
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। জেন-জি অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচন বাংলাদেশে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্কার, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই চার স্তম্ভে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার।

ঢাকায় যখন নির্বাচনী প্রচারণার পারদ তুঙ্গে, তখন এই ভোটের ফলাফল অন্য কোথাও কোনো ভোটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফল নির্ধারণ না করলেও, এটি পরবর্তী তিনটি নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে জেন-জি প্রজন্মের তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই ম্লান।

বাংলাদেশের এই নির্বাচন অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতির একটি মৌলিক দ্বিধাকে সবার সামনে এসেছে, তা হলো কাঠামোগত বদল ছাড়াই শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন। হাসিনার পতন রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করলেও তা থেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয়নি। ফলে তরুণ ভোটাররা এখন বাস্তববাদিতা এবং আদর্শের মাঝে আটকে পড়েছেন।

গত বছরে নেপালে ‘জেন জি’ দের বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভ ছিল অস্বাভাবিক ও পরিকল্পিত। নেপালে এমন কিছু হতে পারে বলে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নেতারা নেপালকে সতর্ক করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

গ্লাসডোরের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ জেন জি কর্মী বড় বেতন বা ক্ষমতার হাতছানি না থাকলে ব্যবস্থাপক বা লিডারশিপের পথে হাঁটতে নারাজ। এই প্রবণতাকেই বলা হচ্ছে ‘কর্মজীবনের মিনিমালিজম’ (Career Minimalism)।

নেপালি ভোটারদের কাছে এখনও দুর্নীতিই প্রধান সমস্যা। এই উদ্বেগের গভীরে রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠাও। নেপালের জনগণের গড় বয়স ২৬ বছর হলেও, দেশটির অর্থনীতি তরুণদেরকে তেমন কিছুই দিতে পারছে না।

অথচ আগের প্রজন্মের কাছে নেতৃত্বের চেয়ারে বসা মানেই ছিল সাফল্যের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাহলে এই প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি এত আলাদা হলো কীভাবে?

নিজের যত্ন বা সেল্ফ কেয়ারের দুনিয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রতি মাসে বা সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আসছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। নিজের যত্নের বেশিরভাগ ধারাগুলো আসছে জেন জি’দের হাত ধরে।

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-উত্তাল পরিস্থিতির পর পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে শুরু হওয়া জেন জি আন্দোলন ও তরুণদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ নেপালের রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আমরা এখন এটা দেখতে শুধু অপেক্ষা করতে পারি– জেন-জি আন্দোলন কীভাবে পৃথিবীকে গড়ে তোলে। মানবজাতির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মোকাবিলা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তরুণরা। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় যখন তরুণ আন্দোলনকারীরা এবং সিপিএন সমর্থকেরা এক সঙ্গে সমাবেশ করে। পরবর্তীতে উভয় দলের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ফলে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়।

মিচোয়াকানে মেয়র কার্লোস ম্যানজোর প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের পর মেক্সিকোজুড়ে জেনারেশন-জি তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ বিভিন্ন স্থানে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর মিচোয়াকানের উরুয়াপান শহরের মেয়র কার্লোস ম্যানজোকে ডে অব দ্য ডেড অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারই কার্লোসকে হত্যা করেছে।

গত ১ নভেম্বর মিচোয়াকানের উরুয়াপান শহরের মেয়র কার্লোস ম্যানজোকে ডে অব দ্য ডেড অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারই কার্লোসকে হত্যা করেছে।