চরচা ডেস্ক

নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া। ১৯৭০-এর দশকে দেশটির সরকার বন্দুকের মুখে কৃষকদের সমবায়ী গ্রামে যেতে বাধ্য করেছিল, ফলে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এরপর আশির দশকে ইউটোপিয়ান সমাজতন্ত্র থেকে সরে এলে তানজানিয়ার অর্থনীতিতে গতি আসে।
স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা তুলে দিয়ে বহুদলীয় নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয় (যদিও ক্ষমতাসীন ‘চামা চা মাপিন্দুজি’ বা বিপ্লবী দল কখনো হারেনি)। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নত অর্থনৈতিক নীতির ফলে এখন তানজানিয়ায় জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। ১৯৯৫ সালের পর মাথাপিছু আয় পাঁচ গুণ হয়েছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে বলছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের দমনমূলক শাসন তানজানিয়ার এই অর্জন ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, শাসনব্যবস্থায় দেশের সাত কোটি মানুষের মতামত দেওয়ার অধিকারকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না।
২০২১ সালে ক্ষমতায় এসে শুরুতে বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সামিয়া। সেই উদ্যোগ প্রশংসিতই হয়েছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলি স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিলেন, ভিন্নমতাবলম্বী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। কোভিড-১৯–এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা মাগুফুলি ওই কোভিডেই মারা যান বলে ধারণা করা হয়। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকা সামিয়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সামিয়া শুরুতে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিলেন। বিরোধী সমাবেশ ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর মাগুফুলির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এ ছাড়া সংবিধান সংস্কারেরও প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ধরে একই দলের শাসনে ক্লান্ত তরুণ জনগোষ্ঠী তার কাছে আরও উদার সমাজের প্রত্যাশা করেছিল।
কিন্তু পাঁচ বছর পর সেই আশা ভঙ্গ হয়েছে। স্বল্প সময়ের সহনশীলতার পর তিনি বিরোধী নেতা ও সমালোচনামুখর সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন জোরদার করেছেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা এখন একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত।
গত অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচনে তিনি ৯৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করেন। মূল বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া এবং তাদের জনপ্রিয় নেতা তুন্দু লিসুকে সাজানো রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্দী করার পর এমন ফল আসে। এরপর মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ওই ঘটনা তদন্তে প্রেসিডেন্ট সামিয়া একটি কমিশন গঠন করেন। গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংঘর্ষে ৫১৮ জন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়। তবে কী ঘটেছিল, তা বিকৃতভাবে তুলে ধরে দায় চাপানো হয় তথাকথিত ‘প্রশিক্ষিত উসকানিদাতা’দের ওপর, যাদের নাকি অজ্ঞাত ‘বহিরাগত শক্তি’ সহায়তা ও অর্থ জুগিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের ‘সংযমের’ প্রশংসাও করা হয়।
কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকেরা। প্রতিবেদন গ্রহণ করে দেওয়া ভাষণে সমালোচকদের কটাক্ষ করে সামিয়া বলেন, ‘দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক’ ঘটনার পর তিনি সমালোচনার বদলে সহমর্মিতা প্রত্যাশা করেছিলেন।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, তানজানিয়াজুড়ে একটা ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ গণহত্যার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আতঙ্ক বোধ করছে। বিরোধী নেতাদের অনেকে কারাগারে, গণমাধ্যমও কার্যত নিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও কার্যকর সহায়তার সম্ভাবনা কম।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তানজানিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার চীন, যারা গণতন্ত্রের প্রশ্নে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার মানবাধিকার নয়, বরং খনিজ ও জ্বালানি খাতে সুবিধাজনক চুক্তি আদায়ে তানজানিয়ার রাজনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগানো। নির্বাচনের পর ১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের সহায়তা স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যা সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করলেও তাদেরকে নীতির পরিবর্তনে বাধ্য করার মতো যথেষ্ট নয়।
লজ্জাজনক প্রহসন
বিতর্কিত নির্বাচন ও পরবর্তী রক্তপাতের দায় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট সামিয়ার ওপরই বর্তায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি, ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও অনেকে এটিকে অবাস্তব বলে মনে করছেন। দলটির ভেতরে এমন আলোচনাও আছে–সামিয়ার জনপ্রিয়তা এতটাই কমেছে যে তাকে সরানো না হলে আরও বড় অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে। তবে তাকে অভিশংসন করাও সহজ নয়।
দেশটিতে অদূর ভবিষ্যতে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ১৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করা উচিত প্রেসিডেন্ট সামিয়ার। বিরোধী নেতা তুন্দু লিসুকে মুক্তি দেওয়া, তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ, নির্বাচন নিয়ে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্ষুব্ধ জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন—এসব পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি। এসব পদক্ষেপই পারে ধ্বংসের পথ থেকে তানজানিয়াকে বাঁচাতে।

নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া। ১৯৭০-এর দশকে দেশটির সরকার বন্দুকের মুখে কৃষকদের সমবায়ী গ্রামে যেতে বাধ্য করেছিল, ফলে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এরপর আশির দশকে ইউটোপিয়ান সমাজতন্ত্র থেকে সরে এলে তানজানিয়ার অর্থনীতিতে গতি আসে।
স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা তুলে দিয়ে বহুদলীয় নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয় (যদিও ক্ষমতাসীন ‘চামা চা মাপিন্দুজি’ বা বিপ্লবী দল কখনো হারেনি)। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নত অর্থনৈতিক নীতির ফলে এখন তানজানিয়ায় জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। ১৯৯৫ সালের পর মাথাপিছু আয় পাঁচ গুণ হয়েছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে বলছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের দমনমূলক শাসন তানজানিয়ার এই অর্জন ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, শাসনব্যবস্থায় দেশের সাত কোটি মানুষের মতামত দেওয়ার অধিকারকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না।
২০২১ সালে ক্ষমতায় এসে শুরুতে বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সামিয়া। সেই উদ্যোগ প্রশংসিতই হয়েছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলি স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিলেন, ভিন্নমতাবলম্বী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। কোভিড-১৯–এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা মাগুফুলি ওই কোভিডেই মারা যান বলে ধারণা করা হয়। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকা সামিয়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সামিয়া শুরুতে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিলেন। বিরোধী সমাবেশ ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর মাগুফুলির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এ ছাড়া সংবিধান সংস্কারেরও প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ধরে একই দলের শাসনে ক্লান্ত তরুণ জনগোষ্ঠী তার কাছে আরও উদার সমাজের প্রত্যাশা করেছিল।
কিন্তু পাঁচ বছর পর সেই আশা ভঙ্গ হয়েছে। স্বল্প সময়ের সহনশীলতার পর তিনি বিরোধী নেতা ও সমালোচনামুখর সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন জোরদার করেছেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা এখন একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত।
গত অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচনে তিনি ৯৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করেন। মূল বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া এবং তাদের জনপ্রিয় নেতা তুন্দু লিসুকে সাজানো রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্দী করার পর এমন ফল আসে। এরপর মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ওই ঘটনা তদন্তে প্রেসিডেন্ট সামিয়া একটি কমিশন গঠন করেন। গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংঘর্ষে ৫১৮ জন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়। তবে কী ঘটেছিল, তা বিকৃতভাবে তুলে ধরে দায় চাপানো হয় তথাকথিত ‘প্রশিক্ষিত উসকানিদাতা’দের ওপর, যাদের নাকি অজ্ঞাত ‘বহিরাগত শক্তি’ সহায়তা ও অর্থ জুগিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের ‘সংযমের’ প্রশংসাও করা হয়।
কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকেরা। প্রতিবেদন গ্রহণ করে দেওয়া ভাষণে সমালোচকদের কটাক্ষ করে সামিয়া বলেন, ‘দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক’ ঘটনার পর তিনি সমালোচনার বদলে সহমর্মিতা প্রত্যাশা করেছিলেন।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, তানজানিয়াজুড়ে একটা ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ গণহত্যার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আতঙ্ক বোধ করছে। বিরোধী নেতাদের অনেকে কারাগারে, গণমাধ্যমও কার্যত নিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও কার্যকর সহায়তার সম্ভাবনা কম।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তানজানিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার চীন, যারা গণতন্ত্রের প্রশ্নে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার মানবাধিকার নয়, বরং খনিজ ও জ্বালানি খাতে সুবিধাজনক চুক্তি আদায়ে তানজানিয়ার রাজনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগানো। নির্বাচনের পর ১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের সহায়তা স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যা সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করলেও তাদেরকে নীতির পরিবর্তনে বাধ্য করার মতো যথেষ্ট নয়।
লজ্জাজনক প্রহসন
বিতর্কিত নির্বাচন ও পরবর্তী রক্তপাতের দায় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট সামিয়ার ওপরই বর্তায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি, ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও অনেকে এটিকে অবাস্তব বলে মনে করছেন। দলটির ভেতরে এমন আলোচনাও আছে–সামিয়ার জনপ্রিয়তা এতটাই কমেছে যে তাকে সরানো না হলে আরও বড় অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে। তবে তাকে অভিশংসন করাও সহজ নয়।
দেশটিতে অদূর ভবিষ্যতে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ১৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করা উচিত প্রেসিডেন্ট সামিয়ার। বিরোধী নেতা তুন্দু লিসুকে মুক্তি দেওয়া, তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ, নির্বাচন নিয়ে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্ষুব্ধ জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন—এসব পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি। এসব পদক্ষেপই পারে ধ্বংসের পথ থেকে তানজানিয়াকে বাঁচাতে।

নিকো ল্যাঞ্জের মতে, ইরান যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রাগার কমে যাওয়া ইউরোপের জন্য বড় দ্বিধা তৈরি করেছে। কারণ ইউরোপের পুনরস্ত্রীকরণ এখনও ধীর গতির এবং তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সাম্প্রতিক আলোচনায় দ্য ডেইলি স্টারের পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ যে মন্তব্য করেছেন ‘‘গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে’’, তা নিছক হতাশার বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং একটি গভীর কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন। এই সংকট কেবল সাংবাদিকতার নয়, গণতন্ত্রেরও। কারণ, বিশ্বাস