Advertisement Banner

সাদমান-মাহমুদুল কি একই ভুল বারবার করবেন?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
সাদমান-মাহমুদুল কি একই ভুল বারবার করবেন?
প্রথম টেস্টে বাজে পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। ছবি: বিসিবি

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন সকালের সেশন ছিল বলেই হয়তো কিছুটা ছাড় পেতে পারেন সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান। তবে দ্বিতীয় ইনিংসেও যখন একই ভুল করে দুজন দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান, তখন তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই যৌক্তিক। দুই ওপেনার আরও একবার ব্যর্থ হওয়ায় যথারীতি চাপ বেড়েছে নাজমুল হোসেন ও মুমিনুল হকের ওপর, যা লাঞ্চ বিরতির আগ পর্যন্ত ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন দুজন।

প্রথম ইনিংসে শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হওয়া মাহমুদুল আজ দিনের শুরু থেকেই ছিলেন আড়ষ্ট। রান করার চেয়ে টিকে থাকার চেষ্টাই ছিল বেশি। টেস্ট ক্রিকেটে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া দ্রুত রান বের করার তাড়া নেই বটে, তবে ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সবসময় রক্ষণাত্মক ব্যাটিংও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিশেষ করে যখন কন্ডিশন ক্রমেই রান করার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে দুই ওপেনারের এমন ধীরগতির ব্যাটিং যে দলের জন্য চাপ বাড়িয়ে দেয়, সেটা দৃশ্যমান চলমান ম্যাচেই। একটা টেস্টের দুই ইনিংস দেখেই তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়তো ঠিক নয়। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ সিরিজেই যেখানে বড় রান ছিল তাদের।

মাহমুদুল তবুও খোলস বন্দি হয়ে শেষ পর্যন্ত ৫ রানে (২৬ বলে) আউট হন দৃষ্টিকটুভাবে। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া মোহাম্মদ আব্বাসের গুড লেন্থ ডেলিভারিতে ফ্লিক করতে গিয়ে লাইন মিস করে হন এলবিডব্লিউর শিকার।

টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ১০ ওভারে এখন পর্যন্ত পেসারদের বিপক্ষে ৭০৬ বল খেলে মাহমুদুল রান করেছেন ৩০৬। এই সময়ে সিঙ্গেল নিয়েছেন ৬৮ বার, আর বাউন্ডারি মেরেছেন ৪১ বার। ডট দিয়েছেন ৫৬৫টি। আউট হয়েছেন ১৩ বার।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো করতে পারেননি মাহমুদুল হাসান। ছবি: বিসিবি
পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো করতে পারেননি মাহমুদুল হাসান। ছবি: বিসিবি

অর্থাৎ, ইনিংসের শুরুতে পেস সামলাতে তিনি হয় ডট খেলেন, নয়তো বাউন্ডারি থেকে রান করার চেষ্টাই বেশি করেন। বিশ্বমানের বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে এই পদ্ধতি যে কার্যকর নয়, আরও একবার সেটা প্রমাণ করেছে মিরপুর টেস্ট।

আরেক ওপেনার সাদমানের প্রতিরোধও টেকেনি বেশিক্ষণ। দিনে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই উইকেটের দেখা পান হাসান আলি। অফ স্টাম্পের বাইরে লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে খেই হারিয়ে সাদমান ক্যাচ তুলে দেন গালিতে। দুই ইনিংসে তার রান যথাক্রমে ১০ ও ১৩।

এই নিয়ে টেস্টে সাদমান ৫৩ ইনিংসে ৩৩ বার আউট হয়েছেন ১৫ ওভারের মধ্যে। স্ট্রাইক রেট ৪৮.৭৫। রান করেছেন ৭৮৩। অধিকাংশ সময়েই প্রথম ঘণ্টায় সাজঘরে ফেরার পাশাপাশি রানের চাকাও রাখতে পারেননি সচল।

আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে দুই ওপেনারের এমন ধীরগতির ব্যাটিং যে দলের জন্য চাপ বাড়িয়ে দেয়, সেটা দৃশ্যমান চলমান ম্যাচেই। একটা টেস্টের দুই ইনিংস দেখেই তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়তো ঠিক নয়। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ সিরিজেই যেখানে বড় রান ছিল তাদের।

তবে বিসিবিও যে এই পজিশনে পরিবর্তন চাচ্ছে, তার আভাস মেলে তানজিদ হাসানের স্কোয়াডে ডাক পাওয়া থেকেই, যিনি সাদমান ও মাহমুদুলের চেয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন।

তানজিদকে তাই হয়তো সাদা পোশাকে দেখা যেতে পারে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই। তবে বাংলাদেশ যদি তাদের মুখস্থ কম্বিনেশন-তত্ত্ব মেনে চলে, তাহলে হয়তো বাঁহাতি হওয়ায় কপাল পুড়বে সাদমানের।

এই দুজনের মধ্যে কে টিকে যাবেন, সেটাই হবে দেখার বিষয়। সাদমান প্রথাগত ওপেনার হওয়ার পাশাপাশি ছন্দে থাকলে ইতিবাচক ব্যাটিংও করতে পারেন। তবে মাহমুদুল ঘরোয়া ক্রিকেটে ওপেন না করেও শুরু থেকেই টেস্টে ওপেন করছেন। ২৮.১০ গড়ই বলে দিচ্ছে, এই ভূমিকায় এখন পর্যন্ত তিনি ভীষণ অনিয়মিত।

তানজিদকে তাই হয়তো সাদা পোশাকে দেখা যেতে পারে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই। তবে বাংলাদেশ যদি তাদের মুখস্থ কম্বিনেশন-তত্ত্ব মেনে চলে, তাহলে হয়তো বাঁহাতি হওয়ায় কপাল পুড়বে সাদমানের।

বাস্তবতা অবশ্য বলছে, সময় এসেছে পরিবর্তনের। আর সেটা হওয়া উচিত মাহমুদুলকে সরিয়েই। নির্বাচকেরা কি ভিন্ন কিছু করার সাহস দেখাবেন?

সম্পর্কিত