চরচা ডেস্ক

কর্মব্যস্ততা বা অভ্যাসগত কারণে অনেকেই সকালে নাশতা করেন না। আবার অনেকে যৎসামান্য খেয়ে সকালটা কাটিয়ে দেন। কিন্তু এই অভ্যাস অনেক সময় শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার রাজ শামানির পডকাস্টে পুজা মাখিজা নামে এক পুষ্টিবিদ দাবি করেন, “যারা সকালে খাবার খান না, তাদের পেটের চর্বি হওয়ার ঝুঁকি ৩১ শতাংশ বেশি, অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ বেশি এবং স্থূলতার ঝুঁকি ৪৪ শতাংশ বেশি।”
এই পুষ্টিবিদ আরও বলেন, “আমি যখন একদিন ঠিকমতো খাই না, তখন চিনি জাতীয় খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। সকালের খাবার বাদ দেওয়া বেশিরভাগ মানুষও ঠিক এ কাজটিই করেন।”
পুজা মাখিজার এই দাবির পর ভারতের থানেতে অবস্থিত কিমস হাসপাতালের ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বিজয় নেগালুর দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, একাধিক পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় সকালে না খাওয়া এবং পেটের স্থূলতার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সম্পর্ক থাকলেই তা সরাসরি কারণ, এমনটি বলা যায় না।
৩১ শতাংশ দাবির পক্ষে প্রমাণ কতটা শক্ত?
ডা. বিজয় নেগালুর বলেন, যারা সকালের খাবার এড়িয়ে যান, তাদের মধ্যে অনিয়মিত ঘুম, রাত জাগা, দেরিতে খাওয়া এবং নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের মতো অভ্যাসও দেখা যায়। যেগুলো আলাদা আলাদাভাবে পেটের চর্বির ঝুঁকি বাড়ায়।

তার ভাষ্য, “৩১ শতাংশের হিসাবটি হয়তো একটি সামগ্রিক জীবনধারার প্রতিফলন, কেবল একটি বেলার খাবার বাদ দেওয়ার প্রভাব নয়।”
নাশতা বাদ দিলে কি বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়?
এ বিষয়ে ডা. বিজয় বলেন, “এটি সঠিক নয়। কেউ একটি বেলার খাবার না খেলেই শরীরের বিপাকক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় না। শরীর নিজেকে মানিয়ে নেয়।”
তবে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “সকালে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকতে পারে, আর দীর্ঘ সময় না খেলে ঘ্রেলিনের মতো ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনে প্রভাব পড়তে পারে। এতে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাওয়া হলে তা পরোক্ষভাবে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।”
চিনি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ কেন বাড়ে?
ডা. বিজয়ের মতে, দীর্ঘ সময় না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তির উৎস খোঁজে, যা সাধারণত চিনি বা উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাবার।
এর ফলে দুপুর বা রাতে বেশি পরিমাণে খাওয়া এবং হঠাৎ খাদ্য নির্বাচন বেড়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণে ভূমিকা রাখে বলে সতর্ক করেছেন এই বিশেষজ্ঞ।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কী বলছে?
ডা. বিজয় বলেছেন, মোট ক্যালোরি গ্রহণ ও পুষ্টির মান নিয়ন্ত্রণে থাকলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কার্যকর হতে পারে। এ পদ্ধতি হলো সুনির্দিষ্ট সময় ধরে খাবার গ্রহণ এবং বাকি সময় না খেয়ে থাকার চক্রাকার পদ্ধতি।
তার পরামর্শ, খাবারের সময়ের চেয়ে খাদ্যতালিকার গঠন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক পুষ্টিগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “পেটের চর্বির ঝুঁকি নির্ভর করে ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা, ক্যালোরির ভারসাম্য, মানসিক চাপ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলোর ওপর।”
সবশেষে ডা. বিজয় বলেন, সকালের নাশতা না খাওয়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি সূচক হতে পারে, তবে এটি একাই পেটের চর্বির কারণ নয়।

