রাত ১১টার পর ঘুমালে কেন ওজন বাড়ে?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
রাত ১১টার পর ঘুমালে কেন ওজন বাড়ে?
দেরিতে ঘুমালে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়। ছবি: ফ্রিপিক

ওজন কমানোর পদ্ধতি নিয়ে সবচেয়ে আলোচনা হয় খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম কিংবা প্রতিদিন হাঁটা নিয়ে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে, সেটি হলো ঘুম। বিশেষ করে মধ্যরাতের আগে ঘুমানোর উপকারিতা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে মহারাষ্ট্রের থানেতে অবস্থিত জুপিটার হাসপাতালের পরিচালক (ইন্টারনাল মেডিসিন) ডা. অমিত সারাফ জানান, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরেও অনেকের ওজন না কমার পেছনে বড় কারণ হতে পারে অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস।

ডা. অমিত বলেন, “মানবদেহ একটি জৈবিক ঘড়ির (বায়োলজিক্যাল ক্লক) অনুসরণে কাজ করে।রাত সাড়ে ১০টার পর শরীরে একটি স্বাভাবিক পর্যায় শুরু হয়, যখন হজম প্রক্রিয়ার গতি কমে আসে। কেউ বেশি রাত অবধি জেগে থাকেন, তবে শরীর চাপের মধ্যে থাকে এবং কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। রাতে কর্টিসল বেশি থাকলে শরীর সহজে চর্বি জমাতে শুরু করে এবং তা পোড়ানো কঠিন হয়ে যায়। তাতে খাবার যত ভালোই হোক না কেন।”

তাই অনেক সময় ভালো ডায়েট অনুসরণ করেও অতিরিক্ত ওজন কমানো সম্ভব হয় না বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।

ডা. অমিত আরও জানান, শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় ছন্দ অনুযায়ী রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে শরীরের মেরামত ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সবচেয়ে কার্যকর হয়। এই সময়ের মধ্যে ঘুম না হলে বিপাক প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এতে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলো বিভ্রান্ত হয় এবং পরদিন অতিরিক্ত খাবারের লোভ বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত জাগার কারণে লেপ্টিন ও ঘ্রেলিনের মতো হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট করে, যেগুলো ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণ করে।

ডা. অমিতের ভাষ্য, “দেরিতে ঘুমালে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, শর্করাযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে এবং খাবার খাওয়ার পর তৃপ্তি কম অনুভূত হয়। পাশাপাশি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমে যায়, যা শরীরে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়।” এর প্রভাব হিসেবে সকালে শরীর ভারী লাগা, পানি জমে থাকা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

কী করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে?

ডা. অমিতের পরামর্শ, ধীরে ধীরে ঘুমের সময় এগিয়ে আনা যেতে পারে। যেমন: প্রতিরাতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে আগে ঘুমাতে যাওয়া ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, “রাতের খাবার ঘুমের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে খেলে রাতের ক্ষুধা কমে। যারা রাতে ঘন ঘন জেগে ওঠেন, তারা স্ক্রিন টাইম কমানো, আলো মৃদু রাখা এবং ঘুমের ঠিক আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চললে উপকার পাবেন।”

তার মতে, শুধুমাত্র ভালো খাদ্যাভ্যাস দিয়েই ভাঙা ঘুমের চক্রের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। রাত ১১টার আগে ঘুমানো বিপাক প্রক্রিয়ার জন্য একটি নীরব কিন্তু কার্যকর উপায়। এটি ক্ষুধার আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে।

সম্পর্কিত