Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> জীবনচরচা

জেন জি-দের স্মৃতি হারিয়ে যাচ্ছে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ২২
জেন জি-দের স্মৃতি হারিয়ে যাচ্ছে?

ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের জীবনে নানা ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি লক্ষণীয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণরা যেভাবে ভাবেন, মনে রাখেন এবং মনোযোগ দেন সেখানে কিছু বদল ঘটছে। এই পরিবর্তনকে বর্ণনা করতে প্রায়ই ব্যবহার করা হয় ‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’ শব্দটি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আসলেই কি তাই?

অনেক জেন-জি তরুণদের কাছে স্মৃতি এখন ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী নীতিকা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, “একসময় আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর নম্বর সহজেই মনে রাখতে পারতাম। এখন শুধু নামের ওপর ট্যাপ করি। কেবল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নম্বরই মনে থাকে, যেমন বাবা-মায়ের।”

শুধু ফোন নম্বর নয়, তরুণদের পাসওয়ার্ড, রিমাইন্ডার, এমনকি জন্মদিনও এখন ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে। ফলে মস্তিষ্ককে আর সেগুলো ধরে রাখতে হয় না।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

২৩ বছর বয়সী অঞ্জলি যাদব আরেকটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, “কখনো কখনো আমি মানুষের নাম মনে রাখতে পারি না। আমি তাদের ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল দিয়ে চিনতে পারি।”

এই দুই তরুণীর কথাবার্তা থেকে একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, উভয় ক্ষেত্রেই স্মৃতি হারিয়ে যায়নি বরং তা ‘আউটসোর্স’ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন ‘কগনিটিভ অফলোডিং’।

ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত প্লেক্সাস নিউরো সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. নাঈম সাদিকের মতে, এটি খুব ক্ষতিকর কিছু নয়। মস্তিষ্ক নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে তথ্য সংরক্ষণের বদলে, এখন এটি বেশি মনোযোগ দিচ্ছে কোথায় সেই তথ্য পাওয়া যাবে, তা মনে রাখতে।

তার মানে মানুষ কম মনে রাখছেন না বরং ভিন্নভাবে মনে রাখছেন।

ডিজিটাল ডিমেনশিয়া আসলে কী?

‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’ শুনতে উদ্বেগজনক লাগতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি প্রতিষ্ঠিত রোগ নয়।

নাঈম সাদিক জানান, এটি স্নায়ুবিজ্ঞানে স্বীকৃত কোনো রোগের নাম নয়। ২০১২ সালে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি দুর্বল হতে পারে—এই আশঙ্কা বোঝাতে শব্দটি জনপ্রিয় হয়। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সরাসরি ডিমেনশিয়া হয়—এমন দাবি সমর্থনযোগ্য নয়।

বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল নানা টুলসের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ছবি: ফ্রিপিক
বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল নানা টুলসের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ছবি: ফ্রিপিক

তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কের গঠনগত ক্ষতি নয় বরং কার্যকরী ও আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে-

  • একাধিক কাজের মধ্যে ক্রমাগত সুইচ করার কারণে মনোযোগের সময়কাল কমে যাওয়া
  • বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলো আলাদা করতে অসুবিধা হওয়া
  • বিভক্ত মনোযোগের কারণে ভুলে যাওয়া

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে চার ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহারে মনোযোগ ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের কিছু অংশে পার্থক্য থাকতে পারে। তবে এসব বিষয় এখনো গবেষণাধীন এবং এগুলো কোনো রোগ নির্দেশ করে না। কারণ এই পরিবর্তনগুলো স্নায়ুবিক অবক্ষয়জনিত রোগের মতো নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো ঠিক করা সম্ভব বলে মনে করেন নাঈম সাদিক।

অঞ্জলি বলেন, “আমরা আর গভীরভাবে চিন্তা করি না। আমরা শুধু গুগলে খুঁজি এবং এগিয়ে যাই।”

ডা. সাদিক এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “মস্তিষ্ক প্রকৃত অর্থে একসঙ্গে একাধিক কাজ করে না। এটি অনেকগুলো কাজের মধ্যে দ্রুতগতিতে সুইচ করে। বারবার এমন সুইচিং কার্যক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা মনোযোগ, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে।”

এ কারণেই ছোট ছোট কাজ—যেমন মাথায় হিসাব করা বা রাস্তা মনে রাখার মতো বিষয় এখন বেশি কঠিন মনে হয়।

ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভরতা

বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল নানা টুলসের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এর মধ্যে পরিচিত পথেও জিপিএস ব্যবহার করা, সহজ হিসাবের জন্য ক্যালকুলেটর দেখা এবং নিয়মিত কাজের জন্য রিমাইন্ডারের ওপর নির্ভর করার মতো বিষয় রয়েছে।

