Advertisement Banner

যে সরকার আসে সাংবাদিকদের একটি অংশ সেই ছত্রছায়ায় দাপট দেখায়: সোহরাব হাসান

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
যে সরকার আসে সাংবাদিকদের একটি অংশ সেই ছত্রছায়ায় দাপট দেখায়: সোহরাব হাসান
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি’র আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

যখন যে সরকার আসে, সাংবাদিকদের একটি অংশ সরকার দলীয় ছত্রছায়ায় সেই দাপট দেখায় বলে অভিযোগ করেছে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও চরচা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান। তিনি বলেন, এই কারণে সাংবাদিকতার বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না।

গতকাল রোববার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি’র আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ সংকুচিত হয়ে পড়বে।

সোহরাব হাসান বলেন, ‘‘যখন যে সরকার আসে সাংবাদিকদের একটি অংশ সরকার দলীয় ছত্রছায়ায় দাপট দেখান। এটি সভ্য সাংবাদিকতার পরিবেশ নয়। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার বিকাশ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে বলে কিন্তু সরকার সবসময় দায়িত্বশীল আচরণ করে কি না, এ প্রশ্নও তোলা যায়।’’

সমষ্টি’র নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক খায়রুজ্জামান কামাল, দৈনিক যুগান্তরের সহকারী সম্পাদক শুচি সৈয়দ, স্বাধীন মিডিয়ার সম্পাদক শারমীন রিনভী, জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ পলি, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শাহনাজ শারমীন, বাংলা অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র রিপোর্টার ও প্রেসেঞ্জোর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রীতা ভৌমিক, ঢাকা মেইলের প্রধান প্রতিবেদক বোরহান উদ্দিন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি’র অ্যাডভোকেট নিগার সুলতানা, আয়কর বার্তার অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, সমষ্টির পরিচালক রেজাউল হক, কর্মসূচি সমন্বয়ক জাহিদুল হক খান প্রমুখ।

জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন, ‘‘২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর ৫ শ’র মতো সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দুই শতাধিক সাংবাদিকের নামে হত্যা মামলা হয়েছে। ওই ৫ আগস্ট বিকেল ৪টায় যে রিপোর্টার বঙ্গভবনের সামনে অফিস অ্যাসাইনমেন্টে (লাইভ) ছিলেন, তার নামেও হত্যা মামলা হয়েছে। গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত অসংখ্য সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিল ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকার যাতে এমন পরিস্থিতির উত্তরণে যথাযথ ভূমিকা রাখে সেই প্রত্যাশা করবো।’’

খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, সাংবাদিকরা নাগরিকদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। সাংবাদিকদের মানবাধিকার বজায় রাখতে সব মহলের ভূমিকা কাম্য।

শুচি সৈয়দ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়, তেমনই কারো কারো অপসাংবাদিকতার মানসিকতা ও সঠিক জ্ঞানচর্চার অভাবেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

সম্পর্কিত