আবু নওফেল সাজিদ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এই দিনেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট। ভোটারদের হাতে থাকবে একটি আলাদা ব্যালট, যেখানে মাত্র চারটি পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হবে–আপনি কি এই সনদ বাস্তবায়নে সমর্থন দেন? উত্তর হিসেবে থাকবে দুটি বিকল্প–‘হ্যাঁ’ এবং ‘না”?
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য। তিনি বলেছেন, এই ভোট বৈষম্য আর নিপীড়নমুক্ত এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার চাবিকাঠি। কিন্তু এই ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের ভেতরে আসলে কী আছে? কেন এই গণভোট?
শুরুতেই বলি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে আমাদের পরিচয় ‘বাঙালি’ হলেও নতুন প্রস্তাবে নাগরিক পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে সংবিধানের মূলনীতিতে। এখনকার ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার’ বদলে নতুন মূলনীতি হবে—সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি। ‘গণতন্ত্র’ আগের মতোই থাকছে মূলনীতিতে। আর মৌলিক অধিকারে যুক্ত হবে ‘নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট’ এবং ‘ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার’ গ্যারান্টি।
এক ব্যক্তি জীবনে ১০ বছরের বেশি বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি অনেক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন সনদে মানবাধিকার ও আইন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো রাষ্ট্রপতি নিজের বিচারবুদ্ধিতে করতে পারবেন।
এখন প্রধানমন্ত্রীর একক স্বাক্ষরে জরুরি অবস্থা জারি করা যায়। কিন্তু নতুন নিয়মে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতিতেও অনুমোদন লাগবে।
আগে সরকার চাইলেই যে কাউকে ক্ষমা করতে পারত। কিন্তু এখন থেকে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি থাকলেই রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারবেন।
আমাদের সংসদ এখন এক কক্ষ বিশিষ্ট। কিন্তু সনদে একে ‘দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ জন সদস্য। সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি থেকে বাড়িয়ে ১০০টি করা হবে।
আরেকটি বড় বিষয় হলো–ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে। এ ছাড়া বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে এমপিরা নিজ দলের বিরুদ্ধেও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
বিচার বিভাগকেও করা হচ্ছে স্বাধীন। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবেন সরাসরি আপিল বিভাগ থেকে। আর দুর্নীতি দমন ও নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলের মতামত বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সরকার বলছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে পরবর্তী সংসদ এই ৮৪টি ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। অন্যথায় অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিলগুলোই কার্যকর হবে। তবে বিএনপি ও জামায়াতসহ কিছু দলের বেশ কিছু পয়েন্টে দ্বিমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে।
এখন একটা আলোচনায় আসি। এই গণভোট ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সবকিছু নিরঙ্কুশ নয়। এর কিছু বড় চ্যালেঞ্জ ও দুর্বলতার দিকও রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে।
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে অনেকগুলোতেই বিএনপি, জামায়াতসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে দলগুলো একমত হতে পারেনি। ফলে একটি বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থন ছাড়া এই সংস্কার কতটুকু দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ব্যালট পেপারে থাকবে মাত্র চারটি পয়েন্ট, কিন্তু সংস্কার প্রস্তাব ৮৪টি। সাধারণ ভোটারদের পক্ষে এত কম সময়ে ৮৪টি জটিল আইনি ও সাংবিধানিক পরিবর্তন বুঝে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা কঠিন। বিস্তারিত না জেনে ভোট দেওয়াটা এক ধরনের ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেওয়ার মতোও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদি ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে পরবর্তী সংসদকে এই ৮৪টি ধারা ৯ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু সংসদ যদি রাজনৈতিক কারণে তা না করে, তবে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।
একপক্ষে আছে রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিশাল সম্ভাবনা, আর অন্যপক্ষে রয়েছে রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাব ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ। ভোটার হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো–এই ৮৪টি প্রস্তাব ভালো করে জানা ও বোঝা। কারণ, আপনার একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের আগামীর সংবিধান।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এই দিনেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট। ভোটারদের হাতে থাকবে একটি আলাদা ব্যালট, যেখানে মাত্র চারটি পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হবে–আপনি কি এই সনদ বাস্তবায়নে সমর্থন দেন? উত্তর হিসেবে থাকবে দুটি বিকল্প–‘হ্যাঁ’ এবং ‘না”?
