্দর দিয়েই যায়।

এটি চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অনেক এশীয় দেশের জন্য বড় স্বস্তি ছিল। কারণ চীন সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা, আর তার পরেই রয়েছে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব উপসাগরীয় উপকূল থেকে তেল পাঠানোর পথ বদলে দেয়। ছবি: রয়টার্স
মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব উপসাগরীয় উপকূল থেকে তেল পাঠানোর পথ বদলে দেয়। ছবি: রয়টার্স

হুতিদের হামলার ঝুঁকি এড়াতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু তেল কোম্পানি বিকল্প পথ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তারা তেলের জাহাজ সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে পাঠিয়ে সেখান থেকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরিয়ে এশিয়ায় আনতে চাইছে। তবে এই পথে পরিবহন করতে অনেক বেশি খরচ হয়।

সাধারণত সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি) পুরো তেলভর্তি অবস্থায় সুয়েজ খাল পার হতে পারে না। তাই এসব জাহাজকে লোহিত সাগরে তেলের প্রায় অর্ধেক নামিয়ে রাখতে হবে। পরে সেই তেল মিসরের সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে নেওয়া হবে। জাহাজ সুয়েজ খাল পার হওয়ার পর আবার সেই তেল তুলতে হবে। এতে খরচ ও জটিলতা দুটোই বেড়ে যায়।

আর যদি তেল ভূমধ্যসাগর হয়ে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে আনা হয়, তাহলে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের জন্য যাত্রার সময় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাবে। এতে ভাড়া ও জ্বালানি খরচ আরও বাড়বে।

হরমুজের পর লোহিত সাগরকেও কি হাতিয়ার বানাবে ইরান?strait of hormuz

তবে আপাতত অনেক দেশ এই অতিরিক্ত খরচ মেনে নিতে রাজি। কারণ গত সপ্তাহে হুতিরা লোহিত সাগর ছেড়ে যাওয়া অন্তত দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ সপ্তাহে তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাতেও হামলা করেছে। ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। হুতিদের হুমকিতে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের গবেষণা পরিচালক ম্যাট স্মিথ বলেন, তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচলের ধরনই প্রমাণ করছে, তারা এই হুমকিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।

এদিকে বীমা কোম্পানিগুলোও যুদ্ধঝুঁকির কারণে প্রিমিয়াম বাড়িয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে এই বীমা খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে একটি জাহাজের একবার যাতায়াতেই অতিরিক্ত কয়েক লাখ ডলার খরচ হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের বোঝা এশিয়ার সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে তারা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাচ্ছেন।

আহমেদ হেলাল বলেন, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের সর্বোচ্চ সময়ে ব্যবহার কমানোর চেষ্টা হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

সংকটে ধরা পড়ল দুর্বলতা

মার্চে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এশিয়ার অনেক দেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছিল। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার চালু করা হয়। শ্রীলঙ্কায় চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়। ভিয়েতনামে অনেক কর্মীকে বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন এসব দেশের হাতে বিকল্প ব্যবস্থা ও ধৈর্য–দুটোই কমে আসছে।

হুতিদের হুমকির কারণে ফিলিপাইন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া তেল ও গ্যাসের কৌশলগত মজুত বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এসেছে।

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচল করতে পারবে না: হুতিred sea

তবে স্বল্পমেয়াদে সহজ কোনো সমাধান না থাকায় এশিয়ার দেশগুলো এখন অন্য অঞ্চল থেকে তেল কেনার চেষ্টা করছে। এতে আবারও লাভবান হতে পারে রাশিয়া।

চলতি বছরের শুরুতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার তেল কিনেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানায়, সর্বশেষ সংকট মোকাবিলায় চীনের তেল শোধনাগারগুলোও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ তেল কেনা বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট আবারও দেখিয়ে দিল যে এশিয়ার অনেক দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা এখনো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

আহমেদ হেলালের মতে, এই সংকটের কারণে সরকারগুলোকে তাদের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা এবং জরুরি তেলের মজুত রাখার সক্ষমতা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।

তবে আপাতত তাদের সবচেয়ে বড় কাজ হলো যেভাবেই হোক তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা। কারণ, হেলালের ভাষায়, তাদের হাতে ব্যবহার করার মতো অতিরিক্ত মজুত এখন খুবই কম।

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রমধ্যপ্রাচ্যএশিয়াজ্বালানি তেলসংঘাততেললোহিত সাগরইরানহরমুজ প্রণালি
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।