Advertisement Banner

যুদ্ধ থামাতে গিয়ে পাকিস্তান কি পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যুদ্ধ থামাতে গিয়ে পাকিস্তান কি পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এই পরিস্থিতিতে তেহরানের ওপর আবারও হামলা চালানোর ব্যাপারে বেশ জোরালোভাবে ভাবছেন ট্রাম্প। প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধ থামাতে গিয়ে পাকিস্তান কি পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে কি না তা নিয়ে।

কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানায়, গত কয়েক সপ্তাহের চেয়ে এ মুহূর্তে হামলার ব্যাপারে ট্রাম্পকে সিরিয়াস মনে হচ্ছে। ইরান যেভাবে আলোচনা চালাচ্ছে এতে ট্রাম্প হতাশ হয়েছেন। অপরদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তিনি অধৈর্য হয়ে গেছেন। ইরানি নেতাদের মধ্যে বিভাজনের কারণে তারা পারমাণবিক কার্যক্রমের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বলেও মনে করেন ট্রাম্প।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের জবাবে যা বলেছে, এতে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে তেহরান কি সত্যিকার অর্থে আলোচনা চায় কি না।

সূত্রগুলো সিএনএনকে জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালানোর জন্য বলছেন। তাদের ভাষ্য, হামলায় ইরান আরও দুর্বল হবে এবং তারা আলোচনার টেবিলে বসবে। তবে আরেক পক্ষ এখনো কূটনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। তারা বলেছেন, ট্রাম্প যে খুশি নন সেই বার্তা পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে কি না এ নিয়ে তারা সন্দিহান।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ইরানের বলা ইতিবাচক কথাগুলোই কেবল মার্কিনিদের জানানো হয়। তারমানে, পাকিস্তান ইতিবাচকভাবে সবকিছু তুলে ধরছে। যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প বর্তমান আলোচনা নিয়ে যে সন্তুষ্ট নন সেটি ইরানকে জানিয়েছে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। তারা সতর্কতা দিয়েছেন, এটিই কূটনীতির শেষ সুযোগ। তবে ইরান এসবে পাত্তা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আবারও বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

তবে আলোচনা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে চীন সফরে রওনা হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম।

এক মাসের বেশি যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্ততা করার জন্য দুই দেশের পক্ষ থেকেই পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

এরপর ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের অনুরোধে ওই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে, যাতে আলোচনার সুযোগ অব্যাহত থাকে। ইরানের কর্মকবর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয় ইসলামাবাদে।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মাধ্যমেই যুদ্ধ বন্ধের কূটনীতি অব্যাহত রাখে ওয়াশিংটন-তেহরান। সম্প্রতি ইসলামাবাদের মাধ্যমে ইরানে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে তেহরান।

তবে ইরানের জবাব পেয়েছে উল্লেখ করে রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “এটি আমার পছন্দ হয়নি–পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”

সম্পর্কিত