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য। তিনি বলেছেন, এই ভোট বৈষম্য আর নিপীড়নমুক্ত এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার চাবিকাঠি। কিন্তু এই ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের ভেতরে আসলে কী আছে? কেন এই গণভোট?
শুরুতেই বলি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে আমাদের পরিচয় ‘বাঙালি’ হলেও নতুন প্রস্তাবে নাগরিক পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে সংবিধানের মূলনীতিতে। এখনকার ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার’ বদলে নতুন মূলনীতি হবে—সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি। ‘গণতন্ত্র’ আগের মতোই থাকছে মূলনীতিতে। আর মৌলিক অধিকারে যুক্ত হবে ‘নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট’ এবং ‘ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার’ গ্যারান্টি।
এক ব্যক্তি জীবনে ১০ বছরের বেশি বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি অনেক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন সনদে মানবাধিকার ও আইন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো রাষ্ট্রপতি নিজের বিচারবুদ্ধিতে করতে পারবেন।
এখন প্রধানমন্ত্রীর একক স্বাক্ষরে জরুরি অবস্থা জারি করা যায়। কিন্তু নতুন নিয়মে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতিতেও অনুমোদন লাগবে।
আগে সরকার চাইলেই যে কাউকে ক্ষমা করতে পারত। কিন্তু এখন থেকে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি থাকলেই রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারবেন।
আমাদের সংসদ এখন এক কক্ষ বিশিষ্ট। কিন্তু সনদে একে ‘দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ জন সদস্য। সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি থেকে বাড়িয়ে ১০০টি করা হবে।
আরেকটি বড় বিষয় হলো–ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে। এ ছাড়া বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে এমপিরা নিজ দলের বিরুদ্ধেও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
বিচার বিভাগকেও করা হচ্ছে স্বাধীন। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবেন সরাসরি আপিল বিভাগ থেকে। আর দুর্নীতি দমন ও নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলের মতামত বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সরকার বলছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে পরবর্তী সংসদ এই ৮৪টি ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। অন্যথায় অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিলগুলোই কার্যকর হবে। তবে বিএনপি ও জামায়াতসহ কিছু দলের বেশ কিছু পয়েন্টে দ্বিমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে।
এখন একটা আলোচনায় আসি। এই গণভোট ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সবকিছু নিরঙ্কুশ নয়। এর কিছু বড় চ্যালেঞ্জ ও দুর্বলতার দিকও রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে।
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে অনেকগুলোতেই বিএনপি, জামায়াতসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে দলগুলো একমত হতে পারেনি। ফলে একটি বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থন ছাড়া এই সংস্কার কতটুকু দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ব্যালট পেপারে থাকবে মাত্র চারটি পয়েন্ট, কিন্তু সংস্কার প্রস্তাব ৮৪টি। সাধারণ ভোটারদের পক্ষে এত কম সময়ে ৮৪টি জটিল আইনি ও সাংবিধানিক পরিবর্তন বুঝে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা কঠিন। বিস্তারিত না জেনে ভোট দেওয়াটা এক ধরনের ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেওয়ার মতোও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদি ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে পরবর্তী সংসদকে এই ৮৪টি ধারা ৯ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু সংসদ যদি রাজনৈতিক কারণে তা না করে, তবে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।
একপক্ষে আছে রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিশাল সম্ভাবনা, আর অন্যপক্ষে রয়েছে রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাব ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ। ভোটার হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো–এই ৮৪টি প্রস্তাব ভালো করে জানা ও বোঝা। কারণ, আপনার একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের আগামীর সংবিধান।

ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী, সংবাদকক্ষ এবং নীতি-নির্ধারণী মহলে একটি প্রশ্ন নিয়েই বেশ গুঞ্জন চলছে: চীন কি শেষ পর্যন্ত ইরানের রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসবে? আর যদি আসে, তবে সেই সহায়তার ধরণ কেমন হবে?

ইরানি বাহিনীর হাতের কাছেই বহু লক্ষ্যবস্তু আছে। এর মধ্যে রয়েছে–হরমুজ প্রণালী বা বৃহত্তর উপসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ। নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট