চরচা ডেস্ক

ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের জীবনে নানা ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি লক্ষণীয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণরা যেভাবে ভাবেন, মনে রাখেন এবং মনোযোগ দেন সেখানে কিছু বদল ঘটছে। এই পরিবর্তনকে বর্ণনা করতে প্রায়ই ব্যবহার করা হয় ‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’ শব্দটি।
আসলেই কি তাই?
অনেক জেন-জি তরুণদের কাছে স্মৃতি এখন ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী নীতিকা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, “একসময় আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর নম্বর সহজেই মনে রাখতে পারতাম। এখন শুধু নামের ওপর ট্যাপ করি। কেবল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নম্বরই মনে থাকে, যেমন বাবা-মায়ের।”
শুধু ফোন নম্বর নয়, তরুণদের পাসওয়ার্ড, রিমাইন্ডার, এমনকি জন্মদিনও এখন ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে। ফলে মস্তিষ্ককে আর সেগুলো ধরে রাখতে হয় না।
২৩ বছর বয়সী অঞ্জলি যাদব আরেকটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, “কখনো কখনো আমি মানুষের নাম মনে রাখতে পারি না। আমি তাদের ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল দিয়ে চিনতে পারি।”
এই দুই তরুণীর কথাবার্তা থেকে একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, উভয় ক্ষেত্রেই স্মৃতি হারিয়ে যায়নি বরং তা ‘আউটসোর্স’ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন ‘কগনিটিভ অফলোডিং’।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত প্লেক্সাস নিউরো সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. নাঈম সাদিকের মতে, এটি খুব ক্ষতিকর কিছু নয়। মস্তিষ্ক নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে তথ্য সংরক্ষণের বদলে, এখন এটি বেশি মনোযোগ দিচ্ছে কোথায় সেই তথ্য পাওয়া যাবে, তা মনে রাখতে।
তার মানে মানুষ কম মনে রাখছেন না বরং ভিন্নভাবে মনে রাখছেন।
ডিজিটাল ডিমেনশিয়া আসলে কী?
‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’ শুনতে উদ্বেগজনক লাগতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি প্রতিষ্ঠিত রোগ নয়।
নাঈম সাদিক জানান, এটি স্নায়ুবিজ্ঞানে স্বীকৃত কোনো রোগের নাম নয়। ২০১২ সালে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি দুর্বল হতে পারে—এই আশঙ্কা বোঝাতে শব্দটি জনপ্রিয় হয়। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সরাসরি ডিমেনশিয়া হয়—এমন দাবি সমর্থনযোগ্য নয়।

তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কের গঠনগত ক্ষতি নয় বরং কার্যকরী ও আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে-
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে চার ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহারে মনোযোগ ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের কিছু অংশে পার্থক্য থাকতে পারে। তবে এসব বিষয় এখনো গবেষণাধীন এবং এগুলো কোনো রোগ নির্দেশ করে না। কারণ এই পরিবর্তনগুলো স্নায়ুবিক অবক্ষয়জনিত রোগের মতো নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো ঠিক করা সম্ভব বলে মনে করেন নাঈম সাদিক।
অঞ্জলি বলেন, “আমরা আর গভীরভাবে চিন্তা করি না। আমরা শুধু গুগলে খুঁজি এবং এগিয়ে যাই।”
ডা. সাদিক এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “মস্তিষ্ক প্রকৃত অর্থে একসঙ্গে একাধিক কাজ করে না। এটি অনেকগুলো কাজের মধ্যে দ্রুতগতিতে সুইচ করে। বারবার এমন সুইচিং কার্যক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা মনোযোগ, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে।”
এ কারণেই ছোট ছোট কাজ—যেমন মাথায় হিসাব করা বা রাস্তা মনে রাখার মতো বিষয় এখন বেশি কঠিন মনে হয়।
ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভরতা
বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল নানা টুলসের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এর মধ্যে পরিচিত পথেও জিপিএস ব্যবহার করা, সহজ হিসাবের জন্য ক্যালকুলেটর দেখা এবং নিয়মিত কাজের জন্য রিমাইন্ডারের ওপর নির্ভর করার মতো বিষয় রয়েছে।
এই পরিবর্তন শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, আচরণেও ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগেও বদল এসেছে। বিশেষ করে তরুণরা এখন আর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ করেন না, তারা বরং ফোনেই ডুবে থাকতে পছন্দ করেন।

