Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

পান্তা ইলিশে বাঙালিয়ানার আত্মার উদযাপন

ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন

ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ০০
পান্তা ইলিশে বাঙালিয়ানার আত্মার উদযাপন

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠছিল, একদম লাল টুকটুকে, যেন আগুনের ছোট্ট চাঁদ। আকাশ মেঘমুক্ত, কুয়াশাহীন–এমন ভোরের সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য খুব কমই হয়েছে আমার। বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে, সেই নতুন দিনের আলোয় মনে হচ্ছিল রমনার বটমূলে থাকা স্বজনেরা হাসিমাখা চোখে দেখছে আমাকে। গান গাইছিলাম, ‘এসো হে বৈশাখ’, কিন্তু অন্তরে বাজছিল অন্য এক সুর–বিদেশের পথে যাত্রার ব্যথা, ফ্লাইটের সঙ্গে মিলিত বুকের আর্তনাদ। সেই আর্তনাদ, আর কখনো আগের নববর্ষের মতো ফিরে যায়নি। দিনপঞ্জি তো আর পেছনে যায় না।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আমেরিকা পৌঁছে, প্রথম কয়েক দিন মনটা যেন আনচান করে। তখনো হাতে মোবাইল বা ইন্টারনেট নেই। নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হিলসাইডের ১৫০ নম্বর স্ট্রিটের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে বসে আমি স্বদেশের খোঁজ নিই। মা পাশে বসে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, “মন এত খারাপ কেন?”

“পান্তা ভাত আর ইলিশের জন্য”–বলতেই মা হাসলেন। মনে হলো, তিনি বুঝলেন–আমি কোনো মেয়ের জন্য নয়, বরং স্বদেশের জন্য মন খারাপ করছি। মা তখনই সমাধানের খোঁজে ব্যস্ত হলেন। বললেন, “এখানে আমরা চেষ্টা করি। ঠান্ডা ভাত আছে, ভিজিয়ে পান্তা ভাত করব। ইলিশ মাছও চেষ্টা করে দেখি।”

এরপর গল্পও জুড়ে দিলেন, “তোমরা এখন যেভাবে ঘটা করে বাংলা নববর্ষ পালন কর, আমাদের সময় তা ছিল হালখাতার দিন। মনে আছে তোমার বাবা জীবিত থাকলে কত লোক তখন নাড়ু-মিঠাই নিয়ে আসত!” মায়ের চোখে-মুখে তখন স্মৃতির ঝিলিক ফুটে উঠেছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলা উৎসব। ফাইল ছবি
লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলা উৎসব। ফাইল ছবি

জ্যাকেট জড়িয়ে মা বেরিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন, সাটপিন বুলেভার্দের চাইনিজ দোকান থেকে মাছ নিয়ে। বললেন, “এটাই এখানে ইলিশের মতো স্বাদ।” আমেরিকায় সেই প্রথম পান্তা-ইলিশ খাওয়া। স্বাদ ছিল তাজা, অথচ মনে হচ্ছিল স্বদেশের মাটির রূপ, স্বাদের ছোঁয়া। মা টের পেলেন। বললেন, “আমরা সিলেটের মানুষ স্বাভাবিকভাবে পান্তাভাত খাই না, কিন্তু এটিই আমাদের বাঙালিয়ানা।”

নববর্ষের ভেতর-বাহিরMangal Shobhajatra

তারপর ধীরে ধীরে জানতে পারলাম–তখনকার অল্প কয়েকজন বাঙালি প্রবাসীই এই সংস্কৃতিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। নার্গিস আহমেদ নামের এক প্রবাসী, বাংলা নাটকের দল ‘ড্রামা সার্কেল’-এর সঙ্গে মিলিয়ে ছোট আয়োজনের মাধ্যমে নববর্ষ পালন শুরু করেছিলেন। শাড়ি, চুড়ি, ঘুঙুর, লাল-সবুজের উজ্জ্বলতা–সেই সব পদক্ষেপ বিদেশিদেরও মুগ্ধ করেছিল। নার্গিস আহমেদ আমাকে শোনালেন, কীভাবে কয়েকজন প্রবাসীর হাত ধরে নিউইয়র্কে পয়লা বৈশাখের রূপ তৈরি হয়। দিনগুলোকে পেছনে ফেলে সেই অল্পসংখ্যক উদ্যোগ আজ প্রায় এক দশক ধরে নিউইয়র্কের কুইন্স, ব্রংক্স, ব্রুকলিন ও ম্যানহাটনে বড় আকারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে। সেই সময় থেকে মার্কিন কংগ্রেসম্যানসহ মূলধারার লোকজনও বাংলা নববর্ষের সঙ্গে পরিচিত হন এবং অংশ নিতে থাকেন।

পয়লা বৈশাখ এখন শুধু দিন নয়, বাঙালির আত্মার উৎসব। ফাইল ছবি
পয়লা বৈশাখ এখন শুধু দিন নয়, বাঙালির আত্মার উৎসব। ফাইল ছবি

পয়লা বৈশাখ এখন শুধু দিন নয়, বাঙালির আত্মার উৎসব। নতুন প্রজন্ম দেশি পোশাক, শাড়ি, ঘুঙুর পরে আনন্দধ্বনির মধ্যে গান গায়–এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও বার্তা দেন, স্বীকৃতি দেন, এবং দেশ থেকে দূরে জন্ম নেওয়া বাঙালিরা নিজেদের সংস্কৃতিকে আবারও আবিষ্কার করে।

উত্তর আমেরিকায় এখন শুধু চীনা নববর্ষ, জাপানি নববর্ষ (Shōgatsu), কোরিয়ান নববর্ষ (Seollal), ইরানীয় নববর্ষ (Nowruz), হিব্রু নববর্ষ (Rosh Hashanah), ইসলামি নববর্ষ (Muharram), থাই নববর্ষ (Songkran) ও পশ্চিমী নববর্ষ (Gregorian New Year) উদ্‌যাপন হয়। কিন্তু বাংলার নববর্ষ–পয়লা বৈশাখ সবচেয়ে বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হয়। নিউইয়র্কের টাইম স্কোয়ারও জেগে ওঠে বৈশাখের আহ্বানে, ঢাক-ঢোল, বাঙালিয়ানার আনন্দে, মঙ্গল শোভাযাত্রায়।

প্রায় এক দশক আগে, মা ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে আমরা সবাই মায়ের পাশে জড়ো হয়েছিলাম। বাংলা টিভিতে চলছিল পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান। প্রবাসে জন্মানো নাতি-নাতনিসহ আমরা ঘরোয়াভাবে শেষবার বৈশাখ পালন করি। মা তখন বলেছিলেন, “যেখানেই থাক, দেশ ও সংস্কৃতিকে ধারণ করবে।”

আজ মা নেই, কিন্তু দেশ তো আছে। এবং সেই দেশের প্রতি অনুরাগ, সেই স্মৃতি–এখনো আমার শ্বাসে, রক্তে–যা প্রতিটি বৈশাখে বাজে। দেশ যত দূরে হোক–আমাদের হৃদয়ে বাঙালিয়ানা চিরকাল বিরাজমান।

বিষয়: উৎসববৈশাখ চরচাবাঙালিবৈশাখ চরচা ১৪৩৩সংস্কৃতিনববর্ষউত্তর আমেরিকাপয়লা বৈশাখ
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া