Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

ইয়াকুতিয়া কেন বিশ্বের শীতলতম শহর

কেয়া সরকার

কেয়া সরকার

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ০৪
ইয়াকুতিয়া কেন বিশ্বের শীতলতম শহর

বর্তমানে বিশ্বের শীতলতম স্থান হলো রাশিয়ার ইয়াকুতিয়া। শীতে এই শহরের মানুষ এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে যান যে, বাইরে বের হলে তাদের চোখের পাপড়ি এমনকি দাড়িও জমে যায় বরফে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ভারতীয় গণমাধ্যম মানি কন্ট্রোল বলছে, সাইবেরিয়ার স্থলবেষ্টিত অববাহিকায় অবস্থিত এই ইয়াকুতিয়া শহর। শীতকালে এখানে বাতাস আটকে পড়ে, যা শক্তিশালী শীতকালীন চাপবলয় তৈরি করে। রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকায় ভূমির তাপ দ্রুত মহাশূন্যে বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে স্থায়ী বরফের স্তর বা পারমাফ্রস্ট মাটির ভেতরের তাপ উপরে বাধা দেয়। এসব কারণে ইয়াকুতিয়া তৈরি হয়েছে চরম শীতের এক ‘হিমায়িত ফাঁদে’।

ইয়াকুতিয়ায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মাইনাস ৬২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শহরটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৬৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ড করা হয়েছিল। এই চরম শীতে শহরটির দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র কয়েক মিটারে। এ সময় ইয়াকুতিয়ায় দিনে চার ঘণ্টারও কম সূর্যালোক পাওয়া যায়।

এই তীব্র শীতে কীভাবে টিকে থাকেন ইয়াকুতিয়ার বাসিন্দারা?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের ১০ থেকে ২০ মিনিটের বেশি সময় বাইরে না দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন।

এই শহরে টিকে থাকতে হলে জীবনযাত্রায় ব্যাপক অভিযোজন প্রয়োজন। বাসিন্দারা পরেন কয়েক স্তর বিশিষ্ট বিশেষ ধরনের তাপরোধী পোশাক, মোটা ইনসুলেটেড বুট এবং ঐতিহ্যবাহী পশমাবৃত দস্তানা, যাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

যানবাহনের ইঞ্জিন অয়েল ও ব্যাটারি জমে যাওয়া ঠেকাতে অনেক গাড়ি উত্তপ্ত গ্যারেজে সারাক্ষণ চালু রাখা হয়। শীতকালে বহু মানুষই গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করেন, কারণ খোলা জায়গায় গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে তা আর চালু নাও হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বের শীতলতম স্থান হলো রাশিয়ার ইয়াকুতিয়া। ছবি: ইয়াকুতিয়া
বর্তমানে বিশ্বের শীতলতম স্থান হলো রাশিয়ার ইয়াকুতিয়া। ছবি: ইয়াকুতিয়া

ইয়াকুতিয়ার বাড়িঘরও নির্মিত হয়েছে এই চরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে। ভবনগুলো মাটির ওপর সরাসরি না বসিয়ে খুঁটির ওপর দাঁড় করানো হয়, যাতে জমাট বাঁধা বরফের প্রভাব এড়ানো যায়। অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে থাকে সার্বক্ষণিক হিটিং ব্যবস্থা এবং একাধিক ইনসুলেটেড দরজা, যা ভেতরের উষ্ণতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

সম্পদে ভরা ভূমিতে কষ্টের জীবন

প্রাইম এশিয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াকুতিয়ার সরকারি নাম ‘সাখা সিরে প্রজাতন্ত্র’ যার অর্থ ইয়াকুতদের ভূমি। স্থানীয়দের মধ্যে একটি প্রবাদ প্রচলিতে আছে যে “ঈশ্বর যখন এই ভূমিতে এসেছিলেন, তীব্র শীতে তার হাত জমে গিয়েছিল, আর সে কারণেই তিনি তার সব ধনরত্ন এখানে ফেলে গিয়েছিলেন।”

এই অঞ্চল সত্যিই হীরা, সোনা, অ্যান্টিমনি, টিন, তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসে ভরপুর।

তবে এই ঐশ্বর্যের উল্টো পিঠও আছে। খনিজ সম্পদের অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে নদী দূষিত হচ্ছে, বাতাস ভরে উঠছে শিল্পকারখানার ধুলায়। আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা ও ভূমি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বছরের অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা শূন্যের নিচে থাকে, শীতে তা নেমে যায় মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। বৈশ্বিক উষ্ণতা এখানকার মানুষের দুর্ভোগ খুব একটা কমাতে পারেনি।

রাশিয়ার এই শহরটিতে ৩ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র শীত নিয়মিতভাবেই সহ্য করে থাকেন তারা।

ইয়াকুতিয়ায় দিনে চার ঘণ্টারও কম সূর্যালোক পাওয়া যায়। ছবি: রয়টার্স
ইয়াকুতিয়ায় দিনে চার ঘণ্টারও কম সূর্যালোক পাওয়া যায়। ছবি: রয়টার্স

মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াকুতিয়ার চরম শীত বিজ্ঞানীদের জন্য এক প্রাকৃতিক গবেষণাগার। আবহাওয়াবিদরা এখানে চাপবলয় ও আর্কটিক বাতাসের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেন। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা নজর রাখেন পারমাফ্রস্ট গলে মিথেন নিঃসরণের ঝুঁকির দিকে।পাশাপাশি, স্থাপত্য ও প্রযুক্তিগত সমাধান থেকেও নেওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

এই অঞ্চল গবেষকদের শেখায়-কীভাবে মানুষ কঠোর পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। প্রকৌশল, জলবায়ু মডেলিং ও বেঁচে থাকার কৌশল উন্নয়নে ইয়াকুতিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই চরম ঠান্ডা পরিবেশেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে অনেক অঞ্চলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও মানব অবকাঠামো।

ইয়াকুতিয়া নিয়ে গবেষণা ভবিষ্যতের জলবায়ু ও সমাজে এর প্রভাব বুঝতে সহায়তা করছে এবং দেখিয়ে দিচ্ছে চরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের টিকে থাকার মধ্যে ভারসাম্য কতটা সূক্ষ্ম।

বিষয়: রাশিয়াজলবায়ু পরিবর্তনশীতজলবায়ুসাইবেরিয়ানশীতকাল
সর্বশেষ
  • ১

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ২

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৩

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৪

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

  • ৫

    ‘২৪ ঘণ্টা হল খোলা চাই, এইখানে একটা মিসলিডিং আছে’

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।