
ভারতের মোট আমদানিতে রুশ তেলের অংশীদারিত্ব আগের থেকে ৫০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে আনুমানিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এরপরও রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই আভাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। আজ সোমবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি কমেছে। এর মধ্য দিয়ে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে দাম।

দরপত্র অনুযায়ী, মোট ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এককভাবে কিংবা কনসোর্টিয়াম গঠন করে এক বা একাধিক ব্লকের জন্য বিড জমা দিতে পারবে।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, যুদ্ধ শুরুর সময় বিশ্বে তেলের মজুত প্রায় দশ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থায় ছিল। কিন্তু উপসাগরীয় সরবরাহের ঘাটতি পূরণে দেশগুলো মজুত থেকে তেল ব্যবহার করায় জুনের মধ্যে এই মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

একইসাথে আন্তর্জাতিক রুটের জন্যও জ্বালানির দাম কমানো হয়েছে।

মামুনুর রশীদ খান বলেন, প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

“অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের দেশে তেলের দাম যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডিমান্ড অনুযায়ী সাপ্লাইটা আমরা স্থিতিশীল রেখেছি। বৈশ্বিক অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে আমরা একেকটা অপরচুনিটি হিসেবে নিয়ে দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”

জ্বালানি তেলের পর এবার সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকস্মিক বিদায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। তেলের উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্টি এবং সৌদি আরবের সাথে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেক-এর বিরুদ্ধে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ‘বাকি বিশ্বকে ঠকানোর’ অভিযোগ তুলেছেন।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বড় প্রভাব পড়তে পারে খাদ্য নিরাপত্তায়। বিশেষত ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রবল।

সব মিলিয়ে, সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সংকটে কমছে না তেলের লাইন। এ ব্যাপারে এক পাঠাও চালক বলেন, “১৬ শতাংশ বাড়তি দাম দিয়ে তেলের সঙ্গে ভোগান্তি ফ্রি করে দিয়েছে।”

শুক্রবার ইরান জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খোলা থাকবে। তখন তেলের দাম কমেছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

বর্তমানে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, সেই সংকটের জন্য বিগত স্বৈরাচারী সরকার দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন।

বর্তমানে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, সেই সংকটের জন্য বিগত স্বৈরাচারী সরকার দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন।