Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দলটি আসলে খালেদার হাতেই গড়া

নাইর ইকবাল

নাইর ইকবাল

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪: ৪৫
জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দলটি আসলে খালেদার হাতেই গড়া

খালেদা জিয়া যখন বিএনপির দায়িত্ব নেন, দলটি তখন এলোমেলো, দিগ্‌ভ্রান্ত। ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৭৮ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে বিএনপি গঠন করেন। বিভিন্ন মত ও পথের রাজনীতিকদের এক প্ল্যাটফর্মে জড়ো করে গঠিত হয়েছিল বিএনপি। দলটিতে প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন ডানপন্থী রাজনীতিকেরা। বাম–ডান ও মধ্যপন্থার মিশেল বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঐক্যবদ্ধ ছিল জিয়াউর রহমানের কঠোর ব্যক্তিত্বের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু জিয়া নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলটি ভেতর থেকেই হয়ে পড়ে অস্থির।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সেই অস্থির বিএনপিকেই নিজের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন খালেদা জিয়া। ক্যান্টনমেন্টের অলিন্দে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলটিকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন জনতার কাছে। গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অগ্নিপরীক্ষায় নিজে উত্তীর্ণ হয়েছেন, দলকেও করেছেন উত্তীর্ণ। আন্দোলন–সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দল নির্বাচনে জিতে দুবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে। বিরোধী দলীয় রাজনীতিতেও রাজপথ কিংবা সংসদ—দুই জায়গাতেই বিএনপিকে পরিণত এক রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করেছেন। আজকের বিএনপি তাই খালেদা জিয়ার আন্দোলন–সংগ্রামেরই ফসল।

আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া ছিলেন রাজপথে ‘আপোসহীন’। ছবি: লুৎফর রহমান বীনু
আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া ছিলেন রাজপথে ‘আপোসহীন’। ছবি: লুৎফর রহমান বীনু

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ লাভ করেছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি তখন স্বামীর শোকে মূহ্যমান। রাজনীতির প্রতি বিতৃষ্ণা থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল তার পক্ষে। কারণ, রাজনীতির কারণেই স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু খালেদা জিয়া স্বামীর রাজনৈতিক স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরণকেই ব্রত হিসেবে নিলেন। খালেদার রাজনীতিতে পা রাখার দুই মাসের মাথায় দেশে সামরিক আইন জারি করেছিলেন সে সময়ের সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। বিএনপি সময়ের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে উৎখাত করেই। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডায় তখন যোগ হয় সামরিক শাসন থেকে দেশের মুক্তিও। ১৯৮৩ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি।

আগেই বলা হয়েছে, দলের ভেতর তখন অনেক চ্যালেঞ্জ। খালেদা রাজনীতির প্রায় কিছুই বোঝেন না তখন। স্বার্থান্বেষীদের দ্বারা বিপথে পরিচালিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল প্রবলভাবেই। খালেদা জিয়া নিজের প্রজ্ঞা আর ব্যক্তিত্ব দিয়ে সেই ঝুঁকি সামলেছেন। সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। রাজনীতির বন্ধুর পথে হেঁটেছেন। দলের ওপর শতভাগ কর্তৃত্ব আর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

আশির দশকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। যে মানুষটা কোনোদিন রাজনীতির কথা ভাবেনইনি। যিনি ছিলেন আটপৌরে এক গৃহিনী, স্বামী ও সন্তানদের কল্যাণই ছিল যার একমাত্র লক্ষ্য, সেই মানুষটিই রাজনীতি করতে গিয়ে দুর্ভোগ সয়েছেন, জেল–জুলুমের শিকার হয়েছেন। মঞ্চ কাঁপিয়ে বক্তৃতা করেছেন, দলের নেতা–কর্মীসহ সবার আস্থা অর্জন করেছেন। রাজনীতিতে এমন স্বশিক্ষিত নেতৃত্ব সত্যিই অনন্য ঘটনা।

বিএনপিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়া। ছবি: লুৎফর রহমান বীনু
বিএনপিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়া। ছবি: লুৎফর রহমান বীনু

দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ অনেকবারই সামনে এসেছে। ১৯৮৮ সালে দলের মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল তিনি দল ও আন্দোলনের বিরুদ্ধে গিয়ে এরশাদের দলে যোগ দেবেন। খবর রটতেই চুপেচাপে কে এম ওবায়েদকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেন। পুরোপুরি সরাননি, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন। আবদুস সালাম তালুকদারকে মহাসচিব করে দলে গতি ফিরিয়েছিলেন, আস্থার সংকট নিরসন করেছিলেন। এমন অনেক কঠোর সিদ্ধান্তই খালেদা জিয়াকে নিতে হয়েছে দল চালাতে গিয়ে। এই কঠোর সিদ্ধান্তগুলোই দলের ওপর খালেদা জিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করেছিল।

১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতন হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথম নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি রাজপথের রাজনীতিতে উত্তীর্ণ; কিন্তু নির্বাচনী রাজনীতিতে দলটি আওয়ামী লীগের সামনে কতটা টিকতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ ছিলই। সাংগঠনিক দিক দিয়েও বিএনপি, আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। কিন্তু তারপরও ’৯১ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে খালেদা ছিলেন অক্লান্ত। অনেকেই বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি আওয়ামী লীগকে হারাতে পেরেছিল ব্যক্তি খালেদার ইমেজের ওপর ভর করেই। সেই নির্বাচনের প্রচারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কথাবার্তার বিপরীতে খালেদা জিয়া ছিলেন পুরোপুরি ভিন্ন মেরুতে। তার বিনয়ী অথচ দৃঢ়তায় মোড়া রাজনৈতিক ভাষা দেশের ভোটাররা গ্রহণ করেছিল।

জিয়ার বিএনপি যেন খালেদা জিয়ার হাতেই গড়া। ছবি: লুৎফর রহমান বীনু
জিয়ার বিএনপি যেন খালেদা জিয়ার হাতেই গড়া। ছবি: লুৎফর রহমান বীনু

এরপর এল দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ চালানোর অধ্যায়। রাষ্ট্র পরিচালনায় অনভিজ্ঞতার পরও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম কালটা ছিল সফলতার। যদিও মাঠে বিরোধী দলগুলোর জ্বালাও–পোড়াও রাজনীতিতে খালেদা বেকায়দায় পড়েছিলেন; কিন্তু অমন পরিস্থিতি খালেদা জিয়াকে নেতা হিসেবে করেছে আরও পরিশীলিত।

রাজনীতি করতে এসে চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে, খালেদা সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। কিন্তু রাজনীতি যদি ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করে ফেলে, সেটি ভয়াবহ। খালেদা ওই পরিস্থিতিও মোকাবিলা করেছেন। ২০০৬ সালে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের তৃতীয় মেয়াদ শেষে রাজনীতিতে সেনা হস্তক্ষেপ ঘটল, তাকে গ্রেপ্তার করা হলো, রাজনীতি থেকে তার উত্তরাধিকারকে বিনাশ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলল। এই সময়েই এক সন্তানকে হারালেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই নিপীড়নের মাত্রা নিয়ে গেল অসহনীয় পর্যায়ে। তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলো। তাতেও নিস্তার মিলল না। দুটি মামলায় তাকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলো। যে কেন্দ্রীয় কারাগার পরিত্যক্ত, সেখানেই হলো তার কারাবাস। অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তার চিকিৎসা নিয়েও রাজনীতি চলল। এর মধ্যেও অপেক্ষা করতে থাকলেন শুভ সময়ের জন্য। রাজনীতিতে ত্যাগের কথা বলা হয়, খালেদা জিয়া রাজনীতিতে ত্যাগের প্রতীক।

খালেদা জিয়ার এই ত্যাগের ফলেই আজকের বিএনপি। ক্যান্টনমেন্টে এক সামরিক শাসকের হাতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া দলটাই আজ দেশের রাজনীতিতে মহীরূহ।

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, চরচা

বিষয়: বিএনপিআন্দোলনরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বখালেদা জিয়ারাজনৈতিক দলজিয়াউর রহমান
সর্বশেষ
  • ১

    এশিয়া কাপ: শিরোপায় চোখ রেখে বাংলাদেশের ‘ভারত পরীক্ষা’

  • ২

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ৩

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৪

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৫

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া