Advertisement Banner

রামিসা হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ছাত্রসেনার বিক্ষোভ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
রামিসা হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ছাত্রসেনার বিক্ষোভ
বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রসেনার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। ছবি: চরচা

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রসেনার ঢাকা মহানগর শাখা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে প্রধান বক্তা মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, “দেশে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। রামিসা হত্যাকাণ্ড তারই এক নির্মম উদাহরণ। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।” প্রশাসনের ধীরগতি এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংগঠনের সহসভাপতি ড. এস এম সারোয়ার বলেন, “একজন পিতাকে যখন বলতে হয়—‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না’, তখন সেটি শুধু একটি পরিবারের হতাশা নয়; বরং পুরো বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থার প্রতিফলন।” তিনি দাবি করেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু গ্রেপ্তার নয়, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় নজরদারি বাড়ানো ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, সামাজিক অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতার সুযোগেই শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। পরিবার ও সমাজ মিলে এখনই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল।

মানববন্ধন থেকে রামিসা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা।

সম্পর্কিত