তবে অনেকে আবার ডিজিটাল জীবন থেকে দূরে যাওয়ার কথাও বলেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সারাক্ষণ সংযুক্ত থাকার ফলে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সুযোগ পায় না। নোটিফিকেশন, বার্তা ও অন্তহীন কনটেন্ট একটি নিম্নমাত্রার মানসিক চাপ তৈরি করে।
ডা. সাদিক জানান, শিশু ও কিশোররা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশমান, তাই অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারে তারা বেশি প্রভাবিত হয়। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে কথাবার্তায় দেরি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে, যা কখনো কখনো ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ নামে উল্লেখ করা হয়।
ডা. সাদিকের মতে, যদি সমস্যা প্রযুক্তি না হয়ে তার ব্যবহার হয়, তাহলে সমাধানও হবে ‘বর্জন নয়, বরং ভারসাম্য আনা’। এজন্য তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো হলো-
মজার বিষয় হলো, অনেক তরুণ ইতোমধ্যেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই পথে এগোচ্ছেন। কেউ যখন প্রয়োজন মনে করেন, তখন বিরতি নেন। অনেকে নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করেন। কেউ আবার সুযোগ পেলেই স্ক্রিন টাইম কমান। এগুলো বড় কোনো জীবনধারার পরিবর্তন নয়—বরং ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপ মাত্র।

ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের জীবনে নানা ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি লক্ষণীয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণরা যেভাবে ভাবেন, মনে রাখেন এবং মনোযোগ দেন সেখানে কিছু বদল ঘটছে। এই পরিবর্তনকে বর্ণনা করতে প্রায়ই ব্যবহার করা হয় ‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’ শব্দটি।
আসলেই কি তাই?
অনেক জেন-জি তরুণদের কাছে স্মৃতি এখন ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী নীতিকা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, “একসময় আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর নম্বর সহজেই মনে রাখতে পারতাম। এখন শুধু নামের ওপর ট্যাপ করি। কেবল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নম্বরই মনে থাকে, যেমন বাবা-মায়ের।”
শুধু ফোন নম্বর নয়, তরুণদের পাসওয়ার্ড, রিমাইন্ডার, এমনকি জন্মদিনও এখন ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে। ফলে মস্তিষ্ককে আর সেগুলো ধরে রাখতে হয় না।
২৩ বছর বয়সী অঞ্জলি যাদব আরেকটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, “কখনো কখনো আমি মানুষের নাম মনে রাখতে পারি না। আমি তাদের ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল দিয়ে চিনতে পারি।”
এই দুই তরুণীর কথাবার্তা থেকে একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, উভয় ক্ষেত্রেই স্মৃতি হারিয়ে যায়নি বরং তা ‘আউটসোর্স’ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন ‘কগনিটিভ অফলোডিং’।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত প্লেক্সাস নিউরো সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. নাঈম সাদিকের মতে, এটি খুব ক্ষতিকর কিছু নয়। মস্তিষ্ক নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে তথ্য সংরক্ষণের বদলে, এখন এটি বেশি মনোযোগ দিচ্ছে কোথায় সেই তথ্য পাওয়া যাবে, তা মনে রাখতে।
তার মানে মানুষ কম মনে রাখছেন না বরং ভিন্নভাবে মনে রাখছেন।
ডিজিটাল ডিমেনশিয়া আসলে কী?
‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’ শুনতে উদ্বেগজনক লাগতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি প্রতিষ্ঠিত রোগ নয়।
নাঈম সাদিক জানান, এটি স্নায়ুবিজ্ঞানে স্বীকৃত কোনো রোগের নাম নয়। ২০১২ সালে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি দুর্বল হতে পারে—এই আশঙ্কা বোঝাতে শব্দটি জনপ্রিয় হয়। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সরাসরি ডিমেনশিয়া হয়—এমন দাবি সমর্থনযোগ্য নয়।

তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কের গঠনগত ক্ষতি নয় বরং কার্যকরী ও আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে-
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে চার ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহারে মনোযোগ ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের কিছু অংশে পার্থক্য থাকতে পারে। তবে এসব বিষয় এখনো গবেষণাধীন এবং এগুলো কোনো রোগ নির্দেশ করে না। কারণ এই পরিবর্তনগুলো স্নায়ুবিক অবক্ষয়জনিত রোগের মতো নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো ঠিক করা সম্ভব বলে মনে করেন নাঈম সাদিক।
অঞ্জলি বলেন, “আমরা আর গভীরভাবে চিন্তা করি না। আমরা শুধু গুগলে খুঁজি এবং এগিয়ে যাই।”
ডা. সাদিক এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “মস্তিষ্ক প্রকৃত অর্থে একসঙ্গে একাধিক কাজ করে না। এটি অনেকগুলো কাজের মধ্যে দ্রুতগতিতে সুইচ করে। বারবার এমন সুইচিং কার্যক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা মনোযোগ, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে।”
এ কারণেই ছোট ছোট কাজ—যেমন মাথায় হিসাব করা বা রাস্তা মনে রাখার মতো বিষয় এখন বেশি কঠিন মনে হয়।
ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভরতা
বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল নানা টুলসের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এর মধ্যে পরিচিত পথেও জিপিএস ব্যবহার করা, সহজ হিসাবের জন্য ক্যালকুলেটর দেখা এবং নিয়মিত কাজের জন্য রিমাইন্ডারের ওপর নির্ভর করার মতো বিষয় রয়েছে।
এই পরিবর্তন শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, আচরণেও ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগেও বদল এসেছে। বিশেষ করে তরুণরা এখন আর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ করেন না, তারা বরং ফোনেই ডুবে থাকতে পছন্দ করেন।

তবে অনেকে আবার ডিজিটাল জীবন থেকে দূরে যাওয়ার কথাও বলেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সারাক্ষণ সংযুক্ত থাকার ফলে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সুযোগ পায় না। নোটিফিকেশন, বার্তা ও অন্তহীন কনটেন্ট একটি নিম্নমাত্রার মানসিক চাপ তৈরি করে।
ডা. সাদিক জানান, শিশু ও কিশোররা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশমান, তাই অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারে তারা বেশি প্রভাবিত হয়। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে কথাবার্তায় দেরি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে, যা কখনো কখনো ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ নামে উল্লেখ করা হয়।
ডা. সাদিকের মতে, যদি সমস্যা প্রযুক্তি না হয়ে তার ব্যবহার হয়, তাহলে সমাধানও হবে ‘বর্জন নয়, বরং ভারসাম্য আনা’। এজন্য তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো হলো-
মজার বিষয় হলো, অনেক তরুণ ইতোমধ্যেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই পথে এগোচ্ছেন। কেউ যখন প্রয়োজন মনে করেন, তখন বিরতি নেন। অনেকে নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করেন। কেউ আবার সুযোগ পেলেই স্ক্রিন টাইম কমান। এগুলো বড় কোনো জীবনধারার পরিবর্তন নয়—বরং ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপ মাত্র।

মাল্টিভিটামিন কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। এটি সুষম খাদ্যের বিকল্পও নয়। বরং এটি একটি সহায়ক উপাদান, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপকার করতে পারে। তাই অন্ধভাবে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে, নিজের শারীরিক অবস্থা, বয়স এবং খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পথ।