Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে গেলে ক্ষতি কী?

সেলিম-খান

সেলিম-খান

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ০১
এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে গেলে ক্ষতি কী?

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি আগামী নির্বাচনে এককভাবে না জোট বেঁধে নির্বাচন করবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। একক হলে হলে তো কোনো কথাই নেই। জোটে গেলে দুখান কথা আছে। তারা বর্তমানে দুই বড় দল বিএনপি না জামায়াতের সঙ্গে যাবে? বিএনপির সঙ্গে গেলে কোনো কথা নেই; তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গেলে দুটো কথা বলতেই হবে। কারণ ইতিমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠে গেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই ছাত্রদের প্রথম সংগঠন ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। নামটা শুনতে বেশ ভালো। কারণ আমরা সবাই চাই সাম্য। জীবন থেকে শুরু করে সমাজ কাঠামোতে পর্যন্ত। সাম্য চাইলে তো বৈষম্য থাকতে পারে না। বৈষম্যহীন একটা জীবন, একটা সমাজ, একটা দেশ–ভাবতেই রক্তে উত্তেজনার জোয়ার বইতে শুরু করে।

জোয়ারে আবার ভাটার টান আসতে সময় লাগে না। অমাবস্যা-পূর্ণিমার লীলা বোঝাই ভার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অতি সহজেই নিজেদের ক্ষমতার জালে আটকে ফেলায় কেউ কেউ প্রফুল্ল হলেও অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। সেই সন্দেহ কতটা যথার্থ ছিল তা আজ বোঝা যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা নতুন দল করলেন–জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। এর নিবন্ধন বা প্রতীক-প্রত্যাশা নিয়ে কম নাটক হয়নি। কিন্তু এর সবটাই বাহ্যিক। সাধারণ মানুষের কাছে এ দুটোরই তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। এটা শুধু আইনি লৌকিকতা মাত্র।

এটাই বোধহয়, এনসিপি নেতারা বোঝেননি। তাই লৌকিকতায় অনেক সময় ও কথা ব্যয় করে ফেলেছেন। এই সময়টা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয় করলে তারা সমাজের অনেক হাঁড়ির-নাড়ির খবর পেতেন। তাহলে হয়তো জুলাই সনদ নিয়ে দিনের পর দিন সময় নষ্ট করতেন না। জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে ঠিকই, সেখানে ভোটের অধিকার, স্বৈরাচার ফিরে না আসার প্রত্যয়, একচেটিয়া ক্ষমতা না থাকার প্রতিশ্রুতিসহ অনেক কিছু আছে। তবে সেখানে ভাতের অধিকার কোথায়, শিক্ষার মৌলিক অধিকার কোথায়, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি কোথায়, মানুষের নিশ্চিত মাথার গোজার প্রত্যয় কোথায়? নেই। নেই, বলেই এতসব প্রশ্ন উঠতে পেরেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জামায়াতের সঙ্গে জোট না করতে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠিncp (1)

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৫ মাস ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। সরকার চালানোর জন্য এই সময়টা একেবারে ফেলনা নয়। এই সময়কালে জিনিসপত্রে দাম কতটা বেড়েছে, কত কর্মসংস্থান হয়েছে, কতজন মানুষ ন্যয়বিচার পেয়েছেন–যার অপেক্ষায় তারা ছিলেন? এই প্রশ্নগুলো এনসিপির কোনো নেতার মুখে শুনিনি। অথচ, এগুলোই জোরোশোরে উঠে আসবে বলে আপামর দেশবাসী আশা করেছিল। দেশের একজন মানুষেরও আধাপেটা বা অভূক্ত থাকার চেয়ে বড় বৈষম্য কী আর কিছু আছে? এই বৈষম্য দূর করার জন্যই তো রাষ্ট্র এবং সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, মানুষ দরিদ্র হচ্ছে। আর দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়লেই টান পড়ে পেটে। তাহলে পেটের মীমাংসা না করে ‘পূর্ণিমার চাঁদ’ নিয়ে আহ্লাদ দেখালে তা ওই মানুষগুলোর কাছে ঝলসানো রুটি বলেই মনে হবে।

নাহিদ ইসলামকে চিঠিতে যা লিখেছেন এনসিপির ৩০ নেতাnahid-islam

এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে এত কথা (অভিযোগ বলাই ভালো) বলার কারণ তাদের কাছে প্রত্যাশাটা ছিল বিপুল। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ দেখে আসছে। এনসিপি সেই গড্ডল প্রবাহে গা না ভাসিয়ে একটি বিপরীত স্রোতধারা তৈরি করবে, এটাই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক দিনে দিনে এতটা বাড়বে তা হয়তো আমাদের মতো অনেকেই ভাবতে পারেনি।

