Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা
পর্ব-২

ইরান কী রাশিয়ার পথে

কিছুক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানকে আবার পুরোপুরি মেলানো যাবে না। যেমন, পতনের সময় সোভিয়েত তাদের তৃতীয় প্রজন্মের নেতাদের যুগে প্রবেশ করেছে। সেদিক দিয়ে তুলনা করলে ইরান এখন দ্বিতীয় প্রজন্মে।

করিম সাদজাদপোর

করিম সাদজাদপোর

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৩: ৪৮
ইরান কী রাশিয়ার পথে

আজকের ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অবস্থা যেমন তার সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ সময়ের বেশ অনেকটা মিল পাওয়া যায়। সেখানেও শেষ দিকে একটি মৃতপ্রায় মতাদর্শকে জোরজবরদস্তি করে টিকিয়ে রাখা, নতুন নেতৃত্ব ও সংস্কারে ভয় ছিল। আর এর ফলাফল ছিল রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের অনাস্থা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইরান ও রাশিয়া দুই দেশই আবার প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। উভয়েরই রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস ও বিশ্বখ্যাত সাহিত্য-সংস্কৃতি, আর সেই সঙ্গে শতাব্দী জুড়ে জমে থাকা ক্ষোভ। উভয় দেশই আদর্শভিত্তিক বিপ্লবের মাধ্যমে নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছে। রাশিয়া ১৯১৭ সালে, ইরান ১৯৭৯ সালে। উভয়েরই লক্ষ্য ছিল ইতিহাসের প্রচলিত বাঁক পরিবর্তন করে নতুন এক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা।

দু’দেশই অতীতের প্রতিশোধ নিতে এবং দেশ-বিদেশে নিজেদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিতে গিয়ে নিজেদের জনগণ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। একটির মতাদর্শ ছিল ধর্মবিরোধী, অন্যটির ধর্মতান্ত্রিক। মতাদর্শিকভাবে দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করলেও তাদের আচরণগত মিল অস্বীকার করা যায় না।

যেমন সোভিয়েত ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আদর্শগত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি, তেমনি ইরানও পারছে না। দীর্ঘদিনের সন্দেহ-অবিশ্বাসই এখন নিজেদের পতনের বীজ বপন করছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
‘ইরানের পুতিন’ ইসলামিক রিপাবলিকের কিছু কৌশল ধার করতে পারেন। প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
‘ইরানের পুতিন’ ইসলামিক রিপাবলিকের কিছু কৌশল ধার করতে পারেন। প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

রাশিয়ায় গর্ভাচেভের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সেই পতন আরও ত্বরান্বিত হয়। এতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয় এবং পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। নব্বইয়ের দশকে আইন-শৃঙ্খলার অভাব, সেই সঙ্গে অভিজাতদের সীমাহীন দুর্নীতি আর ক্রমবর্ধমান বৈষম্য মানুষকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এই ডামাডোলের মধ্যেই ভ্লাদিমির পুতিনের উত্থান ঘটে। পুতিন ছিলেন সোভিয়েত নিরাপত্তা সংস্থা কেজিবির একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা। তিনি এই বঞ্চনার ক্ষোভকে কাজে লাগান। স্থিতিশীলতা ও অতীত গৌরব ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন দেশের মানুষকে। আর সেই সঙ্গে কমিউনিজমকে সরিয়ে ক্ষোভে ভরা জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি বিশ্ব দরবারে রাশিয়ার অতীত গৌরব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

ইরানেও একই ধরনের পরিস্থিতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির শাসনব্যবস্থা নীতিগতভাবে এবং আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে এখানে সংস্কার করেও লাভ নেই। সেই সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক চাপ আর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ। এর প্রত্যেকটাই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার আসন্ন পতনের ইঙ্গিত দেয়। আর খামেনির পতন যে শূন্যস্থান তৈরি করবে তা পূরণ করতে দেশটির অভিজাতরা উন্মুখ হয়ে থাকবে।

হলো যখন কোনো সর্বগ্রাসী মতবাদ ভেঙে পড়ে, তখন তা সাধারণত নাগরিকের নবজাগরণের বদলে রেখে যায় নিস্পৃহতা ও অর্থহীনতার বোধ। ছবি: পেক্সেলস
হলো যখন কোনো সর্বগ্রাসী মতবাদ ভেঙে পড়ে, তখন তা সাধারণত নাগরিকের নবজাগরণের বদলে রেখে যায় নিস্পৃহতা ও অর্থহীনতার বোধ। ছবি: পেক্সেলস

