সানা খান

শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। দমন-পীড়ন, বেকারত্ব এবং বংশানুক্রমিক রাজনীতির প্রতি তীব্র ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। অনেকেরই আশা ও বিশ্বাস ছিল যে, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে সাম্য, সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে জেন-জি প্রজন্মের তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই ম্লান। যদিও এই নির্বাচনে একটি অবাধ ভোটের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তবুও অনেক তরুণের মতে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অর্থবহ কোনো পরিবর্তন কিংবা নির্ভরযোগ্য নতুন ‘বিকল্প’ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
পরিবর্তনহীন বিকল্প
শেখ হাসিনার বিদায় সত্ত্বেও এবারের নির্বাচন মূলত পরিচিত পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। একদিকে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যদিকে ইসলামপন্থী জামায়াতে ইসলামী। জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিতর্কিত হওয়া সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠিত দলগুলোই বর্তমানে প্রভাব বিস্তার করে আছে, যা অনেক তরুণ ভোটারকে হতাশ করেছে।
ঢাকা জুড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর রয়টার্সের চালানো সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, ভোট দেওয়ার ব্যাপারে তাদের ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও পছন্দের সীমিত বিকল্প নিয়ে তারা হতাশ। অনেকের মতেই, গণঅভ্যুত্থানের ফলে রাজনৈতিক ব্যবস্থার যে আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, তা না হয়ে বরং ব্যবস্থাটি এখনো সেই পুরনো ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যেই আটকা পড়ে আছে।
ছাত্র রাজনীতি এবং ইসলামপন্থী প্রশ্ন
মোট ভোটারের চার ভাগের এক ভাগের বেশি হওয়া সত্ত্বেও, প্রত্যাশা ছিল যে জেন-জি প্রজন্মের ভোটাররা আন্দোলনকারী নেতাদের হাত ধরে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে সমর্থন করবে। তবে, জামায়াতে ইসলামীর সাথে এই কমিটির মিত্রতা অনেক সমর্থককে হতাশ ও বিমুখ করেছে, যারা মূলত অতীতের রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি পরিচ্ছন্ন সূচনার আশা করেছিলেন।
বর্তমানে কিছু তরুণ ভোটার এই নির্বাচনকে পুরনো রাজনৈতিক অভিজাত গোষ্ঠী এবং ‘ছাত্র-ইসলামপন্থী’ ব্লকের মধ্যে একটি বাধ্যতামূলক পছন্দ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি সেই গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক অবস্থানকে ক্ষুণ্ণ করছে যা একসময় ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মোহভঙ্গ
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রতিও ক্রমবর্ধমান হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেক বাংলাদেশি তরুণদের অভিযোগ, মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণ এবং সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে সুরক্ষা দিতে এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
একইসাথে অর্থনৈতিক সংকট ও ক্ষোভ এখনো তীব্র। উচ্চ বেকারত্ব এবং সীমিত সুযোগ, যা ছিল গণঅভ্যুত্থানের প্রধান চালিকাশক্তি সেগুলোর কোনো অর্থবহ সমাধান না হওয়ায় হাসিনা-পরবর্তী এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমেছে।
ভোটাধিকার প্রয়োগে অবিচল উদ্দীপনা
মোহভঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও তরুণদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা এখনো বেশ চাঙ্গা। বিভিন্ন জরিপ থেকে জানা যায়, তরুণ ভোটারদের মাঝে ভোট দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। তবে তারা বর্তমানে প্রায় সমানভাবে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থনে বিভক্ত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, যার মধ্যে রয়েছে মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত গণভোট এই নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বহু বছরের সংকুচিত রাজনৈতিক পরিসরের পর, অনেকের কাছে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারাটাই একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সন্ধান