এই পরিবর্তন শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, আচরণেও ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগেও বদল এসেছে। বিশেষ করে তরুণরা এখন আর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ করেন না, তারা বরং ফোনেই ডুবে থাকতে পছন্দ করেন।

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে কথাবার্তায় দেরি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ছবি: ফ্রিপিক
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে কথাবার্তায় দেরি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ছবি: ফ্রিপিক

তবে অনেকে আবার ডিজিটাল জীবন থেকে দূরে যাওয়ার কথাও বলেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সারাক্ষণ সংযুক্ত থাকার ফলে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সুযোগ পায় না। নোটিফিকেশন, বার্তা ও অন্তহীন কনটেন্ট একটি নিম্নমাত্রার মানসিক চাপ তৈরি করে।

ডা. সাদিক জানান, শিশু ও কিশোররা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশমান, তাই অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারে তারা বেশি প্রভাবিত হয়। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে কথাবার্তায় দেরি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে, যা কখনো কখনো ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ নামে উল্লেখ করা হয়।

ডা. সাদিকের মতে, যদি সমস্যা প্রযুক্তি না হয়ে তার ব্যবহার হয়, তাহলে সমাধানও হবে ‘বর্জন নয়, বরং ভারসাম্য আনা’। এজন্য তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো হলো-

  • একসঙ্গে একাধিক কাজ করা কমানো
  • সপ্তাহে অন্তত দুবার ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে বিরতি নেওয়া
  • প্রতিদিন ২০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করা
  • নতুন কিছু শেখা (আর্ট, নাচ, খেলাধুলা ইত্যাদি)
  • প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা

মজার বিষয় হলো, অনেক তরুণ ইতোমধ্যেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই পথে এগোচ্ছেন। কেউ যখন প্রয়োজন মনে করেন, তখন বিরতি নেন। অনেকে নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করেন। কেউ আবার সুযোগ পেলেই স্ক্রিন টাইম কমান। এগুলো বড় কোনো জীবনধারার পরিবর্তন নয়—বরং ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপ মাত্র।

বিষয়: স্মার্টফোনতথ্যপ্রযুক্তিজীবনধারাসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজেনারেশন জেডলাইফস্টাইলডিভাইস
সর্বশেষ
  • ১

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ২

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৩

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৪

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৫

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • কীভাবে বুঝবেন আপনি গরিব?

    কীভাবে বুঝবেন আপনি গরিব?

    নিয়মিত বেতন পেয়ে মোটামুটি ভালোভাবে জীবনযাপন করলেও কিন্তু আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে। আপনি দৈনন্দিন বিলগুলো হয়তো পরিশোধ করতে পারছেন, কিন্তু হুট করে বড় কোনো খরচ এসে পড়লে সমস্যায় পড়ে যান। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই কাউকে গরিব বলা যায় না। এতে বোঝা যায় যে আপনি আর্থিকভাবে চাপে আছেন।

  • ইসবগুলের ভুষি কি আসলেই ওজেম্পিকের বিকল্প?

    ইসবগুলের ভুষি কি আসলেই ওজেম্পিকের বিকল্প?

    তারা সস্তা ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যাবে এমন কিছু জিনিস নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন, যা নাকি ওজেম্পিকের মতো দ্রুত কমাতে পারে। এই তালিকায় সাম্প্রতিক সময় সবচেয়ে বেশি শোনা গেছে ‘সিলিয়াম হাস্ক’-এর নাম। আর এই সিলিয়াম হাস্ক আর কিছুই নয়— আমাদের অতি পরিচিত ইসবগুলের ভুষি।

  • কেন প্রচলিত ‘ক্যারিয়ার পরামর্শ’ জেন জির ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে

    কেন প্রচলিত ‘ক্যারিয়ার পরামর্শ’ জেন জির ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে

    সম্ভবত এটাই আগামী দিনের কর্মজগতের নতুন বাস্তবতা, যেখানে সাফল্যের মাপকাঠি কেবল পদোন্নতি বা চাকরির দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা নয়; বরং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।

  • ওয়েট লিফটিং কেন নারীদের জন্য সেরা ব্যায়াম

    ওয়েট লিফটিং কেন নারীদের জন্য সেরা ব্যায়াম

    অনেকেই মনে করেন ওজন তুললে নারীরা পুরুষদের মতো পেশীবহুল ও চওড়া হয়ে যাবেন। তবে বিজ্ঞানী জে. ই. আর্প ও তার সহযোগীদের গবেষণা বলছে, পেশীর বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোনের ওপর।