কর্মব্যস্ততা বা অভ্যাসগত কারণে অনেকেই সকালে নাশতা করেন না। আবার অনেকে যৎসামান্য খেয়ে সকালটা কাটিয়ে দেন। কিন্তু এই অভ্যাস অনেক সময় শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার রাজ শামানির পডকাস্টে পুজা মাখিজা নামে এক পুষ্টিবিদ দাবি করেন, “যারা সকালে খাবার খান না, তাদের পেটের চর্বি হওয়ার ঝুঁকি ৩১ শতাংশ বেশি, অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ বেশি এবং স্থূলতার ঝুঁকি ৪৪ শতাংশ বেশি।”
এই পুষ্টিবিদ আরও বলেন, “আমি যখন একদিন ঠিকমতো খাই না, তখন চিনি জাতীয় খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। সকালের খাবার বাদ দেওয়া বেশিরভাগ মানুষও ঠিক এ কাজটিই করেন।”
পুজা মাখিজার এই দাবির পর ভারতের থানেতে অবস্থিত কিমস হাসপাতালের ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বিজয় নেগালুর দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, একাধিক পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় সকালে না খাওয়া এবং পেটের স্থূলতার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সম্পর্ক থাকলেই তা সরাসরি কারণ, এমনটি বলা যায় না।
৩১ শতাংশ দাবির পক্ষে প্রমাণ কতটা শক্ত?
ডা. বিজয় নেগালুর বলেন, যারা সকালের খাবার এড়িয়ে যান, তাদের মধ্যে অনিয়মিত ঘুম, রাত জাগা, দেরিতে খাওয়া এবং নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের মতো অভ্যাসও দেখা যায়। যেগুলো আলাদা আলাদাভাবে পেটের চর্বির ঝুঁকি বাড়ায়।

তার ভাষ্য, “৩১ শতাংশের হিসাবটি হয়তো একটি সামগ্রিক জীবনধারার প্রতিফলন, কেবল একটি বেলার খাবার বাদ দেওয়ার প্রভাব নয়।”
নাশতা বাদ দিলে কি বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়?
এ বিষয়ে ডা. বিজয় বলেন, “এটি সঠিক নয়। কেউ একটি বেলার খাবার না খেলেই শরীরের বিপাকক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় না। শরীর নিজেকে মানিয়ে নেয়।”
তবে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “সকালে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকতে পারে, আর দীর্ঘ সময় না খেলে ঘ্রেলিনের মতো ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনে প্রভাব পড়তে পারে। এতে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাওয়া হলে তা পরোক্ষভাবে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।”
চিনি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ কেন বাড়ে?
ডা. বিজয়ের মতে, দীর্ঘ সময় না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তির উৎস খোঁজে, যা সাধারণত চিনি বা উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাবার।
এর ফলে দুপুর বা রাতে বেশি পরিমাণে খাওয়া এবং হঠাৎ খাদ্য নির্বাচন বেড়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণে ভূমিকা রাখে বলে সতর্ক করেছেন এই বিশেষজ্ঞ।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কী বলছে?
ডা. বিজয় বলেছেন, মোট ক্যালোরি গ্রহণ ও পুষ্টির মান নিয়ন্ত্রণে থাকলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কার্যকর হতে পারে। এ পদ্ধতি হলো সুনির্দিষ্ট সময় ধরে খাবার গ্রহণ এবং বাকি সময় না খেয়ে থাকার চক্রাকার পদ্ধতি।
তার পরামর্শ, খাবারের সময়ের চেয়ে খাদ্যতালিকার গঠন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক পুষ্টিগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “পেটের চর্বির ঝুঁকি নির্ভর করে ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা, ক্যালোরির ভারসাম্য, মানসিক চাপ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলোর ওপর।”
সবশেষে ডা. বিজয় বলেন, সকালের নাশতা না খাওয়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি সূচক হতে পারে, তবে এটি একাই পেটের চর্বির কারণ নয়।