কিছু তরুণ নেতা সংস্কারের আশা ছাড়তে নারাজ। স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সক্রিয় কর্মীদের মতে, পরিবর্তন থমকে গেলেও এই গণঅভ্যুত্থান নতুন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরগুলোর জন্য পথ খুলে দিয়েছে, যদিও সেই অগ্রগতির গতি বেশ ধীর।
অনেক জেন-জি প্রজন্মের ভোটারের মতে, তাদের আশা ভঙ্গ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। বর্তমানে তারা হয়তো চেনা বা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর দিকেই ফিরে যাচ্ছে, কিন্তু একটি প্রকৃত নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর আকাঙ্ক্ষা এখনো তাদের মনে গভীরে বেঁচে আছে।
বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের এই নির্বাচন অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতির একটি মৌলিক দ্বিধাকে সবার সামনে এসেছে, তা হলো কাঠামোগত বদল ছাড়াই শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন। হাসিনার পতন রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করলেও তা থেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয়নি। ফলে তরুণ ভোটাররা এখন বাস্তববাদিতা এবং আদর্শের মাঝে আটকে পড়েছেন।
কিছু সময়ের জন্য, জেন-জি প্রজন্ম হয়তো পুরোনো দলগুলোকে ক্ষমতায় ফিরে আসতে সাহায্য করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিতে তাদের এই অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দেয় যে, কাঠামোগত সংস্কারের দাবি ফুরিয়ে যায়নি, কেবল স্থগিত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কি পরবর্তী কোনো বড় ধরনের সংঘাত ছাড়াই এই চাপ সামাল দিতে পারবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বুলগেরিয়া-ভিত্তিক বিশ্লেষণ ধর্মী ওয়েব সাইট মডার্ন ডিপ্লোম্যাসির বিশ্লেষণটি লেখাটি অনুবাদ করে প্রকাশিত
সানা খান মডার্ন ডিপ্লোম্যাসির বার্তা সম্পাদক। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং গবেষক সানা খান, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে লেখেলেখি করেন।

শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। দমন-পীড়ন, বেকারত্ব এবং বংশানুক্রমিক রাজনীতির প্রতি তীব্র ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। অনেকেরই আশা ও বিশ্বাস ছিল যে, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে সাম্য, সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে জেন-জি প্রজন্মের তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই ম্লান। যদিও এই নির্বাচনে একটি অবাধ ভোটের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তবুও অনেক তরুণের মতে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অর্থবহ কোনো পরিবর্তন কিংবা নির্ভরযোগ্য নতুন ‘বিকল্প’ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
পরিবর্তনহীন বিকল্প
শেখ হাসিনার বিদায় সত্ত্বেও এবারের নির্বাচন মূলত পরিচিত পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। একদিকে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যদিকে ইসলামপন্থী জামায়াতে ইসলামী। জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিতর্কিত হওয়া সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠিত দলগুলোই বর্তমানে প্রভাব বিস্তার করে আছে, যা অনেক তরুণ ভোটারকে হতাশ করেছে।
ঢাকা জুড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর রয়টার্সের চালানো সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, ভোট দেওয়ার ব্যাপারে তাদের ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও পছন্দের সীমিত বিকল্প নিয়ে তারা হতাশ। অনেকের মতেই, গণঅভ্যুত্থানের ফলে রাজনৈতিক ব্যবস্থার যে আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, তা না হয়ে বরং ব্যবস্থাটি এখনো সেই পুরনো ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যেই আটকা পড়ে আছে।
ছাত্র রাজনীতি এবং ইসলামপন্থী প্রশ্ন
মোট ভোটারের চার ভাগের এক ভাগের বেশি হওয়া সত্ত্বেও, প্রত্যাশা ছিল যে জেন-জি প্রজন্মের ভোটাররা আন্দোলনকারী নেতাদের হাত ধরে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে সমর্থন করবে। তবে, জামায়াতে ইসলামীর সাথে এই কমিটির মিত্রতা অনেক সমর্থককে হতাশ ও বিমুখ করেছে, যারা মূলত অতীতের রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি পরিচ্ছন্ন সূচনার আশা করেছিলেন।
