Advertisement Banner

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ঘিরে গণশুনানি

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ঘিরে গণশুনানি
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানি। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব–এমন দাবি ও ভোক্তাদের আপত্তির মধ্যেই পাইকারি বিদ্যুতের দাম এবং সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। আজ বুধবার রাজধানীর খামারবাড়ি মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানির প্রথম দিনে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত, অর্থাৎ ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে পিজিসিবি সঞ্চালন চার্জ ইউনিটপ্রতি ৩০-৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮-৪৯ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে।

পিডিবির দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। বর্তমান দরে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার ঘাটতি হবে। তবে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলেও সেই ঘাটতি খুব সামান্য কমবে।

শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জের কারণেই খরচ বেড়েছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ ছিল প্রতি ইউনিট ২.১৩ টাকা, যা পাঁচ বছরে বেড়ে প্রায় ১৩ টাকায় পৌঁছেছে।

গ্রাহক পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। ডেসকো, ডিপিডিসি, ওজোপাডিকো, আরইবি, নেসকো ও বিপিডিবি বিভিন্ন হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।

শুনানিতে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বক্তব্যের একটি অংশ পড়ে শোনান। সেখানে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো ঠিক নয়। বক্তব্যটি পড়ে চেয়ারম্যান বলেন, “আমিও এসব বক্তব্যের সঙ্গে একমত।”

জালাল আহমেদ আরও বলেন, “বাংলাদেশে ২৮,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৬,০০০ মেগাওয়াট। ফলে অতিরিক্ত ইনস্টলড ক্যাপাসিটি অনেক বেশি। এই কারণে বসে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। আইডিয়ালি যদি এটি ২০-২৫ শতাংশ বেশি থাকতো, তবে খরচ সহনীয় হতো।”

গণশুনানিতে ভোক্তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ না থাকায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। কাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে গ্রাহক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

সম্পর্কিত