চরচা ডেস্ক

বাংলাদেশে একের পর এক হচ্ছে ভূমিকম্প। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ছয় শতাধিক। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক এবং ভূতাত্ত্বিক অবস্থানই এই ভূমিকম্পের জন্য দায়ী। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার কম্পনও হতে পারে দেশটিতে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতেও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানাচ্ছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর একেবারে বাইরের অংশটি প্রায় ১৫টি বড় খণ্ডে বিভক্ত, যেগুলোকে টেকটোনিক প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো মিলেই লিথোস্ফিয়ার তৈরি হয়। আমাদের পরিচিত ভূ-পৃষ্ঠের মহাদেশ ও সমুদ্রের তলদেশের ভূত্বক এবং তার নিচের ম্যান্টলের ওপরের স্তর দিয়ে লিথোস্ফিয়ার গঠিত হয়।
এই বিশাল টেকটোনিক প্লেটগুলো স্থির নয়; বরং তারা ম্যান্টলের ওপর ধীরে ধীরে চলাচল করে, যার ফলে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং পর্বতমালা তৈরি হয়।
গবেষকদের তথ্যমতে, টেকটোনিক প্লেটগুলো একে-অপরের সঙ্গে পাশাপাশি লেগে থাকে। কোনো কারণে এগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হলেই তৈরি হয় শক্তি। এই শক্তি সিসমিক তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যদি তরঙ্গ শক্তিশালী হয়, তাহলে সেটি পৃথিবীর উপরিতলে এসে পৌঁছায়। আর তখনো যদি যথেষ্ট শক্তি থাকে, তাহলে সেটা ভূত্বককে কাঁপিয়ে তোলে। এই কাঁপুনিই মূলত ভূমিকম্প।

নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ ড. মাইকেল স্টেকলারের নেতৃত্বাধীন এক দল বিজ্ঞানী বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন। ২০০৩ সালে এ গবেষণাটি শুরু করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ জিপিএস যন্ত্র বসিয়েছিলেন স্টেকলারেরা। একইসঙ্গে নিকটবর্তী অন্য দেশগুলোতেও যন্ত্র বসানো হয়েছিল। ভূতাত্ত্বিক পাতের ছোটখাটো পরিবর্তন সে সব যন্ত্রে ধরা পড়ে।
দেখা গেছে, স্থায়ী জিপিএসগুলোর অবস্থানেও কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে। সেই পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের মাটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছান গবেষকদল।
গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশ যে ভূমির ওপরে গড়ে উঠেছে, তা ধীরে ধীরে উত্তর-পূর্ব দিকে সরছে। এই সরে যাওয়ার হার বছরে দু’ইঞ্চি। বাংলাদেশের টেকটোনিক প্লেট মিয়ানমারে থাকা প্লেটের সঙ্গে ধাক্কাও খাচ্ছে। তার ফলে মাঝেমধ্যে হচ্ছে ভূমিকম্প।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, বাংলাদেশের প্লেট সরে যাওয়া এবং মিয়ানমারের প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে মাটির গভীরে চাপ উৎপন্ন হচ্ছে। এই চাপকে নিয়ে চিন্তার কারণ আছে। ভবিষ্যতে কখনও একসঙ্গে এই চাপ মুক্ত হলে অতি তীব্র ভূমিকম্পের উৎস হতে পারে বাংলাদেশ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে ঢাকাসহ একাধিক বড় শহর।

মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক ‘নেচার জিওসায়েন্স’ সাময়িকীতে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থার বর্ণনা করেছেন স্টেকলার ও তার গবেষক দল। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নিচে যে প্লেটের সংঘর্ষ চলছে, কোনো এক মুহূর্তের ব্যাঘাতে যদি তা একে অপরকে ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বা পিছলে যায়, ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে ওই অঞ্চলে। ধসে যেতে পারে মাটি। এমনকি, কম্পনের মাত্রা ৯ পর্যন্তও পৌঁছোতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এদেশে এত তীব্র ভূমিকম্প কখনও হয়নি।
২০১৩ সালে হওয়া এই গবেষণায় গবেষকরা জানান, এই বিপর্যয় ঘটতে কয়েক বছর লাগতে পারে। আবার কয়েক শ বছরও লেগে যেতে পারে। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের এই প্লেটের সীমা ১৫০ মাইল লম্বা। কোন অংশ হবে বিধ্বংসী সেই ভূমিকম্পের উৎসস্থল, তা-ও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না। তবে রাজধানী ঢাকাও বিপদরেখার মধ্যেই রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ভূমিকম্পে বাংলাদেশের ঝুঁকির অন্যতম কারণ সে দেশের মাটি। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বয়ে আনা শত শত বছরের পলি দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের মাটি। পুরো দেশে অসংখ্য নদী রয়েছে। ফলে মাটিতে পলির আধিক্য রয়েছে।
গবেষকদের মতে, ভূমিকম্পের সময় এই পলি বাংলাদেশের বিপদ বাড়িয়ে তুলতে পারে। বাড়তে পারে কম্পনের মাত্রাও। ফলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ঢাকা শহরের গঠনপরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, শহরের অধিকাংশ বহুতল তৈরির সময়েই নিয়মকানুন মানা হয়নি।

বাংলাদেশে একের পর এক হচ্ছে ভূমিকম্প। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ছয় শতাধিক। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক এবং ভূতাত্ত্বিক অবস্থানই এই ভূমিকম্পের জন্য দায়ী। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার কম্পনও হতে পারে দেশটিতে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতেও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানাচ্ছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর একেবারে বাইরের অংশটি প্রায় ১৫টি বড় খণ্ডে বিভক্ত, যেগুলোকে টেকটোনিক প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো মিলেই লিথোস্ফিয়ার তৈরি হয়। আমাদের পরিচিত ভূ-পৃষ্ঠের মহাদেশ ও সমুদ্রের তলদেশের ভূত্বক এবং তার নিচের ম্যান্টলের ওপরের স্তর দিয়ে লিথোস্ফিয়ার গঠিত হয়।
এই বিশাল টেকটোনিক প্লেটগুলো স্থির নয়; বরং তারা ম্যান্টলের ওপর ধীরে ধীরে চলাচল করে, যার ফলে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং পর্বতমালা তৈরি হয়।
গবেষকদের তথ্যমতে, টেকটোনিক প্লেটগুলো একে-অপরের সঙ্গে পাশাপাশি লেগে থাকে। কোনো কারণে এগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হলেই তৈরি হয় শক্তি। এই শক্তি সিসমিক তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যদি তরঙ্গ শক্তিশালী হয়, তাহলে সেটি পৃথিবীর উপরিতলে এসে পৌঁছায়। আর তখনো যদি যথেষ্ট শক্তি থাকে, তাহলে সেটা ভূত্বককে কাঁপিয়ে তোলে। এই কাঁপুনিই মূলত ভূমিকম্প।

নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ ড. মাইকেল স্টেকলারের নেতৃত্বাধীন এক দল বিজ্ঞানী বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন। ২০০৩ সালে এ গবেষণাটি শুরু করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ জিপিএস যন্ত্র বসিয়েছিলেন স্টেকলারেরা। একইসঙ্গে নিকটবর্তী অন্য দেশগুলোতেও যন্ত্র বসানো হয়েছিল। ভূতাত্ত্বিক পাতের ছোটখাটো পরিবর্তন সে সব যন্ত্রে ধরা পড়ে।
দেখা গেছে, স্থায়ী জিপিএসগুলোর অবস্থানেও কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে। সেই পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের মাটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছান গবেষকদল।
গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশ যে ভূমির ওপরে গড়ে উঠেছে, তা ধীরে ধীরে উত্তর-পূর্ব দিকে সরছে। এই সরে যাওয়ার হার বছরে দু’ইঞ্চি। বাংলাদেশের টেকটোনিক প্লেট মিয়ানমারে থাকা প্লেটের সঙ্গে ধাক্কাও খাচ্ছে। তার ফলে মাঝেমধ্যে হচ্ছে ভূমিকম্প।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, বাংলাদেশের প্লেট সরে যাওয়া এবং মিয়ানমারের প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে মাটির গভীরে চাপ উৎপন্ন হচ্ছে। এই চাপকে নিয়ে চিন্তার কারণ আছে। ভবিষ্যতে কখনও একসঙ্গে এই চাপ মুক্ত হলে অতি তীব্র ভূমিকম্পের উৎস হতে পারে বাংলাদেশ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে ঢাকাসহ একাধিক বড় শহর।

মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক ‘নেচার জিওসায়েন্স’ সাময়িকীতে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থার বর্ণনা করেছেন স্টেকলার ও তার গবেষক দল। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নিচে যে প্লেটের সংঘর্ষ চলছে, কোনো এক মুহূর্তের ব্যাঘাতে যদি তা একে অপরকে ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বা পিছলে যায়, ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে ওই অঞ্চলে। ধসে যেতে পারে মাটি। এমনকি, কম্পনের মাত্রা ৯ পর্যন্তও পৌঁছোতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এদেশে এত তীব্র ভূমিকম্প কখনও হয়নি।
২০১৩ সালে হওয়া এই গবেষণায় গবেষকরা জানান, এই বিপর্যয় ঘটতে কয়েক বছর লাগতে পারে। আবার কয়েক শ বছরও লেগে যেতে পারে। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের এই প্লেটের সীমা ১৫০ মাইল লম্বা। কোন অংশ হবে বিধ্বংসী সেই ভূমিকম্পের উৎসস্থল, তা-ও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না। তবে রাজধানী ঢাকাও বিপদরেখার মধ্যেই রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ভূমিকম্পে বাংলাদেশের ঝুঁকির অন্যতম কারণ সে দেশের মাটি। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বয়ে আনা শত শত বছরের পলি দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের মাটি। পুরো দেশে অসংখ্য নদী রয়েছে। ফলে মাটিতে পলির আধিক্য রয়েছে।
গবেষকদের মতে, ভূমিকম্পের সময় এই পলি বাংলাদেশের বিপদ বাড়িয়ে তুলতে পারে। বাড়তে পারে কম্পনের মাত্রাও। ফলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ঢাকা শহরের গঠনপরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, শহরের অধিকাংশ বহুতল তৈরির সময়েই নিয়মকানুন মানা হয়নি।