বর্তমানে কিছু তরুণ ভোটার এই নির্বাচনকে পুরনো রাজনৈতিক অভিজাত গোষ্ঠী এবং ‘ছাত্র-ইসলামপন্থী’ ব্লকের মধ্যে একটি বাধ্যতামূলক পছন্দ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি সেই গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক অবস্থানকে ক্ষুণ্ণ করছে যা একসময় ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মোহভঙ্গ
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রতিও ক্রমবর্ধমান হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেক বাংলাদেশি তরুণদের অভিযোগ, মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণ এবং সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে সুরক্ষা দিতে এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
একইসাথে অর্থনৈতিক সংকট ও ক্ষোভ এখনো তীব্র। উচ্চ বেকারত্ব এবং সীমিত সুযোগ, যা ছিল গণঅভ্যুত্থানের প্রধান চালিকাশক্তি সেগুলোর কোনো অর্থবহ সমাধান না হওয়ায় হাসিনা-পরবর্তী এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমেছে।
ভোটাধিকার প্রয়োগে অবিচল উদ্দীপনা
মোহভঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও তরুণদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা এখনো বেশ চাঙ্গা। বিভিন্ন জরিপ থেকে জানা যায়, তরুণ ভোটারদের মাঝে ভোট দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। তবে তারা বর্তমানে প্রায় সমানভাবে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থনে বিভক্ত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, যার মধ্যে রয়েছে মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত গণভোট এই নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বহু বছরের সংকুচিত রাজনৈতিক পরিসরের পর, অনেকের কাছে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারাটাই একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সন্ধান
কিছু তরুণ নেতা সংস্কারের আশা ছাড়তে নারাজ। স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সক্রিয় কর্মীদের মতে, পরিবর্তন থমকে গেলেও এই গণঅভ্যুত্থান নতুন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরগুলোর জন্য পথ খুলে দিয়েছে, যদিও সেই অগ্রগতির গতি বেশ ধীর।
অনেক জেন-জি প্রজন্মের ভোটারের মতে, তাদের আশা ভঙ্গ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। বর্তমানে তারা হয়তো চেনা বা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর দিকেই ফিরে যাচ্ছে, কিন্তু একটি প্রকৃত নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর আকাঙ্ক্ষা এখনো তাদের মনে গভীরে বেঁচে আছে।
বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের এই নির্বাচন অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতির একটি মৌলিক দ্বিধাকে সবার সামনে এসেছে, তা হলো কাঠামোগত বদল ছাড়াই শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন। হাসিনার পতন রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করলেও তা থেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয়নি। ফলে তরুণ ভোটাররা এখন বাস্তববাদিতা এবং আদর্শের মাঝে আটকে পড়েছেন।
কিছু সময়ের জন্য, জেন-জি প্রজন্ম হয়তো পুরোনো দলগুলোকে ক্ষমতায় ফিরে আসতে সাহায্য করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিতে তাদের এই অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দেয় যে, কাঠামোগত সংস্কারের দাবি ফুরিয়ে যায়নি, কেবল স্থগিত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কি পরবর্তী কোনো বড় ধরনের সংঘাত ছাড়াই এই চাপ সামাল দিতে পারবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বুলগেরিয়া-ভিত্তিক বিশ্লেষণ ধর্মী ওয়েব সাইট মডার্ন ডিপ্লোম্যাসির বিশ্লেষণটি লেখাটি অনুবাদ করে প্রকাশিত
সানা খান মডার্ন ডিপ্লোম্যাসির বার্তা সম্পাদক। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং গবেষক সানা খান, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে লেখেলেখি করেন।

ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী, সংবাদকক্ষ এবং নীতি-নির্ধারণী মহলে একটি প্রশ্ন নিয়েই বেশ গুঞ্জন চলছে: চীন কি শেষ পর্যন্ত ইরানের রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসবে? আর যদি আসে, তবে সেই সহায়তার ধরণ কেমন হবে?

ইরানি বাহিনীর হাতের কাছেই বহু লক্ষ্যবস্তু আছে। এর মধ্যে রয়েছে–হরমুজ প্রণালী বা বৃহত্তর উপসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ। নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট