Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০৪
সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একাংশের আপত্তি- এই ব্যবস্থা মুসলিম পারিবারিক আইন, শরিয়তের ফারায়েজ, হেবা ও উত্তরাধিকার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সরকার অবশ্য বলছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা হেবা বা শরিয়াহ আইনের বিকল্প নয়। এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি।

কেন বিতর্ক

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রোববার জাতীয় সংসদে বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি তোলেন বিরোধী দলের সদস্যরা। কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হলে তারা কয়েক মিনিটের জন্য ওয়াকআউট করেন।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেন বলেন, “এই আইনটি কোরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিরোধী।”

নজিবুর রহমানের বক্তব্য, আজীবন ভোগদখলের বিধান রেখে সম্পত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা হলে আল্লাহর নির্ধারিত মিরাসি বিধানকে বাইপাস করার সুযোগ তৈরি হবে। এটি ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্টের মূলনীতির সঙ্গে মেলে না বলেও দাবি করেন তিনি।

বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন থাকলেও ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের মাধ্যমেই এর সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদের আপত্তি যেখানে

বিলটির সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে হেবা ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থার বিষয়টি।

শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, “ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী হেবা সম্পূর্ণ হতে সম্পত্তির বাস্তব দখল বা ‘কব্জা’ হস্তান্তর জরুরি।”

তার বক্তব্য, কাগজে মালিকানা দিয়ে বাস্তব দখল নিজের কাছে রেখে মৃত্যুর পর কার্যকর হওয়ার বিধান মূলত হেবার সংজ্ঞা বদলে দেয়। এতে উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার পথ খুলে যেতে পারে।

ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান বিলটিকে ‘শরিয়তের ওপর কৌশলী আঘাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

পাস হওয়া বিল ‘গণবিরোধী’ বলে ওয়াকআউট বিরোধীদলেরshafiqur rahman at parliament

কামরুল হাসান বলেন, “১৮৮২ সালের পুরানো আইন সংশোধনের নামে মানবাধিকার ও সমতার কথা বলে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হচ্ছে। গুটিকয়েক সন্তানের অপকর্মের জন্য মূল ইসলামি চেতনা-সংক্রান্ত আইনি কাঠামোতে হাত দেওয়া অনুচিত।”

দেশের ইসলামিক স্কলারদের আপত্তির কথা উল্লেখ করে বিলটি বিস্তারিত পর্যালোচনা ও জনমত যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল আলিম বলেন, “আবেগের বশে বা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে বাবা-মা যেভাবে সর্বস্ব দান করে নিঃস্ব হন, তার সমাধানের জন্য ইসলামি নীতির এক-তৃতীয়াংশের বেশি দান না করার বাধ্যবাধকতার রাষ্ট্রীয় প্রয়োগ প্রয়োজন ছিল।”

বিলটি ইসলামি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে তিনি ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবরের মধ্যে বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব করেন।

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য

বিতর্কে অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আইনটি আনার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও এর প্রয়োগ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সুরা নিসার মিরাস-সংক্রান্ত নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।” তিনি বলেন, “ইসলামে হেবা বা উইলের শর্ত হলো গ্রহীতা সঙ্গে সঙ্গেই তার মালিকানা ও ভোগদখল লাভ করবেন।”

ওছিয়তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি রক্তসম্পর্কীয় ওয়ারিশদের বাইরে দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথাও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। পাশাপাশি বর্তমান বিলে এসব নীতি না থাকায় এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে ও প্রকৃত হকদারের হক বিনষ্ট করবে বলে দাবি করে বিলটি এই অধিবেশনে পাস না করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও শরিয়া বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে পুনঃপরীক্ষার জন্য পাঠানোর তাগিদ দেন তিনি।

বিলের পক্ষে যা যুক্তি

এদিকে বিলটির মানবিক উদ্দেশ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, “সন্তানের হাতে বাবা-মায়ের নিগৃহীত হওয়া এবং বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে।”

তবে বিলটিতে সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, সন্তানরা বাবা-মাকে অবহেলা করলে দাতা যেন এককভাবে দলিল বাতিলের আবেদন করতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা প্রয়োজন।

পাশাপাশি সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়া বা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ বন্ধ করা এবং পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে দ্রুত সামারি ট্রায়ালের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেন এই স্বতন্ত্র্য সংসদ সদস্য।

একইভাবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও বিলটির মানবিক দিক সমর্থন করেন। তিনি বলেন, “অনেক কুলাঙ্গার সন্তান বাবা-মায়ের সমস্ত সম্পদ লিখে নিয়ে শেষ বয়সে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়।”

বাবা-মায়ের শেষ জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটিকে আরও শক্ত ও যুগোপযোগী করার পাশাপাশি দ্রুত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সরকারের ব্যাখ্যা

বিলটি নিয়ে সংসদে হওয়া বিতর্কের জবাব দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

প্রস্তাবিত বিলের ১২২অ ধারার সাব-সেকশন ৪ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ট্রান্সফারটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বা স্বতন্ত্র্য মোড হিসেবে গণ্য হবে।

এটি বিদ্যমান হেবা, সাধারণ দান বা শরীয়াহ ল’-এর মাধ্যমে অন্য যেকোনো উপায়ে হস্তান্তরিত দলিলের কার্যকারিতাকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন, সীমিত বা প্রভাবিত করবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, “সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সেল, মর্টগেজ, লিজ, এক্সচেঞ্জ ও গিফট–এই পাঁচ ধরনের হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে। বর্তমান বিলে সাধারণ গিফটের কথা বলা হয়েছে, যা হেবা থেকে আলাদা। ফলে হেবা বা উত্তরাধিকার আইন সর্বদা ইসলামি শরিয়া অনুসারেই পরিচালিত হবে।”

শেষ পর্যন্ত কী হলো

বিরোধীদের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গুম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইনের বিল সংসদে উত্থাপনের ঠিক আগে আবারও ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

রোববার রাত ৭টা ৫৬ মিনিটে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় তাদের মুখ কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা থাকতে দেখা যায়।

বিষয়: রাজধানীসরকারসংসদসম্পত্তিবিরোধী দল
সর্বশেষ
  • ১

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ২

    তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা তুলেছেন

  • ৩

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

  • ৪

    বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান: শামা ওবায়েদ

  • ৫

    হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ: রয়টার্স

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • বিপুল মার্কিন বন্ড বিক্রির সিদ্ধান্ত নরওয়ের, দুশ্চিন্তায় ওয়াশিংটন

    বিপুল মার্কিন বন্ড বিক্রির সিদ্ধান্ত নরওয়ের, দুশ্চিন্তায় ওয়াশিংটন

    ধারণা করা হচ্ছে, পৃথিবীর বৃহত্তম সার্বভৌম ওয়েলথ ফান্ড হিসেবে নরওয়ের এই সিদ্ধান্তের আর্থিক প্রভাব হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। কারণ বিশ্বজুড়ে সব তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রায় ১.৫ শতাংশ শেয়ার এককভাবে এই ফান্ডের অধীনে রয়েছে।