ঢাকার প্রায় শতভাগ মানুষ গৃহস্থালির চুলার আগুনের জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। সেই গ্যাস আসে, হয় পাইপলাইনে তিতাসের সরবরাহ থেকে অথবা সিলিন্ডারে করে। এ দুই উৎসেই তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে পার করছে ঢাকার অধিকাংশ মানুষ। ফলে রান্না-খাওয়া নিয়ে ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। টাকা দিয়েও আগুন পাচ্ছে না মানুষ।
কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা নিয়েও আশার বাণী শোনাতে পারছেন না কেউ।
কিছুদিন ধরেই বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ অনেক কমে এসেছে। বেশি দামেও গ্যাস কিনতে পারছেন না গ্রাহকরা। পাইপলাইনের গ্যাসেও চাপ কম। বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস স্বল্পতার সমস্যা আগে থেকেই ছিল।
এর মধ্যে দুদিন আগে ঢাকার আমিন বাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে ট্রলারের নোঙ্গরের আঘাতে গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পাইপলাইনটি মেরামত করা হয়। কিন্তু মেরামতের সময় পাইপে পানি ঢোকায় এবং একই সঙ্গে ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
অনেক এলাকায় চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। কোথাও গভীর রাতে সামান্য গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ছোট ছোট খাবারের দোকানগুলোতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে রান্নার বিকল্প হিসেবে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, কেউ আবার বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজধানীর গণভবন এলাকায় গ্যাস ভালভের বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে গ্যাস প্রায় ছিল না বললেই চলে। পরে শনিবার দুপুর নাগাদ এই সমস্যা সমাধান হয়েছে বলে তিতাসের পক্ষ থেকে জানানো হলেও বাস্তবে বিকেল পর্যন্ত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর, শুক্রাবাদ, রাজাবাজার এলাকার অনেকেই।
রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “সরকারপ্রধান কয়েক দিন আগে বললেন, আমরা সভ্যতার পথে পা বাড়িয়েছি। রান্নার চুলায় আগুন ছাড়া আমরা কীভাবে সভ্য হব? আগুন দিয়েই তো সভ্যতার গোড়াপত্তন!”
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় পাইপলাইন নেটওয়ার্কে চাপ কার্যত তলানিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এলপিজির উচ্চ আমদানিনির্ভরতা ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে গৃহস্থালির জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এবং বেসরকারি অপারেটরদের তথ্য বলছে, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে সংকট কাটানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুদিন আগে গত বৃহস্পতিবার বিইআরসি চেয়ারম্যান রোজার আগে এলপিজি সংকট কেটে যাবে বলে জানালেও সে আশা ক্ষীণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বহু গৃহস্থালি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র শিল্প এলপিজির দিকে ঝুঁকছে। ফলে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যা বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বেশি অস্থির করে তুলেছে।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৪২০০–৪৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ৩ হাজার এমএমসিএফডির নিচে। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ১২০০-১৩০০ এমএমসিএফডি। এই ঘাটতির কারণে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার খাতে রেশনিং বাড়ানো হয়েছে এবং বিতরণ লাইনে প্রয়োজনীয় অপারেটিং প্রেসার (১০-২০ পিএসআই) অনেক এলাকায় বজায় রাখা যাচ্ছে না।
সার্বিক গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ চরচাকে বলেন, “তার আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের চাহিদা ১৬ কোটি ঘনফুটের বেশি হলেও পেট্রোবাংলার কাছ থেকে সেই সরবরাহ পাচ্ছে না তিতাস। অন্যদিকে ৮ শতাংশ সিস্টেম লস আর শীতে পাইপলাইনে কনডেনসেট জমে যাওয়ার সমস্যার কারণে গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন গ্রাহকরা।”
কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের প্রভাব সরাসরি এলপিজির বাজারেও পড়ছে। বেসরকারি এলপিজি অপারেটর ও বিইআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক এলপিজি চাহিদা বর্তমানে প্রায় ১৮-২০ লাখ মেট্রিক টন, যার ৯৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। মাসিক গড় আমদানি প্রায় ১.৫-১.৭ লাখ মেট্রিক টন।
আন্তর্জাতিক বাজারে সিপি (কনট্রাক্ট প্রাইস) ও ফ্রেইট ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যা সরবরাহ পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি করছে। জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বিইআরসি’র চেয়ারম্যানের সামনেই এলপি ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের পক্ষে ১৫০০ টাকার কমে সিলিন্ডার বিক্রি সম্ভব না। কিন্তু বাজারে দুই হাজার টাকার বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে চাইলেও তা মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। গ্যাসের অভাবে অনেক এলপিজি বিক্রেতা দোকান বন্ধ রেখেছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরূল ইমাম চরচাকে বলেন, “গ্যাসের দৈনিক ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এলপিজির ওপর অতিরিক্ত চাপ গৃহস্থালি জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সরকার স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানি অপটিমাইজেশন এবং মধ্যমেয়াদে নতুন অনুসন্ধান ও কূপ খননের কথা বললেও, এসব উদ্যোগের ফল পেতে সময় লাগবে।”
সরবরাহ ঘাটতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনে পতন। পেট্রোবাংলার রিজার্ভ স্ট্যাটাস অনুযায়ী, দেশে প্রমাণিত ও সম্ভাব্য গ্যাস মজুত মিলিয়ে অবশিষ্ট রিজার্ভ প্রায় ১১-১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), যা বর্তমান উৎপাদন ও চাহিদার হারে ১০-১২ বছরের সমতুল্য।
পেট্রোবাংলারই কোনো কোনো কর্মকর্তা মনে করেন, ঠিকমতো হিসাব করলে প্রমাণিত মজুত ৮ টিসিএফ-এর বেশি হবে না। দৈনিক উৎপাদন বর্তমানে নেমে এসেছে ২৩০০ এমএমসিএফডির আশপাশে, যেখানে এক দশক আগে তা ছিল প্রায় ২৭০০ এমএমসিএফডি।
ছবি: তিতাসের সৌজন্যে
ঢাকার প্রায় শতভাগ মানুষ গৃহস্থালির চুলার আগুনের জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। সেই গ্যাস আসে, হয় পাইপলাইনে তিতাসের সরবরাহ থেকে অথবা সিলিন্ডারে করে। এ দুই উৎসেই তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে পার করছে ঢাকার অধিকাংশ মানুষ। ফলে রান্না-খাওয়া নিয়ে ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। টাকা দিয়েও আগুন পাচ্ছে না মানুষ।
কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা নিয়েও আশার বাণী শোনাতে পারছেন না কেউ।
কিছুদিন ধরেই বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ অনেক কমে এসেছে। বেশি দামেও গ্যাস কিনতে পারছেন না গ্রাহকরা। পাইপলাইনের গ্যাসেও চাপ কম। বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস স্বল্পতার সমস্যা আগে থেকেই ছিল।
এর মধ্যে দুদিন আগে ঢাকার আমিন বাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে ট্রলারের নোঙ্গরের আঘাতে গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পাইপলাইনটি মেরামত করা হয়। কিন্তু মেরামতের সময় পাইপে পানি ঢোকায় এবং একই সঙ্গে ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
অনেক এলাকায় চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। কোথাও গভীর রাতে সামান্য গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ছোট ছোট খাবারের দোকানগুলোতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে রান্নার বিকল্প হিসেবে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, কেউ আবার বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজধানীর গণভবন এলাকায় গ্যাস ভালভের বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে গ্যাস প্রায় ছিল না বললেই চলে। পরে শনিবার দুপুর নাগাদ এই সমস্যা সমাধান হয়েছে বলে তিতাসের পক্ষ থেকে জানানো হলেও বাস্তবে বিকেল পর্যন্ত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর, শুক্রাবাদ, রাজাবাজার এলাকার অনেকেই।
রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “সরকারপ্রধান কয়েক দিন আগে বললেন, আমরা সভ্যতার পথে পা বাড়িয়েছি। রান্নার চুলায় আগুন ছাড়া আমরা কীভাবে সভ্য হব? আগুন দিয়েই তো সভ্যতার গোড়াপত্তন!”
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় পাইপলাইন নেটওয়ার্কে চাপ কার্যত তলানিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এলপিজির উচ্চ আমদানিনির্ভরতা ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে গৃহস্থালির জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এবং বেসরকারি অপারেটরদের তথ্য বলছে, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে সংকট কাটানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুদিন আগে গত বৃহস্পতিবার বিইআরসি চেয়ারম্যান রোজার আগে এলপিজি সংকট কেটে যাবে বলে জানালেও সে আশা ক্ষীণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বহু গৃহস্থালি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র শিল্প এলপিজির দিকে ঝুঁকছে। ফলে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যা বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বেশি অস্থির করে তুলেছে।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৪২০০–৪৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ৩ হাজার এমএমসিএফডির নিচে। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ১২০০-১৩০০ এমএমসিএফডি। এই ঘাটতির কারণে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার খাতে রেশনিং বাড়ানো হয়েছে এবং বিতরণ লাইনে প্রয়োজনীয় অপারেটিং প্রেসার (১০-২০ পিএসআই) অনেক এলাকায় বজায় রাখা যাচ্ছে না।
সার্বিক গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ চরচাকে বলেন, “তার আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের চাহিদা ১৬ কোটি ঘনফুটের বেশি হলেও পেট্রোবাংলার কাছ থেকে সেই সরবরাহ পাচ্ছে না তিতাস। অন্যদিকে ৮ শতাংশ সিস্টেম লস আর শীতে পাইপলাইনে কনডেনসেট জমে যাওয়ার সমস্যার কারণে গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন গ্রাহকরা।”
কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের প্রভাব সরাসরি এলপিজির বাজারেও পড়ছে। বেসরকারি এলপিজি অপারেটর ও বিইআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক এলপিজি চাহিদা বর্তমানে প্রায় ১৮-২০ লাখ মেট্রিক টন, যার ৯৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। মাসিক গড় আমদানি প্রায় ১.৫-১.৭ লাখ মেট্রিক টন।
আন্তর্জাতিক বাজারে সিপি (কনট্রাক্ট প্রাইস) ও ফ্রেইট ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যা সরবরাহ পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি করছে। জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বিইআরসি’র চেয়ারম্যানের সামনেই এলপি ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের পক্ষে ১৫০০ টাকার কমে সিলিন্ডার বিক্রি সম্ভব না। কিন্তু বাজারে দুই হাজার টাকার বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে চাইলেও তা মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। গ্যাসের অভাবে অনেক এলপিজি বিক্রেতা দোকান বন্ধ রেখেছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরূল ইমাম চরচাকে বলেন, “গ্যাসের দৈনিক ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এলপিজির ওপর অতিরিক্ত চাপ গৃহস্থালি জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সরকার স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানি অপটিমাইজেশন এবং মধ্যমেয়াদে নতুন অনুসন্ধান ও কূপ খননের কথা বললেও, এসব উদ্যোগের ফল পেতে সময় লাগবে।”
সরবরাহ ঘাটতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনে পতন। পেট্রোবাংলার রিজার্ভ স্ট্যাটাস অনুযায়ী, দেশে প্রমাণিত ও সম্ভাব্য গ্যাস মজুত মিলিয়ে অবশিষ্ট রিজার্ভ প্রায় ১১-১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), যা বর্তমান উৎপাদন ও চাহিদার হারে ১০-১২ বছরের সমতুল্য।
পেট্রোবাংলারই কোনো কোনো কর্মকর্তা মনে করেন, ঠিকমতো হিসাব করলে প্রমাণিত মজুত ৮ টিসিএফ-এর বেশি হবে না। দৈনিক উৎপাদন বর্তমানে নেমে এসেছে ২৩০০ এমএমসিএফডির আশপাশে, যেখানে এক দশক আগে তা ছিল প্রায় ২৭০০ এমএমসিএফডি।