ফজলে রাব্বি

জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের আচরণকে সংকটের পূর্বাভাস মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কায় আজ শুক্রবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের দাবি করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রেশনিং ব্যবস্থাই বাজারের প্রকৃত সংকটের গভীরতার জানান দিচ্ছে।
বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেটকার ১০ লিটার এবং এসইউভি বা জিপ ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে। পরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে ডিজেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত।
পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণে কতটা প্রভাব পড়বে? বিশেষত যদি গ্রাহক এক পাম্প থেকে নিয়ে অন্য পাম্প থেকে আরও তেল কেনার মতো চালাকির আশ্রয় নেয়? বিদ্যুৎ ও জ্বালনী প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম এই প্রশ্নের জবাবে চরচাকে বলেন, “সেটাই তো একটা মেসেজ। গ্রাহকের যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, এই সিরিয়াল ধরে অন্য পাম্প থেকে তেল নেওয়ার ভোগান্তি যদি সে নিতে পারে, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। যারা চালাকি করবে, তাদের বলব, এমন চালাকির কোনো দরকার নাই। তেলের কোনো সংকট নাই।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম বলেন, “গ্রাহকদের কাছে আমাদের বিনীতি আবেদন থাকবে, আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য। বৈশ্বিক একটা সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা সবাই জানি। কিন্তু আমাদের তো কোনো ঘাটতি নাই। মার্চ মাসের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত তেলের মজুত আছে। আগামী সপ্তাহে আরও ৫ কার্গো তেল আসবে। তারপরও গত দুই দিনে চাহিদার চেয়ে দ্বিগুন তেল বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে সারা দিন ভিজিট করে গ্রাহকদের সচেতনতার কোনো অভাব আছে বলে মনে হয়নি।”
এই তেল গ্রহণ স্বাভাবিক মনে করছেন কিনা–এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পুরো তেলের সাপ্লাই চেন আমরা মনিটর করছি। এই সময় কোনো ধরনের কারসাজি শক্ত হাতে দমন করা হবে।”
সরকারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের কারণে গত দুদিনে চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ তেল বিক্রি হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উপক্রম হয়েছে।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে ভিন্নভাবে দেখছেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ আহমেদ। চরচা-কে তিনি বলেন, “সরকার যখন রেশনিং করে, তখনই বোঝা যায় যে আসলে সংকট আছে।”
এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, “দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত অত্যন্ত কম, যা দিয়ে মাত্র ৮ থেকে ৯ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশ প্রায় ১০০ শতাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তত তিন মাসের ‘কৌশলগত মজুত’ বা ‘লিকুইড গোল্ড রিজার্ভ’ থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। আমরা যদি গোল্ডকে রিজার্ভ হিসেবে রাখতে পারি, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, তেলের কৌশলগত মজুত রাখা আমাদের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।”
আওয়ামী লীগ সরকার জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দ্রুত তেল খালাস নিশ্চিত করতে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুড়িং উইথ ডাবল পাইপলাইন (এসপিএম) প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিল। আগেই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালী উপকূলে নির্মাণাধীন এই প্রকল্প চালু হলে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি তেল সরবরাহ সম্ভব হবে এবং তেল খালাসের সময় ১০-১২ দিন থেকে কমে ৪৮ ঘণ্টায় নেমে আসবে। এতে দেশের কার্যকর জ্বালানি মজুত সক্ষমতা ও সরবরাহ নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এসপিএম বাস্তবায়ন হলে, বর্তমানের সর্বোচ্চ ১৪ দিনের ডিজেল মজুত সক্ষমতা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ দিনে উন্নিত হবে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১৪ দিনের, পেট্রোলের ১৭ দিনের এবং অকটেনের ৩১ দিনের। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আমদানি প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা বাংলাদেশের পরিবহন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা।

জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের আচরণকে সংকটের পূর্বাভাস মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কায় আজ শুক্রবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের দাবি করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রেশনিং ব্যবস্থাই বাজারের প্রকৃত সংকটের গভীরতার জানান দিচ্ছে।
বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেটকার ১০ লিটার এবং এসইউভি বা জিপ ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে। পরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে ডিজেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত।
পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণে কতটা প্রভাব পড়বে? বিশেষত যদি গ্রাহক এক পাম্প থেকে নিয়ে অন্য পাম্প থেকে আরও তেল কেনার মতো চালাকির আশ্রয় নেয়? বিদ্যুৎ ও জ্বালনী প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম এই প্রশ্নের জবাবে চরচাকে বলেন, “সেটাই তো একটা মেসেজ। গ্রাহকের যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, এই সিরিয়াল ধরে অন্য পাম্প থেকে তেল নেওয়ার ভোগান্তি যদি সে নিতে পারে, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। যারা চালাকি করবে, তাদের বলব, এমন চালাকির কোনো দরকার নাই। তেলের কোনো সংকট নাই।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম বলেন, “গ্রাহকদের কাছে আমাদের বিনীতি আবেদন থাকবে, আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য। বৈশ্বিক একটা সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা সবাই জানি। কিন্তু আমাদের তো কোনো ঘাটতি নাই। মার্চ মাসের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত তেলের মজুত আছে। আগামী সপ্তাহে আরও ৫ কার্গো তেল আসবে। তারপরও গত দুই দিনে চাহিদার চেয়ে দ্বিগুন তেল বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে সারা দিন ভিজিট করে গ্রাহকদের সচেতনতার কোনো অভাব আছে বলে মনে হয়নি।”
এই তেল গ্রহণ স্বাভাবিক মনে করছেন কিনা–এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পুরো তেলের সাপ্লাই চেন আমরা মনিটর করছি। এই সময় কোনো ধরনের কারসাজি শক্ত হাতে দমন করা হবে।”
সরকারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের কারণে গত দুদিনে চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ তেল বিক্রি হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উপক্রম হয়েছে।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে ভিন্নভাবে দেখছেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ আহমেদ। চরচা-কে তিনি বলেন, “সরকার যখন রেশনিং করে, তখনই বোঝা যায় যে আসলে সংকট আছে।”
এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, “দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত অত্যন্ত কম, যা দিয়ে মাত্র ৮ থেকে ৯ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশ প্রায় ১০০ শতাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তত তিন মাসের ‘কৌশলগত মজুত’ বা ‘লিকুইড গোল্ড রিজার্ভ’ থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। আমরা যদি গোল্ডকে রিজার্ভ হিসেবে রাখতে পারি, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, তেলের কৌশলগত মজুত রাখা আমাদের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।”
আওয়ামী লীগ সরকার জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দ্রুত তেল খালাস নিশ্চিত করতে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুড়িং উইথ ডাবল পাইপলাইন (এসপিএম) প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিল। আগেই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালী উপকূলে নির্মাণাধীন এই প্রকল্প চালু হলে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি তেল সরবরাহ সম্ভব হবে এবং তেল খালাসের সময় ১০-১২ দিন থেকে কমে ৪৮ ঘণ্টায় নেমে আসবে। এতে দেশের কার্যকর জ্বালানি মজুত সক্ষমতা ও সরবরাহ নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এসপিএম বাস্তবায়ন হলে, বর্তমানের সর্বোচ্চ ১৪ দিনের ডিজেল মজুত সক্ষমতা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ দিনে উন্নিত হবে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১৪ দিনের, পেট্রোলের ১৭ দিনের এবং অকটেনের ৩১ দিনের। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আমদানি প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা বাংলাদেশের পরিবহন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা।