Advertisement Banner

ফ্লোরিডায় নিহত লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ফ্লোরিডায় নিহত লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
নিহত শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন। ছবি: ফেসবুক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে এসেছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তার মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।

গতকাল রোববার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘‘জামিল লিমনের মরদেহ এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ফ্লোরিডার অরল‍্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমান দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল সেহেলি সাবরিন। তিনি পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন। মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে ৪ মে, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে।’’

এদিকে, একই ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ গতকাল উদ্ধার করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে গোলাম মোর্তোজা আরও লিখেছেন, ‘‘নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ৬ মে দুপুর ২টায় টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ামি কনস‍্যুলেটের মাধ‍্যমে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।’’

লিমন ও বৃষ্টি উভয়েই ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় তার বাসার বাইরে, যেখানে তিনি অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিহ (২৬) এবং আরেক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।

তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের অবস্থান ও লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকারী প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তির গাড়ি এবং লিমনের ফোনের গতিপথ অনুসরণ করে ২৪ এপ্রিল একটি সেতুর কাছে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রসিকিউটরদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে ২৬ এপ্রিল কাছাকাছি একটি জলপথ থেকে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এখন বৃষ্টির বলে নিশ্চিত হয়েছে।

ঘটনার কয়েক দিন পর অভিযুক্তকে তার মা-বাবার বাড়ি থেকে একটি সোয়াট টিম গ্রেপ্তার করে। আদালত তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। টাম্পায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত শুনানিতে হিলসবরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাক্ষী বা ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ প্রথম ডিগ্রির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন, যদিও প্রসিকিউটররা এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। তারা আলোচনার মাধ্যমে শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করবেন।

সম্পর্কিত