চরচা ডেস্ক

চায়ের সঙ্গে বিস্কুট অনেকের কাছেই বেশ মজার খাবার। আবার অবসর সময়েও বসে বসে বিস্কুট খেতে অনেকে পছন্দ করেন। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক- সব বয়সের মানুষের কাছেই এটা জনপ্রিয়। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিস্কুট যুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদেরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে পাওয়া অধিকাংশ বিস্কুট অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত এবং এতে পরিশোধিত ময়দা, পাম তেল ও কৃত্রিম সংরক্ষকের (প্রিজারভেটিভ) মতো উপাদান থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, নিয়মিত বিস্কুট খেলে মাঝপথে তা বন্ধ করা কঠিন হয়ে যায়। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বাড়া, পেট ফাঁপা, রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাঝে মাঝে বিস্কুট খেলে বড় ক্ষতি না হলেও প্রতিদিনের অভ্যাস হৃদযন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিশোধিত সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি বিস্কুট
বাজারের বিস্কুট সাধারণত ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয়, যাতে আঁশ, ভিটামিন ও খনিজের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান প্রায় থাকেই না। এই খাবারে ক্যালরি তেমন না থাকায় দ্রুত হজম হয়, ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে প্রদাহ, ওজন বাড়া, বদহজম ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পাম তেলের ব্যবহার
বিস্কুট তৈরিতে সস্তা ও বহুল ব্যবহৃত চর্বি হলো পাম তেল। এতে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকে। বারবার ব্যবহার বা অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
উচ্চ সোডিয়াম
মিষ্টি বিস্কুটেও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। প্রায় ২৫ গ্রাম বিস্কুটে শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম পর্যন্ত লবণ থাকতে পারে, যা নিয়মিত খেলে দ্রুত জমা হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, কিডনির ওপর চাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে শরীরে পানি জমে গিয়ে ফোলা ভাব ও ওজন বাড়তে পারে।

অজান্তে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট কলেজের এক গবেষণায় দেখা যায়, বিস্কুটের মতো চিনি-সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কে এমন আনন্দের অনুভূতি তৈরি করতে পারে, যা আসক্তির সঙ্গে তুলনীয়। ফলে অনেকেই একটির পর একটি খেতে থাকেন এবং অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করেন।
প্রিজারভেটিভের প্রভাব
বাজারজাত বিস্কুটে বুটাইলেটেড হাইড্রোক্সি অ্যানিসোল (বিএইচএ) ও বুটাইলেটেড হাইড্রোক্সি টলুইন (বিএইচটি)–এর মতো প্রিজারভেটিভ ব্যবহৃত হয়। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত করা হয়েছে, এ ধরনের রাসায়নিক শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এশিয়া নেট নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মানে শরীরে ফ্রি র্যাডিকেলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। এতে শরীরে রক্ত এবং অন্যান্য তরল পদার্থের সঙ্গে প্রবাহিত হয়। এগুলো আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার প্রভাব ত্বকের বাইরের অংশেও দেখা যায় এবং ত্বক ফোলা দেখায়।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, বিস্কুট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন না হলেও নিয়মিত ও অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। বিকল্প হিসেবে আঁশসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

চায়ের সঙ্গে বিস্কুট অনেকের কাছেই বেশ মজার খাবার। আবার অবসর সময়েও বসে বসে বিস্কুট খেতে অনেকে পছন্দ করেন। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক- সব বয়সের মানুষের কাছেই এটা জনপ্রিয়। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিস্কুট যুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদেরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে পাওয়া অধিকাংশ বিস্কুট অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত এবং এতে পরিশোধিত ময়দা, পাম তেল ও কৃত্রিম সংরক্ষকের (প্রিজারভেটিভ) মতো উপাদান থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, নিয়মিত বিস্কুট খেলে মাঝপথে তা বন্ধ করা কঠিন হয়ে যায়। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বাড়া, পেট ফাঁপা, রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাঝে মাঝে বিস্কুট খেলে বড় ক্ষতি না হলেও প্রতিদিনের অভ্যাস হৃদযন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিশোধিত সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি বিস্কুট
বাজারের বিস্কুট সাধারণত ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয়, যাতে আঁশ, ভিটামিন ও খনিজের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান প্রায় থাকেই না। এই খাবারে ক্যালরি তেমন না থাকায় দ্রুত হজম হয়, ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে প্রদাহ, ওজন বাড়া, বদহজম ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পাম তেলের ব্যবহার
বিস্কুট তৈরিতে সস্তা ও বহুল ব্যবহৃত চর্বি হলো পাম তেল। এতে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকে। বারবার ব্যবহার বা অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
উচ্চ সোডিয়াম
মিষ্টি বিস্কুটেও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। প্রায় ২৫ গ্রাম বিস্কুটে শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম পর্যন্ত লবণ থাকতে পারে, যা নিয়মিত খেলে দ্রুত জমা হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, কিডনির ওপর চাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে শরীরে পানি জমে গিয়ে ফোলা ভাব ও ওজন বাড়তে পারে।

অজান্তে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট কলেজের এক গবেষণায় দেখা যায়, বিস্কুটের মতো চিনি-সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কে এমন আনন্দের অনুভূতি তৈরি করতে পারে, যা আসক্তির সঙ্গে তুলনীয়। ফলে অনেকেই একটির পর একটি খেতে থাকেন এবং অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করেন।
প্রিজারভেটিভের প্রভাব
বাজারজাত বিস্কুটে বুটাইলেটেড হাইড্রোক্সি অ্যানিসোল (বিএইচএ) ও বুটাইলেটেড হাইড্রোক্সি টলুইন (বিএইচটি)–এর মতো প্রিজারভেটিভ ব্যবহৃত হয়। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত করা হয়েছে, এ ধরনের রাসায়নিক শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এশিয়া নেট নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মানে শরীরে ফ্রি র্যাডিকেলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। এতে শরীরে রক্ত এবং অন্যান্য তরল পদার্থের সঙ্গে প্রবাহিত হয়। এগুলো আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার প্রভাব ত্বকের বাইরের অংশেও দেখা যায় এবং ত্বক ফোলা দেখায়।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, বিস্কুট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন না হলেও নিয়মিত ও অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। বিকল্প হিসেবে আঁশসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।