ভোটের তারিখ এগিয়ে আসতেই এনসিপির সেই সাবেকি রাজনীতির ধারায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠার পথ যেন পাকাপোক্ত হয়ে উঠছে। ছাব্বিশের নির্বাচনে তারা দুই বড় দলের কারো একটির লেজুড় হতে চায়। কেন? কয়েকটা আসনের জন্য? এই নির্বাচনে আসন পেলে কী পাঁচ বছরে তারা হারিয়ে যাবেন–এই আশঙ্কা ভর করেছে এনসিপির নেতাদের মধ্যে? ছাত্রদের মধ্য থেকে এনসিপির জন্ম, অথচ চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে তারা একেবারেই কিচ্ছু করতে পারেনি। তাই বলে কী লজ্জায় দলটা উঠে গেছে? তাতো যায়নি। তাহলে আগামী জাতীয় সংসদে তাদের কোনো প্রতিনিধি না থাকলে সমস্যাটা কোথায়? মানুষের কাছে যাওয়ার, মানুষের কথা বলার হাজারো পদ্ধতি আছে। সংসদ তারই মধ্যে একটা। অতীতে এ দেশের অধিকাংশ দলেরই জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল না, তাই বলে কী তারা মুছে গেছে? তাদের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে? বরং ক্ষেত্র বিশেষে সংসদে না থাকাটা সুবিধাজনকও হয়।

ফলে ক্ষমতার অন্দরে ঢোকার জন্য এতটা উদ্রগ্রীব থাকাটা মানুষের কাছে অন্য বার্তা দেয়। সবাই জানে ক্ষমতার প্রতিটি অলিন্দে মধু আছে। সেই মধুর স্বাদ সরকারি দলের সদস্যরা বেশি পান, বিরোধীরা কম হলেও কিছুতো পান। সেজন্য যেকোনো মূল্যে সংসদে যেতে হবে, এটা একটা নবীন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন তাসনিম জারাtasnim jara

এবার আশা যাক, শিরোনামের ভাষ্যে। দেশের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় দল বিএনপি দীর্ঘ দিন ধরে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। তারা প্রথমেই ২৩৭ জন (৩০০-র মধ্যে) প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বুঝিয়ে দিয়েছিল, শরিকদের জন্য খুব বেশি আসন তারা দিতে পারবে না। বাস্তবিকই, না পারার কথা। গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতারা কোনো সুযোগই পাননি। আর এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন। তাই বিএনপির অনেক নেতাই ধরে নিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মানে ভোটে নিশ্চিত জয়। স্বাভাবিকভাবে দলীয় নেতৃত্বের ওপর এই চাপটা আছেই। সে কারণে এনসিপিকে তাদের চাহিদা মতো আসন ছাড়তে পারেনি বিএনপি। এতে জোট গঠনের উদ্যোগও ভেস্তে গেছে।

বাকি ছিল জামায়াতে ইসলামী। দল হিসেবে তারা হয়তো তিন শ আসনে প্রার্থী দিতে পারবে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কতটুকু হবে–এটা বিরাট প্রশ্ন। ফলে শরিকদের তারা সন্তুষ্ট করেই আসন সমঝোতা করতে সমর্থ। এনসিপি কী তাহলে সেই সুযোগ নিচ্ছে? নিলে দোষের কী? দোষ আছে। জামায়াতের জোটে গেলে এনসিপির মতো নতুন দলের গায়ে ‘ডানপন্থী’ বিশেষণ যুক্ত হতে পারে। জন্মলগ্ন থেকে, বিশেষ করে প্রথম নির্বাচন থেকে এই বিশেষণ তাদের জন্য খুব সুবিধার না-ও হতে পারে। কারণ এনসিপির অনেক নেতা সাম্প্রতিক অতীতে এমন সব বক্তব্য রেখেছেন, তাতে জামায়াতের সাথে জোট বাঁধাটা ঠিক যায় না।

তবে ২০০১ সালের আগে থেকে বিএনপি জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে জোট করেও মধ্য-ডানপন্থী দল হিসেবে নিজের পরিচয় ধরে রাখতে পারলে এনসিপির সমস্যা কোথায়? কোনো সমস্যা নেই। তারপরেও একটি ছোট সমস্যা আছে। সে সমস্যা হলো, এনসিপিকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে দেখার প্রত্যাশা। ভারতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি প্রাথমিকভাবে এটা পারলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি তা পারবে না কেন? সাম্প্রতিক না দূরবর্তী কোন ফলটা তারা চান, তা ঠিক করতে পারলে এ প্রশ্নের মিমাংসা সম্ভব।

লেখক: ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, চরচা।

বিষয়: জামায়াতজাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপিজামায়াতে ইসলামীরাজনৈতিক দলরাজনীতি
সর্বশেষ
  • ১

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

  • ২

    খুলনা বিভাগে হাম-ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

  • ৩

    নির্বাচনের আগে যুদ্ধ থামবে না, তেলের দামও কমবে না: ট্রাম্প

  • ৪

    মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ

  • ৫

    সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া