Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

ঈদ উৎসব অর্থনীতির জীবনীশক্তি

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১৮: ৪৯
ঈদ উৎসব অর্থনীতির জীবনীশক্তি

মুসলমানদের দুটি উৎসব। একটি ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ, অন্যটি ঈদুল আজহা, যাকে বকরি বা কুরবানির ঈদও বলা হয়। দুটি ঈদেই সচরাচর খোলা মাঠে নামাজ পড়া হয়। ঈদুল ফিতর নামাজ শেষে বাসায় গিয়ে সেমাই খাওয়ার পর বড়দের উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ঈদুল আজহায় নামাজ শেষে কুরবানির পশু জবাই করা হয়, দ্রুত রান্না মাংস খেয়ে প্রবীণেরা বিছানায় বিশ্রাম নেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

নতুন জামা পরে আনন্দ করে শিশুরা, আর আনন্দ করে গরীব-মিসকিন। গরীব-মিসকিনদের গায়ে নতুন জামা থাকে না, পায়ে স্যান্ডেল থাকে না, থাকে না চুলে সিঁথি বা বিনুনি। এদের আনন্দ মাংস সংগ্রহে। পরিবারের সব সদস্য মাংসের খোঁজে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে। মাংস খাওয়ার আশায় তারা খুশি নয়, মাংস রান্না করে খাবে সেই ব্যবস্থাই তাদের নেই। থাকবে কী করে, তাদের রাত্রিযাপন করতে হয় ফুটপাতে! এরা সব মাংস কম দামে হোটেলে বিক্রি করে দেয়। দামি মাংস বহন করার মধ্যেই তাদের ঈদ আনন্দ। এই করুণ চিত্রও ‘ঈদ-অর্থনীতির’ অংশ।

ঈদ উৎসবে মানুষ প্রচুর খরচ করে এবং এই খরচে দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়। মানুষ যতবেশি খরচ করে তত বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্ভব হয়। ঈদে খরচ করার জন্য সারা বছর ধরে মানুষ সঞ্চয় করে। ঈদের কেনাকাটা করার জন্য কর্মজীবীদের ঈদ-বোনাস দেওয়া হয় এবং তার সঙ্গে যোগ হয় প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ।

শুধু ঈদে খরচের জন্য প্রবাসীরা পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণ করে থাকে। ঈদ উপলক্ষে নানাদিক থেকে অর্থের সমাগমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত টাকা হাতে থাকলে মানুষের চাহিদা বেড়ে যায়। ঈদে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনও বেড়ে যায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগ বাড়ে, বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান হয়, কর্মসংস্থান হলে বেকার কমে, বেকার কমলে দারিদ্র্য হ্রাস পায়।

ঈদুল আজহার ছুটি ৭ দিনgov logo

‘ঈদ-অর্থনীতি’ হচ্ছে ঈদকে কেন্দ্র করে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ঈদুল আজহায় বিপুল সংখ্যক পশু কুরবানি হয়। ২০২৫ সালে ঈদুল আজহায় পশু কুরবানি হয়েছে ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি। ২০২৪ সালে হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার ৯১৮টি পশু। অর্থাৎ এক বছরে কুরবানির সংখ্যা কমেছে ১২ লাখ ৭২ হাজার। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করায় লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। সরকারের প্রশ্রয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক মানুষের পক্ষে কুরবানি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই পশু কুরবানির সঙ্গে দেশের অনেকগুলো সেক্টরের কর্মকাণ্ড জড়িত। কুরবানির জন্য এখন আলাদাভাবে পশু লালনপালন করা হয়। এর জন্য শ্রমিক লাগে, লাগে প্রক্রিয়াজাত খাবার। পশুর খাবার তৈরির জন্য চাষ হয় ভুট্টা। আর ভুট্টাকে প্রক্রিয়াজাত করে পশুখাদ্য প্রস্তুতির জন্য গড়ে ওঠে শিল্পকারখানা। পশুখাদ্য ও পশুস্বাস্থ্য সেবা খাতে বকরি ঈদকে কেন্দ্র করে ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার বাজার গড়ে ওঠে। কুরবানির পশুর স্বাস্থ্যসেবা অপরিহার্য হওয়ায় ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও ওষুধ কোম্পানিগুলোর আয়ও বৃদ্ধি পায়।

গরুর হাটে গড়ে ওঠে অজস্র অস্থায়ী দোকান, বিক্রি হয় গরুর খড়ও। ছবি: চরচা
গরুর হাটে গড়ে ওঠে অজস্র অস্থায়ী দোকান, বিক্রি হয় গরুর খড়ও। ছবি: চরচা

দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কুরবানির পশু সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে অধিক মূল্যে যারা বিক্রি করে তারা হচ্ছে ব্যাপারী। মধ্যস্বত্বভোগী এই শ্রেণিটি ঈদের সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে বিরাট ভূমিকা পালন করে। পশুর স্থানান্তরে তারা ব্যবহার করে নৌকা-ট্রলার-ট্রাক ইত্যাদি। গরুর হাটে গড়ে ওঠে অজস্র অস্থায়ী দোকান, বিক্রি হয় গরুর খড়ও। অনেক স্কুল-কলেজের মাঠেও কুরবানির ঈদ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় পশুর হাট, এই হাট থেকে আদায় করা ‘হাসিল’-এর অর্থে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ্য বৃদ্ধি পায়।

ঈদকে ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই বা আড়াই লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটে। এটা জিডিপির প্রায় ৫-৭ শতাংশ। বাংলাদেশে সারা বছর যত পশু জবাই হয়, তার প্রায় অর্ধেকই জবাই হয় কুরবানির ঈদে এবং দেশের মোট কাঁচা চামড়ার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় কুরবানির ঈদে।

চামড়া শিল্পের সঙ্গে দেশের ১০ লাখ লোকের জীবিকা জড়িত এবং রপ্তানিতে এর অবদান ৩.৮ শতাংশ। বাংলাদেশে বছরে ৩৫-৪০ কোটি জোড়া জুতা তৈরি হয়। চামড়া দিয়ে তৈরি ব্যাগ, বেল্ট, ওয়ালেট ইত্যাদি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বার্ষিক আয়ের ৪০ শতাংশই আসে ঈদ বাজার থেকে।

দেশের মোট কাঁচা চামড়ার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় কুরবানির ঈদে। ছবি: চরচা
দেশের মোট কাঁচা চামড়ার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় কুরবানির ঈদে। ছবি: চরচা

দুই ঈদে ঘরমুখো মানুষের স্রোত বয়ে যায়। লঞ্চ, ট্রেন, বাসের হয় বাড়তি আয়। যাত্রাপথে হোটেল-মোটেলের খাবার খরচে আর্থিক লেনদেনের পরিধি আরও বেড়ে যায়। কোটি মানুষের এই ভ্রমণ ঘিরে যাত্রী পরিবহণ খাতে ঘুরে বেড়ায় হাজার কোটি টাকার লেনদেন। গ্রাম ও শহরের বাজারগুলোয় ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়ে। ঈদ উৎসব পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করে তোলে। এ সময়ে ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইনস, হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরা ভালো ব্যবসা করে। এই সময়ে ভালো ব্যবসা করে বিউটি পার্লার, কসমেটিকস ও গয়নার দোকান। দা-ছুরি-চাপাতি বানিয়ে ব্যবসা করে কামার। ব্যবসা করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-কমার্স ও হোম ডেলিভারি। 

ভোগ ব্যয় বাড়ানোই অর্থনীতির মূল কথা। ঈদুল ফিতরে ফ্রিজ, টেলিভিশন, পোশাক-পরিচ্ছদ, জুতা, টুপি, জায়নামাজ, আতর, ইলেকট্রনিক্স, খাবার, ভ্রমণ ইত্যাদিতে খরচ হয়। ঈদুল আজহা উৎপাদনকেন্দ্রিক। এই ঈদে খরচ হলেও সেই খরচের বেশিরভাগ গরুর খামার, চামড়া শিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঢোকে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। ঈদ অর্থনীতির ব্যাপক কর্মযজ্ঞে কিছু অর্থ দরিদ্র ও হতদরিদ্রের হাতেও পৌঁছে। ৫০০ কোটি টাকার ফিতরা এবং কম মূল্যের লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, শাড়ির বণ্টন হয় গরীবের হাতে। কিন্তু তাতে ধনী-গরীবের আয়-ব্যয় বৈষম্য দূর হয় না, তবে কিছুদিনের জন্য হলেও গরীবের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে। ক্রয় ক্ষমতা সংকুচিত হলে অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে আসে। স্থবিরতা ও বন্ধ্যাত্ব কাটাতে ঈদ ও পূজার উৎসব এবং নববর্ষের জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন দেশের অর্থনীতির জীবনীশক্তি হিসেবে কাজ করে। 

লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

বিষয়: ঈদুল আজহাউৎপাদনকোরবানির পশুর চামড়াবিনিয়োগবেকারকর্মসংস্থানঈদুল ফিতরকাঁচা চামড়াদারিদ্র্যট্রেনপশুর হাটপশুবাহী যানবাহনলঞ্চবাসপশুর চামড়াবাস সার্ভিস
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া