ইরানি গোয়েন্দা সংস্থা আইআরজিসির সাবেক কোনো সদস্য হয়ত সেই তালিকায় থাকবেন। এমন হতে পারে যে, এই সম্ভাব্য নেতা শিয়া মতবাদ ত্যাগ করে ক্ষোভের মধ্যে তৈরি হওয়া ইরানি জাতীয়তাবাদকে নতুন স্বৈরশাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার মনে এমন ইচ্ছে থাকতেই পারে যেমন, পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার এবং আইআরজিসির সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

পর্ব-১: ইরানে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে

তবে যেহেতু তারা দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আছে তাই নতুন শাসনব্যবস্থায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তাদের দেখার সম্ভাবনা কম। ভবিষ্যতের নেতা সম্ভবত এমন একজন হবে, যাকে সেভাবে কেউই চেনে না, সে হয়ত নতুন প্রজন্মের কেউ, যাকে বর্তমান বিপর্যয়ের জন্য জনসাধারণ দায়ী করবে না; কিন্তু সে হয়ত ইরানকে ধ্বংসাবশেষ থেকে তুলে নিয়ে আসতে পারবে।

কিছুক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানকে আবার পুরোপুরি মেলানো যাবে না। যেমন, পতনের সময় সোভিয়েত তাদের তৃতীয় প্রজন্মের নেতাদের যুগে প্রবেশ করেছে। সেদিক দিয়ে তুলনা করলে ইরান এখন দ্বিতীয় প্রজন্মে। ইরানের কোনো গর্ভাচেভও নেই। খামেনি গর্ভাচেভের মতো সংস্কার করার চেষ্টা করেননি, বরং সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটতে পারে এই ভয় থেকে সংস্কার থেকে বিরত থেকেছেন।

তবে উভয়ের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় সত্য যেটা তা হলো যখন কোনো সর্বগ্রাসী মতবাদ ভেঙে পড়ে, তখন তা সাধারণত নাগরিকের নবজাগরণের বদলে রেখে যায় নিস্পৃহতা ও অর্থহীনতার বোধ। সোভিয়েত পরবর্তী রাশিয়ায় গণতন্ত্রের বিকাশের চেয়ে বেশি দেখা গিয়েছিল যেকোনো মূল্যে সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা। একই চিত্র দেখা যেতে পারে, ধর্মতান্ত্রিক শাসন পরবর্তী ইরানেও। সেখানেও হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ও যৌথ উদ্দেশ্যের জায়গা নিতে পারে ভোগবাদ এবং চোখে পড়ার মতো বিলাসিতার সংস্কৃতি।

খামেনি গর্ভাচেভের মতো সংস্কার করার চেষ্টা করেননি, বরং সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটতে পারে এই ভয় থেকে সংস্কার থেকে বিরত থেকেছেন। ছবি: পেক্সেলস
খামেনি গর্ভাচেভের মতো সংস্কার করার চেষ্টা করেননি, বরং সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটতে পারে এই ভয় থেকে সংস্কার থেকে বিরত থেকেছেন। ছবি: পেক্সেলস

‘ইরানের পুতিন’ ইসলামিক রিপাবলিকের কিছু কৌশল ধার করতে পারেন, যেমন-ইরানের প্রতিবেশীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে স্থিতিশীলতা খোঁজা, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে হুমকি দেওয়া, নতুন মতাদর্শের আবরণে আগ্রাসনকে ঢেকে রাখা এবং ইরানের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্যান্য অভিজাতদের সঙ্গে নিজেও ধনী হয়ে ওঠা।

আমেরিকা ও ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য রাশিয়া একটা বড় শিক্ষা হতে পারে। সেই শিক্ষা হচ্ছে, কোনো মতাদর্শের পতনই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং একটা মতাদর্শের পতন খুব সহজেই জন্ম দিতে পারে এমন এক স্বৈরশাসকের যিনি বিবেকহীনভাবে নতুন ক্ষোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারেন।

চলবে…

**ফরেন অ্যাফেয়ার্স ডটকমে প্রকাশিত লেখাটি অনুবাদ করে প্রকাশিত**

করিম সাদজাদপোর কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সিনিয়র ফেলো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাবেক ‘চিফ ইরান অ্যানালিস্ট’ সাদজাদপোরের কাজের প্রধান ক্ষেত্র ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি।

অনুবাদ করেছেন: রিতু চক্রবর্ত্তী

বিষয়: রাশিয়াআন্তর্জাতিকআমেরিকাইরানবিশ্লেষকের চোখে
সর্বশেষ
  • ১

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ২

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৩

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৪

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৫

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া